তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি • তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি : বিশ্ব ও বাংলাদেশ প্রেক্ষিত
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রশ্ন
বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে নবীন সৈনিকদের কম্পিউটারে তৈরি কৃত্রিম যুদ্ধক্ষেত্রে অস্ত্র চালনার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়, যা দিনরাত চালু রাখা যায়। অন্যদিকে মেজর সাকিব নিজের অফিসে বসে স্যাটেলাইটের মাধ্যমে সীমান্ত এলাকার সরাসরি দৃশ্য দেখেন এবং সেনাদের নির্দেশনা দেন। দুর্গম এলাকায় নজরদারির জন্য তিনি একটি মনুষ্যবিহীন আকাশযানও ব্যবহার করেন।
- ক)(1)
UAV-এর পূর্ণরূপ কী?
- খ)(2)
স্মার্ট বোমা বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে সৈনিকদের প্রশিক্ষণে যে প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়েছে, প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে তার সুবিধাগুলো ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
মেজর সাকিবের কার্যক্রমে আধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় আইসিটির প্রভাব কীভাবে ফুটে উঠেছে? বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর UAV-এর পূর্ণরূপ Unmanned Aerial Vehicle। এটি মনুষ্যবিহীন এয়ারক্রাফট বা ড্রোন নামেও পরিচিত।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর একসময় বোমার কোনো নিজস্ব বুদ্ধিমত্তা ছিল না, তাকে যেখানে নিক্ষেপ করা হতো সেখানেই আঘাত করত। আইসিটির সহায়তায় এখন এমন বোমা তৈরি করা সম্ভব হয়েছে যা নির্দেশ শুনে নির্দিষ্ট স্থানে গিয়ে আঘাত করতে পারে। এই বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন ও নির্দেশনা অনুযায়ী লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম বোমাকে স্মার্ট বোমা বলে। এতে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত নিখুঁত হয় এবং অপ্রয়োজনীয় ক্ষয়ক্ষতি কমে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে সৈনিকদের প্রশিক্ষণে সিম্যুলেশন ও ভার্চুয়াল রিয়েলিটি পরিবেশ ব্যবহৃত হয়েছে। প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে এর সুবিধাগুলো নিম্নরূপ।
১. নিরাপদ: কৃত্রিম যুদ্ধক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ নেওয়ায় সৈনিকদের প্রাণহানি বা আহত হওয়ার ঝুঁকি থাকে না।
২. অর্থ সাশ্রয়ী: প্রকৃত গোলাবারুদ, যানবাহন ও বিশাল প্রশিক্ষণ মাঠের ব্যয় কমে যায়।
৩. সার্বক্ষণিক: এই ব্যবস্থা ২৪ ঘণ্টা চালু রাখা সম্ভব, তাই আবহাওয়া বা সময়ের বাধা ছাড়াই বারবার অনুশীলন করা যায়।
অতএব নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও সার্বক্ষণিক প্রশিক্ষণের জন্য সিম্যুলেশন ও ভার্চুয়াল রিয়েলিটি প্রতিরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর মেজর সাকিব অফিসে বসে সীমান্তের পরিস্থিতি দেখে নির্দেশনা দিচ্ছেন এবং ড্রোন দিয়ে নজরদারি করছেন। এতে প্রতিরক্ষা শিল্পে আইসিটির বেশ কয়েকটি প্রভাব প্রকাশ পেয়েছে।
১. নেটওয়ার্কভিত্তিক যুদ্ধ পরিচালনা: মানুষকেন্দ্রিক যুদ্ধক্ষেত্র ব্যবস্থাপনার বদলে কমান্ডার অফিসে থেকেই যুদ্ধের সার্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে পারেন। সাকিবের অফিসে বসে নির্দেশনা দেওয়া এর উদাহরণ।
২. স্যাটেলাইট যোগাযোগ: স্যাটেলাইটের মাধ্যমে দূর থেকে যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতি সরাসরি সম্প্রচার, পর্যবেক্ষণ ও কমান্ডিং সম্ভব হয়। সাকিব সীমান্তের সরাসরি দৃশ্য দেখছেন।
৩. ড্রোনের ব্যবহার: ড্রোন দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় গোপনে নজরদারি বা আঘাত হানতে ব্যবহৃত হয়, ফলে সৈনিকের জীবন ঝুঁকিতে পড়ে না।
এভাবে আইসিটি যুদ্ধকে হার্ডওয়্যারনির্ভর ও মানবনির্ভর অবস্থা থেকে সফটওয়্যার ও নেটওয়ার্কনির্ভর করে তুলেছে। ফলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ দ্রুততর, নজরদারি নিখুঁত এবং সৈনিকদের ঝুঁকি কম হয়েছে। সুতরাং আধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দক্ষতা ও নিরাপত্তা বৃদ্ধিতে আইসিটির প্রভাব অপরিসীম।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও