জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • মানব শারীরতত্ত্ব: সমন্বয় ও নিয়ন্ত্রণ

জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

তানিম ক্লাস সিক্সের ছাত্র। হঠাৎ প্রচণ্ড জ্বর, মাথাব্যথা ও ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়ায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলো। সে আলোর দিকে তাকাতে পারছিল না এবং বারবার বমি করছিল। চিকিৎসক বললেন, তার মস্তিষ্ক ও সুষুম্নাকাণ্ডকে ঘিরে থাকা তিন স্তরের আবরণে সংক্রমণজনিত প্রদাহ হয়েছে। রোগের কারণ নির্ণয়ের জন্য তিনি তানিমের মস্তিষ্ক ও সুষুম্নাকাণ্ডের চারপাশের এক ধরনের স্বচ্ছ তরল পরীক্ষা করালেন।

  1. ক)

    মেনিনজেস কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    সেরিব্রোস্পাইনাল ফ্লুইডকে মস্তিষ্কের ওজন হ্রাসকারী বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে তানিমের যে রোগটির কথা বলা হয়েছে তার কারণ ও লক্ষণগুলো ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    তানিমের আক্রান্ত আবরণটির স্তরগুলোর গঠন বিশ্লেষণ করে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের জন্য এর গুরুত্ব মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর মস্তিষ্ক ও সুষুম্নাকাণ্ডকে ঘিরে থাকা দৃঢ় ও মজবুত তিনটি তন্তুময় ঝিল্লির আবরণকে মেনিনজেস বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর মস্তিষ্কের প্রকৃত ওজন প্রায় ১৫০০ গ্রাম। মস্তিষ্ক সেরিব্রোস্পাইনাল ফ্লুইডের মধ্যে ভাসমান অবস্থায় থাকে। তরলের প্লবতার কারণে মস্তিষ্কের কার্যকর ওজন কমে প্রায় ৫০ গ্রামে নেমে আসে। ফলে মস্তিষ্ক নিজের ভারে চাপ খায় না এবং আঘাত থেকেও সুরক্ষিত থাকে। এ কারণেই এই ফ্লুইডকে মস্তিষ্কের ওজন হ্রাসকারী বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে বর্ণিত রোগটি হলো মেনিনজাইটিস, অর্থাৎ বিভিন্ন কারণে মেনিনজেসে প্রদাহ সৃষ্টি হওয়া।

    কারণ: অসংক্রামক উপাদান, যেমন আঘাত, ক্যান্সার, নির্দিষ্ট ওষুধ, এক্স-রে বা মস্তিষ্কের টিউমার থেকে এবং সংক্রমণ, যেমন ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া (যেমন Neisseria meningitidis), ছত্রাক, প্রোটিস্টা ও পরজীবী জীবাণু থেকে এ রোগ হতে পারে।

    লক্ষণ: হঠাৎ জ্বর, মাথাব্যথা, শক্ত ঘাড়। এর সাথে প্রায়ই বমি বমি ভাব, বমি, ফটোফোবিয়া (চোখ আলোর প্রতি বেশি সংবেদনশীল হওয়া) এবং মানসিক বিভ্রান্তি দেখা দেয়। শিশুদের ক্ষেত্রে ফন্টানেল ফুলে যেতে পারে। উদ্দীপকে তানিমের জ্বর, মাথাব্যথা, শক্ত ঘাড়, আলোতে অস্বস্তি ও বমি এই লক্ষণগুলোর সাথে মিলে যায়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর আক্রান্ত আবরণটি হলো মেনিনজেস, যা তিনটি স্তর নিয়ে গঠিত:

    ১. ড্যুরা ম্যাটার: এটি বাইরের স্তর, করোটিকার সাথে ঘনিষ্ঠভাবে লেগে থাকে। এতে শিরা ও সাইনাস থাকে। মস্তিষ্কে এটি দ্বিস্তরী, কিন্তু সুষুম্নাকাণ্ডে একস্তরী। এর বাইরের ও ভেতরের ফাঁকা স্থানকে যথাক্রমে এপিডিউরাল ও সাবড্যুরাল স্পেস বলে।
    ২. অ্যারাকনয়েড ম্যাটার: এটি মধ্যবর্তী স্তর। এতে তরলপূর্ণ সাব-অ্যারাকনয়েড স্পেস থাকে, যার কিছু অংশ প্রসারিত হয়ে সিস্টারনি গঠন করে। কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের রক্তনালিগুলো এই স্পেসের মধ্যে বিস্তৃত থাকে।
    ৩. পায়া ম্যাটার: এটি ভেতরের স্তর, মস্তিষ্ক ও সুষুম্নাকাণ্ডের বহিস্তলে ঘনিষ্ঠভাবে লেগে থাকে।

    গুরুত্ব: মেনিনজেস কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রকে যান্ত্রিক আঘাত থেকে রক্ষা করে, পুষ্টিপদার্থ সরবরাহ করে, সেরিব্রোস্পাইনাল ফ্লুইড ক্ষরণ করে এবং জীবাণুর সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা দেয়। মেনিনজেস আক্রান্ত হলে এসব সুরক্ষা ও সরবরাহ ব্যাহত হয় এবং মস্তিষ্কের ক্ষতি, শ্রবণশক্তি হ্রাস ও শেখার অক্ষমতার মতো স্থায়ী সমস্যা হতে পারে। তাই মেনিনজেস কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের সুস্থতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এর প্রদাহে দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও