বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় • অর্থনৈতিক নির্দেশকসমূহ ও বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রকৃতি

বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় প্রশ্ন

নওগাঁর একটি গ্রামের রহিম একজন দিনমজুর। বছরে তিন-চার মাসের বেশি কাজ পায় না, মজুরিও কম। তার ছেলে কলেজ পাস করেও চাকরি পাচ্ছে না। আয় কম বলে রহিমের পরিবারে কোনো সঞ্চয় নেই। গ্রামে নতুন কোনো কারখানাও গড়ে ওঠেনি। এলাকার ২২% মানুষ নিরক্ষর এবং অনেক তরুণ প্রশিক্ষণের অভাবে দক্ষ হতে পারছে না। জনসংখ্যা বাড়ছে, অথচ কাজের সুযোগ বাড়ছে না।

  1. ক)

    বেকারত্ব কী?

    (1)
  2. খ)

    রহিমকে অর্ধবেকার বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে রহিমের পরিবারের অবস্থায় বাংলাদেশের অর্থনীতির কোন বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছে? চক্রটি ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    'বাংলাদেশে জনসংখ্যা এখনও সম্পদ নয়, সমস্যা'— উদ্দীপক ও পাঠ্যবইয়ের আলোকে উক্তিটি বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর বেকারত্ব হলো এমন একটি অবস্থা, যেখানে একজন বয়স্ক ব্যক্তির কাজ করার যোগ্যতা ও ইচ্ছা আছে, কিন্তু কাজের সুযোগ নেই।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর অর্ধবেকারত্ব হলো এমন অবস্থা, যেখানে একজন ব্যক্তি তার দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও শিক্ষার তুলনায় কম কাজ পান, কম মজুরিতে কাজ করেন অথবা পূর্ণ সময় কাজ করতে না পেরে কম সময় কাজ করতে বাধ্য হন। রহিম বছরে মাত্র তিন-চার মাস কাজ পায় এবং তার মজুরিও কম। কাজ করার সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও সে পূর্ণ সময় নিয়োজিত থাকতে পারে না। তাই তাকে অর্ধবেকার বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে বাংলাদেশের অর্থনীতির সঞ্চয়, মূলধন গঠন ও বিনিয়োগের নিম্নহার এবং দারিদ্র্যের চক্র বৈশিষ্ট্যটি ফুটে উঠেছে।

    চক্রটি এরূপ: রহিমের মতো মানুষের কাজ কম ও মজুরি কম। ফলে আয় তথা মাথাপিছু আয় কম। আয় কম বলে সঞ্চয়ের হারও কম। সঞ্চয় কম হলে মূলধন গঠন কম হয় এবং উৎপাদনের জন্য বিনিয়োগ কম হয়। বিনিয়োগ কম বলে নতুন শিল্প স্থাপনের গতি মন্থর হয়, যেমন উদ্দীপকের গ্রামে নতুন কারখানা হয়নি। নতুন শিল্প না হলে কর্মসংস্থান বাড়ে না, ফলে বেকারত্ব বাড়ে এবং আয় আবার কম থাকে। এভাবে অর্থনীতি একটি দারিদ্র্যের চক্রের মধ্যে আবদ্ধ হয়ে পড়ে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর জনসংখ্যা তখনই সম্পদ, যখন শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও সুস্বাস্থ্যের মাধ্যমে তাদের দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করা যায়। বাংলাদেশে এখনও তা পুরোপুরি সম্ভব হয়নি।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, গ্রামের ২২% মানুষ নিরক্ষর। দেশেও সাক্ষরতার হার ৭৭.৯%, অর্থাৎ ২২.১% নিরক্ষর। রহিমের ছেলে শিক্ষিত হয়েও কর্মসংস্থান পাচ্ছে না, আর অনেক তরুণ প্রশিক্ষণের অভাবে দক্ষ হতে পারছে না। জনসংখ্যা বাড়লেও দ্রুত শিল্পায়ন না হওয়ায় বেকারত্ব ও অর্ধবেকারত্ব বাড়ছে। এই বিপুল জনসংখ্যার শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, স্বাস্থ্য, মূলধনের জোগান ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা রাষ্ট্রের ওপর বড়ো চাপ সৃষ্টি করছে। জনবসতির ঘনত্ব ও জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারও প্রতিবেশী দেশগুলোর চেয়ে বেশি। তাছাড়া বেকারত্বের কারণে অনেকে পুষ্টিহীনতার শিকার হয়, ফলে মানবসম্পদে রূপান্তর আরও বাধাগ্রস্ত হয়।

    তবে সঠিক পরিকল্পনা নিলে এই জনসংখ্যাই সম্পদ হতে পারে। সবাইকে সাক্ষর করা, কারিগরি ও বিজ্ঞান শিক্ষা বিস্তার, প্রশিক্ষণ, স্বাস্থ্যসেবা, মূলধন ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা গেলে এই বিপুল শ্রমশক্তি উৎপাদনে অবদান রাখবে এবং প্রাকৃতিক সম্পদের পূর্ণ ব্যবহারও সম্ভব হবে।

    অতএব বর্তমান বাস্তবতায় বাংলাদেশে জনসংখ্যা সমস্যা হলেও দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে একে সম্পদে পরিণত করা সম্ভব। উক্তিটি বর্তমান অবস্থার বিবেচনায় যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও