সহপাঠ • বহিপীর
সহপাঠ প্রশ্ন
নবম শ্রেণির ছাত্রী নাদিয়ার বাবা তার অমতে এক পরিচিত বয়স্ক লোকের সঙ্গে বিয়ের ব্যবস্থা করেন। নাদিয়া সহপাঠী রাফির সাহায্যে একরাতে বাড়ি ছেড়ে চলে যায়। প্রথমে বাবা রেগে গিয়ে খোঁজাখুঁজি করলেও পরে তিনি বুঝতে পারেন, জোর করে মেয়ের জীবন নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। বিষয়টি তিনি মেনে নেন।
- ক)(1)
নাটকের শেষে কে তাহেরাকে হাত ধরে নিয়ে তীরে উঠে যায়?
- খ)(2)
‘আমরা থাকিব; আপনার জমিদারিও থাকিবে’—বহিপীরের এই উক্তির তাৎপর্য বুঝিয়ে লেখো।
- গ)(3)
নাদিয়ার বাবার প্রতিক্রিয়ার সঙ্গে হাশেম-তাহেরার চলে যাওয়ার পর বহিপীরের প্রতিক্রিয়ার বৈসাদৃশ্য কী? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
‘নাটকের পরিসমাপ্তিতে নতুন জীবনের পথ ও পুরোনো দুনিয়ার দ্বন্দ্ব স্পষ্ট হয়েছে।’—উদ্দীপক ও ‘বইপীর’ নাটকের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর নাটকের শেষে হাশেম তাহেরাকে হাত ধরে নিয়ে তীরে উঠে যায়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর হাশেম ও তাহেরা চলে যাওয়ার পর খোদেজা অস্থির হলে বহিপীর একথা বলেন। তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে, তরুণরা নতুন পথে চলে গেলেও পুরোনো প্রজন্মের জীবন ও জমিদারির কাঠামো আগের মতোই টিকে থাকবে। অর্থাৎ বদলের ঝড় থামার পর তাঁরা তাঁদের পুরোনো দুনিয়ার মধ্যে সুখে-স্বচ্ছন্দে বাকি দিন কাটাবেন। কথাটিতে বহিপীরের শান্ত, বাস্তবজ্ঞানসম্পন্ন মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর নাদিয়ার বাবার প্রতিক্রিয়ার সঙ্গে বহিপীরের প্রতিক্রিয়ার বৈসাদৃশ্য হলো বাধা দেওয়া ও মেনে নেওয়ার ধরনে। উদ্দীপকে নাদিয়া চলে যাওয়ার পর বাবা প্রথমে রাগ করে খোঁজাখুঁজি করেন, পরে ভুল বুঝে বিষয়টি মেনে নেন। নাটকে হাশেম তাহেরাকে নিয়ে চলে গেলে হাতেম আলি তাদের থামাতে ছুটে যান। তখন বহিপীর তাঁর হাত ধরে ফেলে ধৈর্য ধরতে বলেন এবং কোনো বাধা দেন না। তিনি দীর্ঘনিঃশ্বাস ছেড়ে শান্তভাবে বলেন, ‘তাহারা তাহাদের নতুন জীবনের পথে যাইতেছে। আমরা কী করিয়া তাহাদের ঠেকাই। আজ নয় কাল, যাইবেই।’ অর্থাৎ নাদিয়ার বাবা রাগ ও খোঁজাখুঁজির পর মেনে নিয়েছেন, আর বহিপীর শুরুতেই সংযত থেকে ঘটনাকে অনিবার্য বলে গ্রহণ করেছেন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর নাটকের শেষ দৃশ্যে পুরোনো সংস্কার ও নতুন জীবনবোধের মধ্যকার দ্বন্দ্ব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ১. নতুন জীবনের পথ: উদ্দীপকে নাদিয়া অমতের বিয়ে অস্বীকার করে রাফির সহায়তায় নতুন পথে এগিয়েছে। নাটকে হাশেমও তাহেরাকে বলে, ‘আপনাকে বাঁচাব’ এবং হাত ধরে তীরে উঠে যায়। বহিপীরও বলেন, ‘তাহারা তাহাদের নতুন জীবনের পথে যাইতেছে।’ ২. পুরোনো দুনিয়া: খোদেজা ভয়ে ও আবেগে অস্থির হন, বহিপীরের বদদোয়ার কথা ভাবেন, আবার ক্রুদ্ধ হয়ে ওঠেন। বহিপীর বলেন, ‘আমরা আমাদের পুরাতন দুনিয়ার মধ্যে সুখে-স্বচ্ছন্দে বাকি দিন কাটাইয়া দিব।’ উদ্দীপকের বাবার মতো প্রথমে বাধা দেওয়ার মানসিকতাও এই পুরোনো দুনিয়ার অংশ। ৩. মীমাংসা: হাতেম আলি অর্থ নিতে অস্বীকার করে নতুন জীবনের স্বাদ পেয়েছেন, বহিপীর শর্তহীন সাহায্য করেছেন। তবে পুরোনো প্রতিষ্ঠান ঠিকই টিকে থাকবে। সুতরাং নতুন প্রজন্মের মুক্তির আকাঙ্ক্ষা ও পুরোনো সমাজের টিকে থাকার দ্বন্দ্বে নাটকের সমাপ্তি অর্থপূর্ণ হয়েছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও