বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় • পূর্ববাংলার আন্দোলন ও জাতীয়তাবাদের উত্থান

বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় প্রশ্ন

মধুপুর উপজেলা সমবায় পরিষদের নির্বাচনে ক্ষমতাসীন ‘প্রগতি সমিতি’ দীর্ঘদিন নির্বাচন না দিয়ে টালবাহানা করছিল। এর বিপরীতে পাঁচটি সমিতি মিলে ‘ঐক্য পরিষদ’ গঠন করে। তাদের ইশতেহারে ছিল মাতৃভাষায় শিক্ষাদান, ভাষা আন্দোলনের শহিদদের স্মরণে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ, বিনা ক্ষতিপূরণে মধ্যস্বত্ব উচ্ছেদ এবং দুর্নীতি নির্মূল। নির্বাচনের ফলাফল নিচে দেওয়া হলো:

পক্ষপ্রাপ্ত আসন
ঐক্য পরিষদ২২৩
প্রগতি সমিতি৯
অন্যান্য৫
মোট আসন২৩৭
  1. ক)

    যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক কী ছিল?

    (1)
  2. খ)

    ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট গঠনের প্রয়োজন হয়েছিল কেন? ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের তথ্য অনুযায়ী ঐক্য পরিষদ, প্রগতি সমিতি ও অন্যান্যরা মোট আসনের কত শতাংশ করে পেয়েছে নির্ণয় কর (দুই দশমিক স্থান পর্যন্ত)। এ ফলাফল ১৯৫৪ সালের কোন নির্বাচনের ফলাফলকে মনে করিয়ে দেয় এবং সেই নির্বাচনে কারা কত আসন পেয়েছিল?

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের ঐক্য পরিষদের ইশতেহারের বিষয়গুলো যুক্তফ্রন্টের ২১ দফার কোন কোন দফার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ? এই দফাগুলো ভাষা আন্দোলনের চেতনাকে কীভাবে ধারণ করে বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক ছিল নৌকা।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর শাসক দল মুসলিম লীগ দীর্ঘদিন নির্বাচনের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক সরকার গঠনের কোনো উদ্যোগ নেয়নি। প্রাদেশিক সরকার নিয়ে তাদের টালবাহানাও জনগণের কাছে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তাই পূর্ববাংলার প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে মুসলিম লীগকে শোচনীয়ভাবে পরাজিত করার লক্ষ্যে ১৯৫৩ সালের ১৪ই নভেম্বর বিরোধী পাঁচটি দল মিলে যুক্তফ্রন্ট গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর মোট আসন = ২৩৭

    ঐক্য পরিষদ: 223237×100=94.09%\frac{223}{237}\times 100 = 94.09\% (প্রায়)
    প্রগতি সমিতি: 9237×100=3.80%\frac{9}{237}\times 100 = 3.80\% (প্রায়)
    অন্যান্য: 5237×100=2.11%\frac{5}{237}\times 100 = 2.11\% (প্রায়)
    (যোগফল: 94.09+3.80+2.11=100%94.09 + 3.80 + 2.11 = 100\%)

    এ ফলাফল ১৯৫৪ সালের মার্চে অনুষ্ঠিত পূর্ববাংলার প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনের ফলাফলকে মনে করিয়ে দেয়। ওই নির্বাচনে ২৩৭টি মুসলিম আসনের মধ্যে যুক্তফ্রন্ট ২২৩টি এবং মুসলিম লীগ মাত্র ৯টি আসন পায়; বাকি ৫টি আসন অন্যরা লাভ করে। উদ্দীপকের ঐক্য পরিষদ যুক্তফ্রন্টের এবং প্রগতি সমিতি মুসলিম লীগের অনুরূপ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের ইশতেহারের চারটি বিষয় যুক্তফ্রন্টের ২১ দফার সঙ্গে নিম্নরূপ সংগতিপূর্ণ:

    ১. মাতৃভাষায় শিক্ষাদান: ২১ দফার ১০ নম্বর দফায় কেবল মাতৃভাষায় শিক্ষাদানের ব্যবস্থা করার কথা আছে।
    ২. শহিদদের স্মরণে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ: ১৭ নম্বর দফায় ভাষা শহিদদের স্মরণে শহিদ মিনার নির্মাণের অঙ্গীকার ছিল।
    ৩. মধ্যস্বত্ব উচ্ছেদ: ২ নম্বর দফায় বিনা ক্ষতিপূরণে জমিদারি প্রথা উচ্ছেদ ও সকল প্রকার মধ্যস্বত্ব বাতিলের কথা ছিল।
    ৪. দুর্নীতি নির্মূল: ১৩ নম্বর দফায় সকল প্রকার দুর্নীতি নির্মূলের প্রতিশ্রুতি ছিল।

    ভাষা আন্দোলনের চেতনার ধারণ: ২১ দফার প্রথম দফায় বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার কথা ছিল। ১০ নম্বর দফায় মাতৃভাষায় শিক্ষা, ১৭ নম্বর দফায় শহিদ মিনার নির্মাণ এবং ১৮ নম্বর দফায় একুশে ফেব্রুয়ারিকে শহিদ দিবস ও সরকারি ছুটির দিন ঘোষণার অঙ্গীকার ছিল। এগুলো ১৯৫২ সালের আত্মত্যাগের স্বীকৃতি। ১৬ নম্বর দফায় বর্ধমান হাউসকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের গবেষণাগার করার কথাও ছিল।

    এ কারণেই জনগণ ২১ দফাকে নিজেদের স্বার্থরক্ষার সনদ বলে বিবেচনা করে যুক্তফ্রন্টকে ২২৩টি আসনে জয়ী করে। এই নির্বাচন প্রমাণ করে যে জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস এবং ভাষা আন্দোলনের চেতনা তখন রাজনীতির মূল ধারায় পরিণত হয়েছিল। উদ্দীপকের ঐক্য পরিষদের বিপুল জয়ও একই কারণে জনগণের ইশতেহার-সমর্থনের প্রতিফলন।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও