সাহিত্য পাঠ • সৌদামিনী মালো

সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন

স্বামীহারা হাসিনা বেগমের বাড়ি ও ফলের বাগান আছে। প্রতিবেশী যে কোনো বিপদে তিনি টাকা, ওষুধ ও খাবার দিয়ে সাহায্য করেন। এ কারণে গ্রামের গরিব মানুষ তাঁকে আপন মায়ের মতো শ্রদ্ধা করে। একরাতে এলাকার এক দুষ্ট প্রকৃতির লোক তাঁর বাগান নষ্ট করে ভয় দেখানোর চেষ্টা করলে হাসিনা বেগম নির্ভয়ে সামনে এসে দাঁড়ান। তাঁর বর্গাচাষিরা রাত জেগে বাড়ি পাহারা দিতে শুরু করে।

  1. ক)

    জগদীশ মালোকে কমিশনার সাহেব বখশিস হিসেবে কী দিয়েছিলেন?

    (1)
  2. খ)

    মনোরঞ্জন মালো সোদামিনীর বিরুদ্ধে রাত্রে বন্দুক ছুড়েও ব্যর্থ হলো কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    সোদামিনীর চাষিরা ‘মায়ের অন্নে প্রতিপালিত, মার তো অপমান হতে দিতে পারি না’ বলত কেন? উদ্দীপকের আলোকে ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    “উদ্দীপকের হাসিনা বেগমের মধ্যে সোদামিনী চরিত্রের সবটুকু প্রতিফলিত হয়নি।”—‘সোদামিনী মালো’ গল্পের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর জগদীশ মালোকে কমিশনার সাহেব বখশিস হিসেবে নিজের একটি বন্দুক দিয়েছিলেন।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর মনোরঞ্জন সোদামিনীকে ভয় দেখিয়ে সম্পত্তি দখলের জন্য রাত্রে বন্দুক ছুড়ত। কিন্তু সোদামিনীর কাছেও কমিশনারের দেওয়া বন্দুকটি ছিল এবং তার তাকও ছিল আশ্চর্য রকমের নিখুঁত। তা ছাড়া সোদামিনী নিজে ছিল তেজস্বী এবং তার কয়েকজন অনুগত চাষি তাকে মায়ের মতো মানত। এই কারণে মনোরঞ্জনের ভয় দেখানোর কৌশল সফল হয়নি।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর সোদামিনীর জমিতে কাজ করে চাষিদের সংসার চলত, তাই তারা তাকে মায়ের মতো শ্রদ্ধা করত। এ ছাড়া সোদামিনীর অন্তর ছিল দরদি; বিপদে-আপদে সে বহু মানুষকে সাহায্য করত। এই ঋণ ও কৃতজ্ঞতার কারণেই চাষিরা মনে করত, তার অপমান মানে তাদেরই অপমান। উদ্দীপকের হাসিনা বেগমও গরিব মানুষকে টাকা, ওষুধ ও খাবার দিয়ে সাহায্য করেন বলে গ্রামের মানুষ তাঁকে মায়ের মতো সম্মান করে। তাই বিপদের সময় তাঁর বর্গাচাষিরা রাত জেগে বাড়ি পাহারা দেয়। সোদামিনীর চাষিদের মনোভাবও একই কারণে গড়ে উঠেছিল। সুতরাং উপকারের প্রতিদানস্বরূপ কৃতজ্ঞ মানুষের ভালোবাসাই চাষিদের এমন উক্তির মূল কারণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের হাসিনা বেগমের মধ্যে সোদামিনীর সাহস ও দানশীলতার দিকটি আছে, কিন্তু চরিত্রটির গভীরতা ও ট্র্যাজিক রূপ নেই। গল্পে সোদামিনী স্বামীর মৃত্যুর পর একা হয়েও গ্রামের লোভী মানুষের মুখে ছাই দিয়ে নিজের সম্পত্তি ও সম্মান রক্ষা করে। কঠোর হওয়ার মতো তেজ তার ছিল; নিরস্ত্র অবস্থায় ক্ষিপ্ত জনতার সামনে এসে সে সত্য প্রকাশ করে। আবার সে দয়ালু, বিপদে মানুষকে সাহায্য করে। উদ্দীপকের হাসিনা বেগমও সাহসী এবং দানশীল, তাই এই দুটি দিকে সাদৃশ্য আছে। কিন্তু সোদামিনী নিঃসন্তান হয়েও মাতৃহৃদয়ের অধিকারিণী। দুর্ভিক্ষের সময় মৃতপ্রায় এক মুসলমান শিশুকে বাঁচিয়ে সে ধর্মীয় বিভেদের ঊর্ধ্বে উঠে মাতৃত্বের পরিচয় দেয়। শেষে সমাজের চাপে ধর্ম ও সম্পত্তি হারিয়ে হরিদাসের শোকে সে পাগল হয়ে যায়। উদ্দীপকের হাসিনা বেগমের চরিত্রে মাতৃস্নেহের এ আকুলতা বা ট্র্যাজেডি নেই। সুতরাং মন্তব্যটি যথার্থ; হাসিনা বেগম সোদামিনীর চরিত্রের কেবল একটি অংশের প্রতিনিধিত্ব করছেন।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও