ভূগোল ২য় পত্র • পরিবহন ও যোগাযোগ

ভূগোল ২য় পত্র প্রশ্ন

বাংলাদেশের একটি সমুদ্রবন্দর কর্ণফুলী নদীর মোহনা থেকে প্রায় ১৩ কিলোমিটার অভ্যন্তরে অবস্থিত। দেশের আমদানি-রপ্তানির সিংহভাগ এ বন্দর দিয়ে সম্পন্ন হয়। বন্দরটির আয়-ব্যয়ের একটি কাল্পনিক হিসাব (কোটি টাকায়) নিচে দেওয়া হলো:

বছরআয়ব্যয়
২০১৫-১৬২০০০১০০০
২০১৭-১৮২৪০০১২০০
  1. ক)

    বাংলাদেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর কোনটি?

    (1)
  2. খ)

    চট্টগ্রাম বন্দর না থাকলে বাংলাদেশ বহির্বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হতো- ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের তথ্য অনুযায়ী ২০১৫-১৬ থেকে ২০১৭-১৮ সালে বন্দরটির উদ্বৃত্ত শতকরা কত বৃদ্ধি পেয়েছে, নির্ণয় করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের আয়-ব্যয়ের প্রবণতা বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য কী ইঙ্গিত দেয়? তোমার মতামত দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর বাংলাদেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে দেশের মোট আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের শতকরা প্রায় ৯৭ ভাগ সম্পন্ন হয়। শিল্পের কাঁচামাল, যন্ত্রপাতি, খাদ্যশস্য ও পেট্রোলিয়াম এ বন্দর দিয়ে আসে এবং তৈরি পোশাক, পাটজাত দ্রব্য, চা ও চামড়া এ বন্দর দিয়ে বিদেশে যায়। বন্দরটি না থাকলে এ বাণিজ্য ব্যাহত হতো। ফলে বাংলাদেশ বহির্বিশ্বের সাথে বাণিজ্যিক যোগাযোগ হারিয়ে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ত।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্বৃত্ত = আয় - ব্যয়।
    ২০১৫-১৬ সালে উদ্বৃত্ত = ২০০০ - ১০০০ = ১০০০ কোটি টাকা।
    ২০১৭-১৮ সালে উদ্বৃত্ত = ২৪০০ - ১২০০ = ১২০০ কোটি টাকা।
    উদ্বৃত্ত বৃদ্ধি = ১২০০ - ১০০০ = ২০০ কোটি টাকা।
    শতকরা বৃদ্ধি = (২০০ ÷ ১০০০) × ১০০ = ২০%।
    অতএব, দুই বছরে বন্দরটির উদ্বৃত্ত ২০% বৃদ্ধি পেয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের বন্দরটি চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর। তথ্য অনুযায়ী দুই বছরে বন্দরটির আয় ২০০০ কোটি থেকে ২৪০০ কোটি টাকায় বেড়েছে এবং উদ্বৃত্তও বেড়েছে। এই প্রবণতা বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক ইঙ্গিত বহন করে।
    ১. বাণিজ্যের প্রসার: বন্দরের আয় বাড়া মানে বন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি-রপ্তানির পরিমাণ বেড়েছে। দেশের মোট বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রায় ৯৭ ভাগ এ বন্দর দিয়ে হওয়ায় এটি সামগ্রিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের পরিচায়ক।
    ২. শিল্পায়ন: শিল্পের কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতি এ বন্দর দিয়ে আসে এবং তৈরি পোশাক ও পাটজাত দ্রব্য এ বন্দর দিয়ে রপ্তানি হয়। কাজেই আয় বৃদ্ধি শিল্প ও রপ্তানি খাতের অগ্রগতি নির্দেশ করে।
    ৩. সরকারি রাজস্ব ও কর্মসংস্থান: উদ্বৃত্ত বৃদ্ধি বন্দর ও অর্থনীতির সক্ষমতা বাড়ায়। বন্দরকে ঘিরে শিল্প-কারখানা ও কর্মসংস্থানও বাড়ে।
    তবে আয়ের তুলনায় ব্যয়ও বাড়ছে, তাই দক্ষ ব্যবস্থাপনা ও আধুনিকায়নের মাধ্যমে বন্দরের সক্ষমতা আরও বাড়ানো প্রয়োজন। সার্বিকভাবে প্রবণতাটি অর্থনীতির জন্য আশাব্যঞ্জক।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও