বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় • জাতীয় সম্পদ ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা
বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় প্রশ্ন
সাফিন চট্টগ্রামে একটি আসবাবের কারখানা দিয়েছেন। তিনি মাসিক ২০,০০০ টাকা খাজনায় এক খণ্ড জমি ভাড়া নিয়েছেন, মাসিক ১৫,০০০ টাকা সুদ দেওয়ার শর্তে ঋণ নিয়ে যন্ত্রপাতি কিনেছেন এবং কারিগর নিয়োগ দিয়েছেন। জমি, যন্ত্রপাতি ও কারিগরকে একত্র করে তিনি নিজেই কারখানা চালান এবং লোকসানের ঝুঁকিও বহন করেন। মাসশেষে মোট উৎপাদিত সম্পদের মূল্য ১,২০,০০০ টাকা এভাবে বণ্টন করা হলো—জমির খাজনা ২০,০০০ টাকা, ঋণের সুদ ১৫,০০০ টাকা, কারিগরের মজুরি ৬০,০০০ টাকা এবং সাফিনের নিজের মুনাফা ২৫,০০০ টাকা।
- ক)(1)
উৎপাদন কী?
- খ)(2)
অর্থনীতিতে ‘মূলধন’ বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে উৎপাদনের কোন উপাদান কে সরবরাহ করেছেন এবং প্রত্যেকের পারিতোষিক কী? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের কারিগররা যদি মজুরি হিসেবে তাদের ন্যায্য প্রাপ্যের চেয়ে অনেক কম পেতেন, তাহলে অর্থনৈতিক কার্যক্রম ও সমাজে কী প্রভাব পড়ত? বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর দ্রব্য বা সম্পদের এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় রূপান্তরকে উৎপাদন বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর মূলধন হলো উৎপাদিত উপাদান। এটি এমন সম্পদ যা সরাসরি ভোগ করা হয় না, বরং কাজে লাগিয়ে অধিকতর উৎপাদন করা হয়। যেমন যন্ত্রপাতি, কলকারখানা, উৎপাদন কাজে ব্যবহৃত ভবন ও অর্থ। উৎপাদনের চারটি উপাদানের মধ্যে মূলধন একটি এবং এর মালিককে সুদ দেওয়া হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উৎপাদনের চারটি উপাদান হলো ভূমি, শ্রম, মূলধন ও সংগঠন।
ভূমি: ভাড়া নেওয়া জমি ভূমির উপাদান। এর মালিক পারিতোষিক হিসেবে খাজনা পান; উদ্দীপকে তা ২০,০০০ টাকা।
শ্রম: কারিগররা শ্রমের উপাদান সরবরাহ করেছেন। তাদের পারিতোষিক মজুরি; উদ্দীপকে ৬০,০০০ টাকা।
মূলধন: ঋণের টাকায় কেনা যন্ত্রপাতি মূলধন। মূলধনের মালিক সুদ পান; উদ্দীপকে ১৫,০০০ টাকা।
সংগঠন: সাফিন ভূমি, শ্রম ও মূলধনকে সমন্বিত করে উৎপাদন পরিচালনা করেছেন ও ঝুঁকি বহন করেছেন। তাই তিনি সংগঠক বা উদ্যোক্তা এবং তার পারিতোষিক মুনাফা, যা ২৫,০০০ টাকা।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উৎপাদিত সম্পদের অর্থমূল্য খাজনা, মজুরি, সুদ ও মুনাফা হিসেবে চারটি উপাদানের মধ্যে ভাগ হয়, একে বণ্টন বলে। এই বণ্টন সুষ্ঠু ও যথাযথ হলে অর্থনৈতিক কার্যক্রমে গতি আসে এবং অর্থনৈতিক কল্যাণ সাধিত হয়।
উদ্দীপকে মোট ১,২০,০০০ টাকার মধ্যে কারিগররা অর্ধেক, অর্থাৎ ৬০,০০০ টাকা, পেয়েছেন। তারা যদি ন্যায্য প্রাপ্যের চেয়ে অনেক কম পেতেন, তাহলে বণ্টন ত্রুটিপূর্ণ ও অসম হতো।
এর ফলে প্রথমত, কারিগরদের আয় কমে যেত এবং তাদের অভাব পূরণের সামর্থ্য কমত, ফলে জীবনযাত্রার মান কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় বাড়ত না। দ্বিতীয়ত, কাজের আগ্রহ কমে উৎপাদন ব্যাহত হতো। তৃতীয়ত, সাফিনের মতো মালিকের হাতে সম্পদ বেশি জমত, ফলে সমাজে বৈষম্য বাড়ত।
আর্থিক বৈষম্য ও বঞ্চনা থেকে সমাজে অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতো। অতএব, ন্যায্য ও সুষ্ঠু বণ্টনই অর্থনৈতিক কার্যক্রমের গতি ও সামাজিক শান্তির জন্য অপরিহার্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও