ইতিহাস ২য় পত্র • শিল্পবিপ্লব
ইতিহাস ২য় পত্র প্রশ্ন
রহিমপুর গ্রামের কৃষকদের জমি ছোট ছোট ফালিতে বিভক্ত হয়ে ছড়িয়ে ছিল। গ্রামের চাষযোগ্য জমি তিনটি বড় মাঠে ভাগ করা ছিল এবং প্রতি বছর একটি মাঠ ফেলে রাখা হতো। কয়েক বছর পর গ্রামের প্রভাবশালী জমির মালিক আইনের সাহায্যে ছোট ছোট জমিগুলো একত্র করে বড় খামার গড়ে তোলেন। ফলে অনেক কৃষক জমি হারিয়ে কাজের সন্ধানে শহরে চলে যায়।
- ক)(1)
আর্থার ইয়াং কে ছিলেন?
- খ)(2)
খোলা মাঠ পদ্ধতিকে বৈজ্ঞানিক চাষাবাদের প্রতিবন্ধক বলা হয় কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকের প্রথম অবস্থার সাথে শিল্পবিপ্লবপূর্ব ইংল্যান্ডের কৃষিব্যবস্থার মিল ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের দ্বিতীয় পরিবর্তনটি শিল্পবিপ্লবের পথ সুগম করেছিল- পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর আর্থার ইয়াং ছিলেন ইংল্যান্ডের একজন কৃষি বিশেষজ্ঞ। তিনি কৃষি ও পশুপালনে নতুন বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি চালু করেন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর শিল্পবিপ্লবের পূর্বে ইংল্যান্ডে চাষযোগ্য জমি তিনটি বড় মাঠে বিভক্ত ছিল এবং প্রতিটি মাঠে কৃষকদের জমি ছোট ছোট ফালিতে ছড়ানো থাকত। প্রথম বছর গম, দ্বিতীয় বছর বার্লি ফলানো হতো এবং তৃতীয় বছর জমি ফেলে রাখা হতো। জমি ছড়ানো ও অবিন্যস্ত থাকায় কৃষকরা সনাতন পদ্ধতিতেই চাষ করত, নতুন যন্ত্র বা বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি প্রয়োগের সুযোগ ছিল না। এ কারণে খোলা মাঠ পদ্ধতিকে বৈজ্ঞানিক চাষাবাদের প্রতিবন্ধক বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের প্রথম অবস্থার সাথে শিল্পবিপ্লবপূর্ব ইংল্যান্ডের সামন্ততান্ত্রিক খোলা মাঠ পদ্ধতির কৃষিব্যবস্থার মিল রয়েছে। শিল্পবিপ্লবের পূর্বে ইংল্যান্ডে চাষযোগ্য জমি তিনটি বড় মাঠে বিভক্ত ছিল এবং প্রতিটি মাঠে কৃষকদের জমি ছোট ছোট ফালি আকারে ছড়ানো থাকত। এই ব্যবস্থায় তিন বছরে দুটি ফসল ফলানো হতো এবং তৃতীয় বছর জমি পতিত রাখা হতো। উদ্দীপকের রহিমপুর গ্রামেও জমি ছোট ফালিতে বিভক্ত এবং তিনটি বড় মাঠের একটি প্রতি বছর ফেলে রাখা হতো। জমির এই অবিন্যস্ত বিন্যাস ও পতিত রাখার প্রথা দুই ক্ষেত্রেই কৃষি উৎপাদনকে সীমিত রেখেছিল। তাই উদ্দীপকের প্রথম অবস্থা ইংল্যান্ডের প্রাক-বিপ্লব খোলা মাঠ পদ্ধতির প্রতিফলন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের দ্বিতীয় পরিবর্তন অর্থাৎ ছোট জমি একত্র করে বড় খামার গড়ে তোলা ইংল্যান্ডের বেষ্টনী বা এনক্লোজার আন্দোলনকে নির্দেশ করে। এই আন্দোলন শিল্পবিপ্লবের পথ সুগম করেছিল, যা নিম্নোক্ত যুক্তিতে স্পষ্ট। ১. কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি: বেষ্টনী আইন ও আর্থার ইয়াং-এর প্রচারণায় ছোট জমির ফালিগুলো একত্র করে বৃহৎ খামারে রূপান্তরিত হয়। সেখানে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চাষ করায় উৎপাদন বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। ২. কাঁচামালের জোগান: কৃষিজাত দ্রব্য শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হতো। কৃষি উৎপাদন বাড়ায় শিল্পের কাঁচামাল সহজলভ্য হয়। ৩. খাদ্যের জোগান: উদ্বৃত্ত খাদ্যসামগ্রী শিল্প শ্রমিকরা অল্প দামে কিনতে পারত, ফলে বর্ধিত শহর ও শিল্পাঞ্চলের মানুষের খাদ্যের চাহিদা পূরণ হয়। ৪. শ্রমিকের জোগান: বড় জমির মালিকরা ছোট জমি গ্রাস করায় বহু চাষি ভূমিহীন দিনমজুরে পরিণত হয়। উদ্দীপকের কৃষকদের মতো এই ভূমিহীনরা শহরে এসে কলকারখানায় অল্প মজুরিতে শ্রমিক হিসেবে কাজ নেয়। ৫. বাজার সৃষ্টি: কৃষকদের আয় বাড়ায় তারা শিল্পদ্রব্য কিনতে সক্ষম হয়, ফলে শিল্পপণ্যের বাজার সম্প্রসারিত হয়। উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, বেষ্টনী আন্দোলন কৃষিবিপ্লবের ভিত্তি রচনা করে খাদ্য, কাঁচামাল, শ্রমিক ও বাজার জোগানের মাধ্যমে ইংল্যান্ডে শিল্পবিপ্লবের পথ সুগম করেছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও