বাংলা ১ম পত্র • একটি কাফি
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
চৈত্র মাসের এক বিকেলে শিল্পী রুমানা জানালা দিয়ে তাকিয়ে দেখলেন, রাস্তার ধারের কৃষ্ণচূড়া গাছের পুরোনো পাতাগুলো গাঢ় লালচে রং ধরেছে আর নতুন পাতা সবুজ হয়ে উঠছে। মুগ্ধ হয়ে তিনি ক্যানভাসে সেই রং ধরে রাখতে শুরু করলেন। তাঁর মনে হলো, প্রকৃতি যেন প্রতিটি পাতায় বয়স আর রঙের গল্প লিখে রেখেছে।
- ক)(1)
বিষ্ণু দে কোন পত্রিকাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা সাহিত্যিক গোষ্ঠীর অন্যতম কবি ছিলেন?
- খ)(2)
‘মাঝবয়সী লাল’ বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকের রুমানার দেখা প্রকৃতির দৃশ্যের সঙ্গে ‘একটি কাফি’ কবিতার প্রথম স্তবকের কোন দিকের সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপক ও ‘একটি কাফি’ কবিতা—দুটিতেই প্রকৃতির রঙ ধরা পড়েছে। কিন্তু প্রকৃতিকে দেখার ভঙ্গিতে কবি ও রুমানার মধ্যে কোথায় পার্থক্য রয়েছে? বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর বিষ্ণু দে ‘কল্লোল’ পত্রিকাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা সাহিত্যিক গোষ্ঠীর অন্যতম কবি ছিলেন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ‘মাঝবয়সী লাল’ একটি চিত্রকল্প। এর দ্বারা গাছপালার বয়স্ক বা পরিণত পাতার রং বোঝানো হয়েছে। চৈত্রে পুরোনো পাতা লালচে বর্ণ ধারণ করে, আর কবি সেই পরিণত রঙকে মাঝবয়সী মানুষের সঙ্গে তুলনা করে প্রকাশ করেছেন। এতে প্রকৃতির রঙ প্রাণময় ও মানবিক রূপ পেয়েছে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের রুমানার দেখা প্রকৃতির দৃশ্যের সঙ্গে ‘একটি কাফি’ কবিতার প্রথম স্তবকের চৈত্রের রঙিন ও প্রাণময় প্রকৃতির চিত্রের সাদৃশ্য রয়েছে। কবিতায় কবি পলাশ, আমের ডাল, সবুজ মাঠ এবং ‘মাঝবয়সী লাল’ পাতার রঙের কথা বলেছেন। উদ্দীপকে রুমানা কৃষ্ণচূড়া গাছের পুরোনো পাতায় লালচে রং ও নতুন পাতার সবুজ রং দেখে মুগ্ধ হন। কবিতার মতোই এখানে চৈত্রের গাছপালার রঙের বৈচিত্র্য শিল্পীমনকে আকর্ষণ করেছে। তাই দুই ক্ষেত্রেই প্রকৃতির রঙের সৌন্দর্য ফুটে উঠেছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের রুমানা ও কবিতার কবি—দুজনেই চৈত্রের প্রকৃতির রঙে মুগ্ধ, তবু দেখার ভঙ্গিতে পার্থক্য রয়েছে। রুমানা প্রকৃতিকে একজন শিল্পীর চোখে দেখেন। তিনি পাতার লাল ও সবুজ রং ক্যানভাসে ধরে রাখতে চান। তাঁর মুগ্ধতা মূলত দৃশ্যসৌন্দর্যকেন্দ্রিক। অন্যদিকে ‘একটি কাফি’ কবিতার কবি প্রকৃতিকে শুধু দেখেন না, তার মধ্যে নিজেকে মিলিয়ে দেন। তাঁর মন চৈত্রে পলাতক হয়ে পলাশ ও আমের ডালে মুক্তি-সুখে জিরায়। দুপুরের হেলাফেলা, ঘুঘুর ডাক ও সন্ধ্যার গানের মধ্য দিয়ে তিনি প্রকৃতির সঙ্গে আত্মিক একাত্মতা অনুভব করেন। ‘মাটির কাছে সব মানুষ খাতক’ বলে তিনি মাটির প্রতি ঋণের কথাও স্মরণ করেছেন। রুমানার ক্ষেত্রে এই গভীর আবেগ ও ঋণচেতনা অনুপস্থিত। সুতরাং রুমানার দৃষ্টি সৌন্দর্যবোধে সীমিত, আর কবির দৃষ্টি নিসর্গের সঙ্গে মানুষের গভীর আত্মিক সম্পর্কে প্রসারিত।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও