কৃষি শিক্ষা ১ম পত্র • কৃষি জলবায়ু
কৃষি শিক্ষা ১ম পত্র প্রশ্ন
রাজশাহীর কৃষক মজিদ সমতলে অবস্থিত নিজের জমিতে আষাঢ় মাসে পাট চাষ করেন। সেখানে ঐ মাসের গড় তাপমাত্রা ৩২° সে.। তার ভাই রশিদ পাহাড়ি এলাকায় সমতল থেকে ৬৫৩.১ মিটার উচ্চতায় আউশ ধান ও পাট চাষ করতে চান। রশিদ জানতে পারলেন, গ্রীষ্মকালীন ফসল ২৩.৮° সে. থেকে ২৯.৪° সে. মাসিক গড় তাপমাত্রায় সর্বাধিক ফলন দেয়। তিনি ঐ পাহাড়ি এলাকায় আষাঢ় মাসের তাপমাত্রা হিসাব করার সিদ্ধান্ত নিলেন। (প্রতি ২১৭.৭ মিটার উচ্চতায় ১° সে. তাপমাত্রা কমে ধরে নাও)
- ক)(1)
উচ্চতার জন্য তাপমাত্রা হ্রাসের হার কত?
- খ)(2)
মরুভূমি অঞ্চলে দিনে খুব গরম ও রাতে খুব ঠান্ডা অনুভূত হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
রশিদের পাহাড়ি এলাকার আষাঢ় মাসের গড় তাপমাত্রা নির্ণয় করো।
- ঘ)(4)
মজিদ ও রশিদের এলাকার মধ্যে কোনটি গ্রীষ্মকালীন ফসলের জন্য বেশি উপযোগী? তাপমাত্রার আলোকে বিশ্লেষণ করো এবং তাপমাত্রা ছাড়া অন্য কোন উপাদান ঐ সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে তা উল্লেখ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উচ্চতার জন্য তাপমাত্রা হ্রাসের হার প্রতি ২১৭.৭ মিটারে ১° সে.। (অনেকের মতে প্রতি ১৬৪.৪ মিটারে ১° সে.)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর মরুভূমির মাটি বেলে প্রকৃতির। কাদা মাটির তুলনায় বেলে মাটি দিনের বেলায় সহজে অনেক বেশি উত্তপ্ত হয় এবং রাতের বেলায় তাপ বিকিরণ করে সহজেই শীতল হয়ে যায়। এছাড়া সেখানে মেঘ ও আর্দ্রতা কম থাকায় তাপ ধরে রাখার ক্ষমতাও কম। তাই মরুভূমিতে দিনে তাপমাত্রা খুব বেশি এবং রাতে খুব কম হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর দেওয়া আছে, সমতলের তাপমাত্রা = ৩২° সে.।
পাহাড়ের উচ্চতা = ৬৫৩.১ মিটার।প্রতি ২১৭.৭ মিটার উচ্চতায় তাপমাত্রা কমে ১° সে.।
তাহলে ৬৫৩.১ মিটার উচ্চতায় তাপমাত্রা কমবে = ° সে.।
সুতরাং পাহাড়ি এলাকার তাপমাত্রা = ° সে.।
উত্তর: রশিদের পাহাড়ি এলাকায় আষাঢ় মাসের গড় তাপমাত্রা ২৯° সে.।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর গ্রীষ্মকালীন ফসল (আউশ ধান, পাট, সয়াবিন, জোয়ার) ২৩.৮° সে. থেকে ২৯.৪° সে. মাসিক গড় তাপমাত্রায় সর্বাধিক ফলন দেয়।
মজিদের সমতল এলাকায় আষাঢ় মাসের গড় তাপমাত্রা ৩২° সে., যা এই সীমার (২৯.৪° সে.) চেয়ে প্রায় ২.৬° সে. বেশি। অতিরিক্ত তাপে ফসলের বৃদ্ধি ও ফলন ব্যাহত হতে পারে।
রশিদের পাহাড়ি এলাকায় হিসাব অনুযায়ী তাপমাত্রা ২৯° সে., যা ২৩.৮° থেকে ২৯.৪° সে.-এর মধ্যে পড়ে। তাই তাপমাত্রার দিক থেকে রশিদের এলাকা আউশ ও পাটের জন্য বেশি উপযোগী।
তবে শুধু তাপমাত্রাই একমাত্র বিবেচ্য নয়। গ্রীষ্মকালীন ফসলের জন্য পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত ও আর্দ্রতাও প্রয়োজন। পাহাড়ি এলাকায় বৃষ্টির পরিমাণ, মেঘাচ্ছন্নতা, মাটির ধরন ও ভূমির ঢাল দেখে তবেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। কারণ বেশি বৃষ্টি তাপমাত্রা কমায়, আবার ঢালু জমিতে ভূমিক্ষয়ের আশঙ্কা থাকে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও