ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র • উত্তর আফ্রিকায় ফাতেমী খিলাফত (৯০৯-১১৭১ খ্রি.)

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র প্রশ্ন

জনাব মাহমুদ 'ক' রাজ্যের শাসক। প্রজাদের জানমালের নিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য তিনি একটি আলাদা পুলিশ বাহিনী গঠন করেন। নাগরিকদের অভিযোগ শোনার জন্য তিনি একটি বিশেষ আদালত স্থাপন করেন, যেখানে তিনি নিজেও বিচারকার্য পরিচালনা করতেন। তিনি কবিতা রচনা করতেন, জ্ঞানী-গুণীদের সমাদর করতেন এবং রাজপ্রাসাদের নকশা নিজেই প্রণয়ন করতেন। তাঁর আমলে রাজ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ও গড়ে ওঠে।

  1. ক)

    'সাহিব আল-সুরতাহ' কী?

    (1)
  2. খ)

    মাজালিম আদালত বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের মাহমুদের প্রশাসনিক কার্যাবলির সাথে আল-মুইজের শাসনব্যবস্থার কী কী মিল রয়েছে? বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    জ্ঞান-বিজ্ঞান ও শিল্পকলার ক্ষেত্রে আল-মুইজের অবদান উদ্দীপকের আলোকে মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর আল-মুইজ প্রতিষ্ঠিত পুলিশ বাহিনীর নাম 'সাহিব আল-সুরতাহ'।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর মাজালিম আদালত ('Court of the Mazalim') ছিল ফাতেমীয় খলিফা আল-মুইজ গঠিত একটি বিশেষ বিচারালয়। আল-মুইজের সময় ফাতেমীয় প্রচারক দলই আইন ও বিচার বিষয়ক কার্যাদি পরিচালনা করতেন এবং আবু হানিফা মুহাম্মদ-বিন-নুমান ছিলেন প্রধান কাজী। এই আদালতে খলিফা স্বয়ং বিচারকার্য পরিচালনা করতেন, ফলে প্রজারা সরাসরি খলিফার কাছ থেকে ন্যায়বিচার পেত।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের মাহমুদের প্রশাসনিক কার্যাবলির সাথে ফাতেমীয় খলিফা আল-মুইজের শাসনব্যবস্থার একাধিক মিল রয়েছে।

    পুলিশ বিভাগ: আল-মুইজ রাষ্ট্রের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং জনগণের সম্পত্তি ও নিরাপত্তার জন্য 'সাহিব আল-সুরতাহ' নামে পুলিশ বাহিনী গঠন করেন। উদ্দীপকের মাহমুদও একইভাবে প্রজাদের নিরাপত্তার জন্য পৃথক পুলিশ বাহিনী গঠন করেন।

    বিচার সংস্কার: আল-মুইজ 'মাজালিম আদালত' গঠন করেন এবং খলিফা স্বয়ং বিচারকার্য পরিচালনা করতেন। উদ্দীপকে মাহমুদের বিশেষ আদালত স্থাপন ও নিজে বিচার করার বিষয়টি এর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।

    এছাড়া আল-মুইজ প্রদেশগুলোকে জেলায় ভাগ করে দক্ষ ব্যক্তিদের শাসনভার দেন এবং ধর্ম-সম্প্রদায় নির্বিশেষে যোগ্যতার ভিত্তিতে রাজকার্যে নিয়োগ দিতেন। এভাবে উদ্দীপকের মাহমুদের মতো আল-মুইজও একটি সুশৃঙ্খল ও জনকল্যাণমুখী প্রশাসন গড়ে তুলেছিলেন।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের শাসক মাহমুদ কবিতা রচনা, জ্ঞানীদের সমাদর, বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন ও প্রাসাদের নকশা প্রণয়নের মাধ্যমে জ্ঞান-সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন। ফাতেমীয় খলিফা আল-মুইজও এসব ক্ষেত্রে অসামান্য অবদান রেখেছিলেন। নিচে তা মূল্যায়ন করা হলো:

    ১. জ্ঞান-বিজ্ঞানের পৃষ্ঠপোষকতা: আল-মুইজ শিক্ষা, সংস্কৃতি ও জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। তিনি নিজে সুন্দর কবিতা রচনা করতে পারতেন এবং জ্ঞানী-গুণী ও পণ্ডিতদের সমাদর করতেন। তাঁর আমলে আরবি থেকে বহু পুস্তক ল্যাটিন ভাষায় অনুবাদ করা হয়।

    ২. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান: কায়রোর আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয় তাঁর আমলে নির্মিত হয়, যা কালক্রমে উন্নতি ও শ্রীবৃদ্ধিতে পাশ্চাত্যের সকল বিশ্ববিদ্যালয়কে অতিক্রম করে।

    ৩. স্থাপত্য ও শিল্পকলা: তিনি বিভিন্ন স্থানে অট্টালিকা, রাজপ্রাসাদ ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেন। কায়রোর পূর্ব প্রান্তে 'কসর-উল-মুইজী' এবং পশ্চিম প্রান্তে 'কসর-উল-বাহার' তাঁর বিখ্যাত কীর্তি। তিনি নিজেও খ্যাতনামা স্থপতি ছিলেন এবং কায়রোর বিভিন্ন অট্টালিকার নকশা নিজে প্রণয়ন করেন। উদ্দীপকের মাহমুদের নিজে প্রাসাদের নকশা প্রণয়নের সাথে এটি মিলে যায়।

    ৪. সার্বিক ফল: এসব অবদানের ফলে ফাতেমীয় সাম্রাজ্য সভ্যতা ও সমৃদ্ধির উচ্চ শিখরে পৌঁছায়, আর তাঁর শাসনকালকে মিশরীয় ইতিহাসের স্বর্ণযুগ বলা হয়। ঐতিহাসিক সৈয়দ আমীর আলী তাঁকে 'পাশ্চাত্যের মামুন' বলে আখ্যায়িত করেন।

    অতএব জ্ঞান-বিজ্ঞান ও শিল্পকলায় আল-মুইজের অবদান ছিল বহুমুখী ও যুগান্তকারী, যা তাঁকে ফাতেমীয় বংশের সর্বশ্রেষ্ঠ খলিফার মর্যাদা দিয়েছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও