জীববিজ্ঞান • জীবের বংশগতি ও জৈব অভিব্যক্তি

জীববিজ্ঞান প্রশ্ন

গর্ভবতী সালমার আল্ট্রাসনোগ্রাফি রিপোর্ট দেখে ডাক্তার জানালেন, তার ভ্রূণ ও জরায়ুর মধ্যে একটি রক্তনালিসমৃদ্ধ ডিম্বাকার অস্থায়ী অঙ্গ গঠিত হয়েছে। এটি নাড়ির মাধ্যমে ভ্রূণের নাভির সাথে যুক্ত। ডাক্তার আরও বললেন, এই অঙ্গের কারণেই ভ্রূণ ঠিকমতো খাদ্য ও অক্সিজেন পাচ্ছে এবং বর্জ্য বের হয়ে যাচ্ছে।

  1. ক)

    ভ্রূণ সংস্থাপন কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    নিষেক বলতে কী বোঝ?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত অঙ্গটি কীভাবে গঠিত হয় এবং ভ্রূণের সাথে কীভাবে যুক্ত থাকে? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    অমরা না থাকলে মাতৃগর্ভে ভ্রূণের স্বাভাবিক বিকাশ সম্ভব নয়—বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর জরায়ুর প্রাচীরে ভ্রূণের সংযুক্তিকে ভ্রূণ সংস্থাপন (Implantation) বা গর্ভধারণ বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর স্ত্রীর ডিম্বনালিতে পরিণত শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর মিলনকে নিষেক বলে। এ সময় একটি শুক্রাণু দিয়ে একটিমাত্র ডিম্বাণু নিষিক্ত হয়। শুক্রাণুর একপ্রস্থ ক্রোমোজোম (n) ও ডিম্বাণুর একপ্রস্থ ক্রোমোজোম (n) মিলে দুই প্রস্থ ক্রোমোজোমবিশিষ্ট (2n) জাইগোট সৃষ্টি হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে উল্লিখিত অঙ্গটি হলো অমরা বা গর্ভফুল (Placenta)। ক্রমবর্ধমান ভ্রূণের কিছু কোষ এবং মাতৃ জরায়ুর অন্তঃস্তরের কিছু কোষ মিলিত হয়ে ডিম্বাকার ও রক্তনালিসমৃদ্ধ এই অমরা তৈরি করে। ভ্রূণ জরায়ুতে পৌঁছানোর 4-5 দিনের মধ্যে সংস্থাপন সম্পন্ন হয় এবং নিষেকের 12 সপ্তাহের মধ্যে অমরা গঠিত হয়। এভাবে ভ্রূণ ও মাতৃ জরায়ুর মধ্যে একটি অস্থায়ী অঙ্গ তৈরি হয়। অমরা আম্বিলিক্যাল কর্ড বা নাড়ির মাধ্যমে ভ্রূণের নাভির সাথে যুক্ত থাকে। এই নালির ভেতর দিয়ে মাতৃদেহ ও ভ্রূণের মধ্যে বিভিন্ন পদার্থের বিনিময় ঘটে। প্রসবের সময় অমরা দেহ থেকে বেরিয়ে আসে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর অমরা ভ্রূণ ও মাতার মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে এবং বহুমুখী কাজ সম্পন্ন করে। তাই এটি না থাকলে ভ্রূণের স্বাভাবিক বিকাশ সম্ভব নয়। যুক্তিগুলো নিচে দেওয়া হলো:
    ১. পুষ্টি সরবরাহ: ভ্রূণের বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় শর্করা, আমিষ, স্নেহ, পানি ও খনিজ লবণ অমরার মাধ্যমে মায়ের রক্ত থেকে ভ্রূণের রক্তে পৌঁছায়। অমরা না থাকলে ভ্রূণ খাদ্য পাবে না।
    ২. ফুসফুসের মতো কাজ: ভ্রূণের নিজস্ব শ্বাসকার্য নেই। অমরার মাধ্যমে মায়ের রক্ত থেকে অক্সিজেন গ্রহণ এবং ভ্রূণ থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গমন ঘটে। এটি না থাকলে ভ্রূণ শ্বাসকষ্টে মারা যাবে।
    ৩. বৃক্কের মতো কাজ: ভ্রূণের বিপাকে উৎপন্ন বর্জ্য পদার্থ অমরার মাধ্যমে অপসারিত হয়। অমরার অনুপস্থিতিতে বর্জ্য জমে ভ্রূণ বিষাক্ত হয়ে পড়বে।
    ৪. হরমোন নিঃসরণ: অমরা গোনাডোট্রপিন ও প্রোজেস্টেরন-জাতীয় হরমোন তৈরি করে, যা ভ্রূণের রক্ষণাবেক্ষণ ও স্বাভাবিক গঠনে সাহায্য করে এবং স্তনগ্রন্থির বৃদ্ধি ও দুগ্ধ উৎপাদনে সহায়তা করে।
    সুতরাং অমরা ভ্রূণের জন্য খাদ্য, অক্সিজেন ও বর্জ্য অপসারণের পাশাপাশি হরমোনের উৎস হিসেবে কাজ করে। এর অনুপস্থিতিতে ভ্রূণের স্বাভাবিক বিকাশ অসম্ভব।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও