জীববিজ্ঞান • সমন্বয় (co-ordination)
জীববিজ্ঞান প্রশ্ন
রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় শিউলির হৃৎপিণ্ড স্পন্দিত হয় এবং পাকস্থলীতে খাদ্য হজম হয়, অথচ সে এসবের কিছুই টের পায় না। পরদিন বিজ্ঞান শিক্ষক বোর্ডে স্নায়ুতন্ত্রের দুটি কেন্দ্রীয় অংশের প্রস্থচ্ছেদ আঁকলেন। X হলো মস্তিষ্কের সবচেয়ে বড় অংশ সেরিব্রামের প্রস্থচ্ছেদ, যেখানে ধূসর পদার্থ বাইরে ও শ্বেত পদার্থ ভেতরে। Y-এ শ্বেত পদার্থ বাইরে ও ধূসর পদার্থ ভেতরে। তিনি বললেন, Y কশেরুকার ভেতরের ছিদ্রপথে সুরক্ষিত থাকে এবং এখান থেকে ৩১ জোড়া স্নায়ু বের হয়।
- ক)(1)
ফোরামেন ম্যাগনাম কী?
- খ)(2)
স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্র বলতে কী বোঝ?
- গ)(3)
উদ্দীপকের Y অংশটির অবস্থান, গঠন ও এ থেকে উৎপন্ন স্নায়ুর বৈশিষ্ট্য বর্ণনা কর।
- ঘ)(4)
শিউলির ঘুমন্ত অবস্থার কাজগুলো কোন তন্ত্র দ্বারা পরিচালিত হয় এবং X ও Y-এর সাথে এর সম্পর্ক কীরূপ তা বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর করোটির পেছনে অবস্থিত যে ছিদ্র থেকে মেরুরজ্জু শুরু হয়ে কটিদেশের কশেরুকা পর্যন্ত বিস্তৃত হয়, তাকে ফোরামেন ম্যাগনাম বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর আমাদের দেহের যেসব অঙ্গের ওপর আমাদের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই, যেমন হৃৎপিণ্ড, অন্ত্র, পাকস্থলী, অগ্ন্যাশয়, সেগুলোর কাজ যে স্নায়ুতন্ত্র দ্বারা পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয়, তাকে স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্র বলে। এর কার্যকারিতার ওপর মস্তিষ্ক ও মেরুরজ্জুর প্রত্যক্ষ প্রভাব না থাকায় এটি অনেকটা স্বাধীনভাবে কাজ করে। এর দুটি অংশ হলো সিম্প্যাথেটিক ও প্যারাসিম্প্যাথেটিক স্নায়ু।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের Y অংশটি হলো মেরুরজ্জু বা সুষুম্নাকাণ্ড।
অবস্থান: এটি করোটির পেছনে অবস্থিত ফোরামেন ম্যাগনাম ছিদ্র থেকে কটিদেশের কশেরুকা পর্যন্ত বিস্তৃত এবং মেরুদণ্ডের কশেরুকার ভেতরের ছিদ্রপথে সুরক্ষিত থাকে।
গঠন: মেরুরজ্জুতে শ্বেত ও ধূসর দুই ধরনের পদার্থ থাকে। এর শ্বেত পদার্থ থাকে বাইরে এবং ধূসর পদার্থ থাকে ভেতরে, যা মস্তিষ্কের ঠিক উল্টো।
স্নায়ুর বৈশিষ্ট্য: দুই কশেরুকার মধ্যবর্তী ছিদ্র দিয়ে মেরুরজ্জু থেকে ৩১ জোড়া মেরুরজ্জ্বীয় স্নায়ু বের হয়। এগুলো ঘাড়, গলা, বুক, পিঠ, হাত ও পায়ের স্নায়ু এবং সবই মিশ্র প্রকৃতির। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে শিউলির ঘুমন্ত অবস্থায় হৃৎপিণ্ডের স্পন্দন ও পাকস্থলীতে হজম চলতে থাকার কাজগুলো স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্র দ্বারা পরিচালিত হয়। স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্র প্রান্তীয় স্নায়ুতন্ত্রের অংশ এবং এর দুটি ভাগ: সিম্প্যাথেটিক ও প্যারাসিম্প্যাথেটিক। এসব অঙ্গের ওপর আমাদের ইচ্ছার নিয়ন্ত্রণ নেই। X হলো মস্তিষ্কের সেরিব্রাম এবং Y হলো মেরুরজ্জু। X ও Y মিলে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র গঠন করে। তাদের সাথে স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্রের সম্পর্ক নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. কাজের প্রকৃতি: X সেরিব্রাম চিন্তা, ইচ্ছা, স্মৃতি ও ঐচ্ছিক পেশির কাজ নিয়ন্ত্রণ করে, তাই এটি ইচ্ছাধীন কাজের কেন্দ্র। Y মূলত প্রতিবর্তী ক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে এবং মস্তিষ্ক ও দেহের অন্য অংশের মধ্যে তাড়না আদান-প্রদানের পথ। অন্যদিকে স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্র হৃৎপিণ্ড, অন্ত্র, পাকস্থলী প্রভৃতি অঙ্গের অনৈচ্ছিক কাজ নিয়ন্ত্রণ করে।
২. স্বাধীনতা: এ তন্ত্রের কার্যকারিতার ওপর মস্তিষ্ক ও মেরুরজ্জুর প্রত্যক্ষ প্রভাব না থাকায় এটি অনেকটা স্বাধীন ও স্বতন্ত্রভাবে কাজ করে। এ কারণেই শিউলি ঘুমিয়ে থাকলে, অর্থাৎ X-এর ইচ্ছাধীন কাজ বন্ধ থাকলেও হৃৎপিণ্ড ও পাকস্থলীর কাজ চলতে থাকে।
৩. জীবন রক্ষায় গুরুত্ব: এই তন্ত্রের কাজ নিরবচ্ছিন্ন না থাকলে জীবন বিপন্ন হতো। কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র ঐচ্ছিক কাজ পরিচালনা করে এবং স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্র অভ্যন্তরীণ অঙ্গের কাজ চালিয়ে যায়, ফলে দুটি মিলে দেহের পূর্ণাঙ্গ সমন্বয় বজায় রাখে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও