সাহিত্য পাঠ • কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ
সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন
পঁচাত্তর বছরের বৃদ্ধ আবদুস সাত্তার এখন লাঠি ছাড়া হাঁটতে পারেন না। ছেলেরা বলে, ‘আব্বা, আপনি ঘরে বিশ্রাম নিন।’ বর্ষার এক রাতে নদীর ভাঙনে গ্রামের বাঁধ ভেঙে পড়ার উপক্রম হলে সবাই যখন ভয়ে দিশাহারা, তখন সাত্তার কোদাল হাতে একাই বাঁধে মাটি ফেলতে নেমে পড়েন। কেউ তাঁকে থামাতে পারে না। তাঁর দেখাদেখি একে একে যুবকেরাও এগিয়ে আসে।
- ক)(1)
কপিলদাস মুর্মু কোন সম্প্রদায়ের মানুষ?
- খ)(2)
“লড়াইয়ের কোনো বয়স নেই”—কপিলদাসকে অবলম্বন করে লেখক এ কথা কীভাবে বুঝিয়েছেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকের সাত্তারের সঙ্গে কপিলদাস মুর্মুর কোন দিকটির সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
“উদ্দীপকের সাত্তারের কাজ কপিলদাসের শেষ কাজের আংশিক প্রতিফলন মাত্র”—মন্তব্যটি মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর কপিলদাস মুর্মু সাঁওতাল সম্প্রদায়ের মানুষ।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর কপিলদাস বয়সের ভারে ঝিমিয়ে পড়া এক বৃদ্ধ, যাকে সবাই অকেজো ভাবে। বসতভিটা উচ্ছেদের আশঙ্কা তীব্র হলে সেই বৃদ্ধই কাঁপা হাতে ধনুকে ছিলা পরায় এবং একের পর এক তির ছোড়ে। বাধা ও নিষেধ উপেক্ষা করে সে অন্ধকারের দিকে এগিয়ে যায়। এর মধ্য দিয়ে লেখক দেখিয়েছেন, অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রামে বার্ধক্য বাধা হতে পারে না। তাই বয়স নয়, মনের সাহসই লড়াইয়ের মূল শক্তি।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের সাত্তারের সঙ্গে কপিলদাসের সাদৃশ্য রয়েছে বার্ধক্যকে অতিক্রম করে সংকটের মুহূর্তে সাহসী পদক্ষেপ নেওয়ার দিক থেকে। উদ্দীপকে সাত্তারকে পরিবারের সবাই বিশ্রামে থাকতে বলে। তবু বাঁধ ভাঙার সংকটে তিনি সবার আগে কোদাল নিয়ে নেমে পড়েন। গল্পেও কপিলদাসকে সবাই ‘তুই বুড়া মানুষ, কিছু করিবা পারিস না’ বলে সরিয়ে রাখে। কিন্তু বসত উচ্ছেদের সংকটে সে দুই হাতে তির-ধনুক নিয়ে অন্ধকারের দিকে এগিয়ে যায়। কেউ তাকে থামাতে পারে না। উভয়েই অন্যদের অবহেলা ও নিষেধ উপেক্ষা করে নিজের উদ্যোগে সংকটে ঝাঁপিয়ে পড়ে। এভাবে দুজনের মধ্যে বয়স-অতিক্রমী সাহসিকতার সাদৃশ্য ফুটে উঠেছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর মন্তব্যটি যথার্থ। উদ্দীপকের সাত্তার বৃদ্ধ বয়সেও বাঁধ রক্ষার সংকটে একা এগিয়ে যান এবং তাঁর দেখাদেখি যুবকেরা অনুপ্রাণিত হয়। এখানে বয়স অতিক্রম করে সাহসী উদ্যোগ নেওয়ার দিকটি কপিলদাসের সঙ্গে মেলে। কিন্তু গল্পের কপিলদাসের শেষ কাজ আরও গভীর ও বহুমাত্রিক। প্রথমত, তার লড়াই কেবল একটি তাৎক্ষণিক দুর্যোগ ঠেকানোর নয়, বসতভিটা থেকে উচ্ছেদের বিরুদ্ধে সাঁওতাল জাতিসত্তার অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রাম। দ্বিতীয়ত, কপিলদাস স্মৃতিতে কৈশোরে ফিরে যায় এবং নিশানা ভেদের আদিম উল্লাস অনুভব করে, যা উদ্দীপকে নেই। তৃতীয়ত, সাত্তারকে অন্যরা অনুসরণ করে, অথচ কপিলদাস নিজের ছেলে ও সমাজের অবহেলা মাথায় নিয়ে একাই অন্ধকারের দিকে এগিয়ে যায়। চতুর্থত, তার প্রতিরোধ কৃষি-যন্ত্র ও মহাজনি শক্তির বিরুদ্ধে প্রতীকী প্রতিবাদ। অতএব উদ্দীপকে কেবল বয়স অতিক্রমী সাহসের একটি দিক আছে, গল্পের কপিলদাসের শেষ কাজের পূর্ণ ব্যাপ্তি নেই। তাই মন্তব্যটি যুক্তিযুক্ত।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও