বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় • বাংলাদেশ সরকারের অর্থ ও ব্যাংকব্যবস্থা

বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় প্রশ্ন

'প্রগতি ব্যাংক লিমিটেড' জনসাধারণের কাছ থেকে মোট ১০,০০,০০০ টাকা আমানত সংগ্রহ করেছে এবং আমানতের ওপর বার্ষিক ৬% হারে সুদ দেয়। ব্যাংকটি আমানতের ৮,০০,০০০ টাকা ব্যবসায়ীদের বার্ষিক ১২% সুদে ঋণ দিয়েছে এবং বাকি ২,০০,০০০ টাকা নিজের কাছে ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকে গচ্ছিত রেখেছে।

  1. ক)

    ব্যাংক কী?

    (1)
  2. খ)

    ব্যাংককে ঋণের কারবারি বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের প্রগতি ব্যাংক লিমিটেডের বার্ষিক মুনাফা নির্ণয় করো। (অন্যান্য পরিচালন ব্যয় বিবেচনা করার প্রয়োজন নেই।)

    (3)
  4. ঘ)

    প্রগতি ব্যাংক সব আমানত ঋণ হিসেবে না দিয়ে ২,০০,০০০ টাকা কেন গচ্ছিত রাখে? কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঋণ নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে সম্পর্ক দেখিয়ে বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ব্যাংক হলো জনসাধারণের অর্থ গচ্ছিত রাখার এবং ঋণগ্রহীতাদের বিভিন্ন মেয়াদি ঋণ প্রদান করার প্রতিষ্ঠান।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ব্যাংক জনসাধারণের কাছ থেকে আমানত সংগ্রহ করে এবং সেই অর্থ উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী ও উৎপাদনকারীদের ঋণ হিসেবে দেয়। ঋণ দিয়ে ব্যাংক সুদ আদায় করে, যা আমানতকারীকে দেওয়া সুদের চেয়ে বেশি। এই সুদের হারের পার্থক্যই ব্যাংকের মুনাফা। ব্যাংকের মূল ব্যবসা ঋণ দেওয়া ও নেওয়া ঘিরে আবর্তিত, তাই একে ঋণের কারবারি বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর আমানতকারীকে প্রদত্ত বার্ষিক সুদ = ১০,০০,০০০ টাকার ৬% = 10,00,000×610010{,}00{,}000 \times \frac{6}{100} = ৬০,০০০ টাকা।
    ঋণ থেকে প্রাপ্ত বার্ষিক সুদ = ৮,০০,০০০ টাকার ১২% = 8,00,000×121008{,}00{,}000 \times \frac{12}{100} = ৯৬,০০০ টাকা।
    ব্যাংকের বার্ষিক মুনাফা = প্রাপ্ত সুদ − প্রদত্ত সুদ = ৯৬,০০০ − ৬০,০০০ = ৩৬,০০০ টাকা।
    উত্তর: প্রগতি ব্যাংক লিমিটেডের বার্ষিক মুনাফা ৩৬,০০০ টাকা।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর প্রগতি ব্যাংক একটি বাণিজ্যিক ব্যাংক। বাণিজ্যিক ব্যাংক জনসাধারণের কাছ থেকে গৃহীত অর্থের একটি নির্দিষ্ট অংশ গচ্ছিত রেখে বাকি অংশ ঋণ হিসেবে দেয়। উদ্দীপকে ১০,০০,০০০ টাকার মধ্যে ২,০০,০০০ টাকা, অর্থাৎ ২০% গচ্ছিত রাখা হয়েছে।
    গচ্ছিত রাখার কারণ:
    ১. আমানতকারীরা যেকোনো সময় টাকা তুলতে চাইলে যেন ব্যাংক তা দিতে পারে, সেজন্য নগদ অর্থ হাতে রাখা প্রয়োজন।
    ২. অন্যান্য ব্যাংককে তাদের মূলধনের নির্দিষ্ট অংশ কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা রাখতে হয়, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ম।
    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঋণ নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে সম্পর্ক:
    কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই জমার পরিমাণ বাড়ালে প্রগতি ব্যাংকের হাতে ঋণ দেওয়ার মতো অর্থ কমে যায়, ফলে বাজারে ঋণ ও মুদ্রার যোগান কমে। জমার পরিমাণ কমালে ঋণ দেওয়ার ক্ষমতা বাড়ে। এভাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক মুদ্রাস্ফীতি বা মুদ্রা সংকোচন এড়িয়ে অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখে।
    সুতরাং আমানতের একাংশ গচ্ছিত রাখা একই সঙ্গে আমানতকারীর নিরাপত্তা ও দেশের অর্থব্যবস্থার স্থিতিশীলতা রক্ষায় সহায়ক।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও