ভূগোল ২য় পত্র • বাণিজ্য

ভূগোল ২য় পত্র প্রশ্ন

'ক' একটি জনবহুল দেশ। স্বাধীনতার পর ২০ বছর দেশটির রপ্তানি মূল্যের তুলনায় আমদানি মূল্য প্রায় দ্বিগুণ ছিল। ১৯৯১ সালের পর থেকে রপ্তানি পণ্য বাড়তে থাকে এবং ১৯৯৫ সালে দেশটি বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সদস্য হয়। এরপর দেশটি কাঁচামাল আমদানি করে পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানি বাড়ানোর পরিকল্পনা নেয়। পাশাপাশি পাট ছাড়াও পোশাক, হিমায়িত খাদ্য ইত্যাদি পণ্যও দেশটি রপ্তানি করে।

  1. ক)

    কত সালে বাংলাদেশ বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (WTO)-এর সদস্যপদ লাভ করে?

    (1)
  2. খ)

    বাংলাদেশ কাঁচামাল আমদানিতে অগ্রাধিকার দিচ্ছে কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের আলোকে 'ক' দেশটির প্রারম্ভিক বাণিজ্যধারা ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের শেষ বাক্যে ইঙ্গিতকৃত বাংলাদেশের বাণিজ্য প্রকৃতিটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর বাংলাদেশ ১৯৯৫ সালে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (WTO)-এর সদস্যপদ লাভ করে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর বাংলাদেশের বাণিজ্য প্রকৃতির একটি নতুন সংযোজন হলো কাঁচামাল আমদানিতে অগ্রাধিকার। দেশে অনেক শিল্পের কাঁচামাল পর্যাপ্ত নেই। তাই অধিক কাঁচামাল আমদানি করে দেশেই পণ্য উৎপাদন করা হয় এবং সেই পণ্য বিদেশে রপ্তানি করা হয়। এতে রপ্তানি আয় বৃদ্ধি পায়, কর্মসংস্থান বাড়ে এবং আমদানি ব্যয়ের চেয়ে অধিক বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের 'ক' দেশটি বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছে। বাংলাদেশের বাণিজ্যের প্রারম্ভিক ধারায় ১৯৭১ থেকে ১৯৯১ সালের মধ্যে রপ্তানি মূল্যের তুলনায় আমদানি মূল্য প্রায় দ্বিগুণ ছিল, অর্থাৎ বাণিজ্য ঘাটতি ছিল। ১৯৯১ সাল থেকে রপ্তানি পণ্যের বাণিজ্য বাড়তে থাকে। ১৯৯৫ সালে WTO-এর সদস্য হওয়ার পর বিশ্ব বাণিজ্যের সাথে দেশটি গভীরভাবে যুক্ত হয় এবং অর্থনীতি দ্রুত পরিবর্তিত হতে থাকে। ১৯৯৭ সালে প্রধান রপ্তানি পণ্য ছিল পাট। পরবর্তীতে নিটওয়্যার, প্লাস্টিক সামগ্রী ও ওষুধ বাণিজ্যের সাথে যুক্ত হয়। উদ্দীপকেও ঘাটতি থেকে রপ্তানি বৃদ্ধি ও WTO-র সদস্যপদ লাভের চিত্র পাওয়া যায়, যা এ ধারার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের শেষ বাক্যে ইঙ্গিতকৃত বাণিজ্য প্রকৃতিটি হলো রপ্তানির বৈচিত্র্যকরণ। একসময় বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্য পাটসহ কয়েকটি পণ্যের ওপর নির্ভরশীল ছিল। ৯০-এর দশক থেকে তৈরি পোশাক ও নিটওয়্যার রপ্তানি শুরু হওয়ায় বাণিজ্যে বৈচিত্র্য এসেছে। বর্তমানে গার্মেন্টস, হিমায়িত খাদ্য, পাট ও পাটজাত দ্রব্য, চামড়া এবং শুকনো মাছ, কুটির শিল্পজাত দ্রব্য, চিংড়ি, প্লাস্টিক সামগ্রীর চিপসের মতো অপ্রচলিত পণ্যও রপ্তানি হচ্ছে। এর তাৎপর্য হলো- ১. একটি পণ্যের দাম কমলেও অন্য পণ্যের আয়ে ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া যায়, ফলে রপ্তানি আয় স্থিতিশীল থাকে। ২. রপ্তানি আয় বাড়ায় বৈদেশিক মুদ্রার অভাব কমে। ৩. পোশাক শিল্পে প্রায় ৩ মিলিয়ন শ্রমিক কাজ করায় (যাদের ৯০% নারী) বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। ৪. বিভিন্ন স্থানে EPZ স্থাপনসহ রপ্তানি শিল্পের উন্নয়ন ঘটেছে। সুতরাং রপ্তানির বৈচিত্র্যকরণ বাংলাদেশের অর্থনীতিকে পাটনির্ভরতা থেকে মুক্ত করে বাণিজ্যে গতি এনেছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও