সাহিত্য পাঠ • বিলাসী

সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন

একাদশ শ্রেণির ছাত্র রামিজ বাজারের পাশ দিয়ে ফিরছিল। চুরির সন্দেহে একজন ফেরিওয়ালাকে ঘিরে ধরে একদল মানুষ মারধর শুরু করে। বন্ধুদের চাপে রামিজও ভিড়ের সঙ্গে এগিয়ে যায়, কিন্তু লোকটির গায়ে হাত তুলতে পারেনি। তার মনে হচ্ছিল, লোকটি দোষী হলেও এভাবে মারা ঠিক নয়। অন্যদিকে তার সহপাঠী তুহিন ভিড় ঠেলে ঢুকে চিৎকার করে বলল, “আগে থানায় খবর দিন, আইন নিজের হাতে তুলে নেবেন না।” বাড়ি ফিরে রামিজ সারা রাত নিজের নীরবতার জন্য অনুতপ্ত থাকল।

  1. ক)

    ‘বিলাসী’ গল্পে কথকের ডাকনাম কী?

    (1)
  2. খ)

    “এটাই যে আমরা ভালো কাজ করিতেছি সেও কিছুতেই মনে করিতে পারিলাম না”—কথক কেন এ কথা বলেছেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের রামিজের মনোভাবে ‘বিলাসী’ গল্পের কথকের যে অন্তর্দ্বন্দ্ব ফুটে উঠেছে তা ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    “উদ্দীপকের তুহিনের ভূমিকাই অন্যায়ের বিরুদ্ধে অধিক যুক্তিসংগত, কথক ন্যাড়ার ভূমিকা নয়”—‘বিলাসী’ গল্পের আলোকে মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ‘বিলাসী’ গল্পে কথকের ডাকনাম ন্যাড়া।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর মৃত্যুঞ্জয়ের খুড়ার নেতৃত্বে গ্রামের লোকেরা বিলাসীকে চুল-কান ধরে হিঁচড়ে গ্রামের বাইরে রেখে আসছিল। কথকও দলের সঙ্গে ছিলেন, কিন্তু বিলাসীর গায়ে হাত দিতে পারেননি। তিনি সমাজের চোখে মৃত্যুঞ্জয় ও বিলাসীর কাজকে অন্যায় মনে করেছিলেন। তবু একজন অসহায় ও সেবাপরায়ণ নারীর ওপর এমন নির্যাতনকে তাঁর বিবেক ভালো কাজ বলে মেনে নিতে পারেনি। তাই তিনি একথা বলেছেন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের রামিজের মনোভাবে ‘বিলাসী’ গল্পের কথক ন্যাড়ার সামাজিক চাপ ও বিবেকের দ্বন্দ্ব ফুটে উঠেছে।

    গল্পে কথক গ্রামের দশ-বারোজনের সঙ্গে বিলাসীকে গ্রামছাড়া করতে গিয়েছিলেন। সমাজের চোখে বিলাসী ও মৃত্যুঞ্জয় অপরাধী—এ কথা তিনি মনে মনে মেনেও নিয়েছিলেন। কিন্তু অসহায় মেয়েটির ওপর অত্যাচার দেখে তাঁর কান্না পাচ্ছিল এবং তিনি তার গায়ে হাত তুলতে পারেননি। উদ্দীপকে রামিজও বন্ধুদের চাপে ভিড়ে মিশেছে, কিন্তু ফেরিওয়ালার গায়ে হাত তুলতে পারেনি; তার বিবেক বলেছে দোষী হলেও এভাবে মারা ঠিক নয়। উভয়ের মধ্যেই সামাজিক চাপ ও বিবেকের টানাপোড়েন স্পষ্ট।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের তুহিন অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য প্রতিবাদ করেছে, আর ‘বিলাসী’ গল্পের কথক ন্যাড়া মনের দ্বন্দ্ব সত্ত্বেও কার্যত নীরব থেকেছেন। এ বিচারে মন্তব্যটি অনেকাংশেই যুক্তিসংগত।

    গল্পে কথক গ্রামের লোকদের সঙ্গে মৃত্যুঞ্জয়ের পোড়াবাড়িতে গিয়েছিলেন এবং বিলাসীর লাঞ্ছনা নিজের চোখে দেখেছেন। বিলাসী যখন রুটিগুলো ঘরে রেখে আসার জন্য মিনতি করছিল, মৃত্যুঞ্জয় দরজায় আঘাত করছিল, তখনও তিনি কাউকে বাধা দেননি। বিবেকের কারণে তিনি বিলাসীর গায়ে হাত তোলেননি এবং তাঁর কান্না পেয়েছে, এটি তাঁর মানবিকতার পরিচায়ক। কিন্তু প্রতিবাদের সাহস তাঁর ছিল না। পরে কথক নিজেই স্বীকার করেছেন যে সেই দিনের কাজ মনে করে তিনি আজও লজ্জায় মরে যান। তুহিন অন্যদিকে নিজের অবস্থান থেকে অন্যায় ঠেকাতে ভিড়ের মুখোমুখি হয়েছে এবং আইনের আশ্রয় নিতে বলেছে। তার ভূমিকা সক্রিয় ও সাহসী।

    তবে ন্যাড়ার অবস্থান পুরোপুরি অগ্রাহ্য করা যায় না, কারণ সেই সমাজে একা প্রতিবাদ করা ছিল প্রায় অসম্ভব। তাঁর অনুশোচনা ও গল্পে ঘটনাটি প্রকাশ করার মধ্য দিয়েই সমাজের নির্মমতা পাঠকের সামনে এসেছে। তবু অন্যায়ের বিরুদ্ধে কার্যকর ভূমিকার বিচারে তুহিনের ভূমিকাই বেশি যুক্তিসংগত।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও