সাহিত্য পাঠ • ঋতু বর্ণন
সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন
পৌষের হাড়কাঁপানো শীতে দিন ছোট হয়ে এসেছে। বিকেল না হতেই কুয়াশায় ঢেকে যায় চারদিক, আর সূর্য অস্ত যায় দ্রুত। রাত হয় দীর্ঘ। গ্রামের শ্রমিক করিম গায়ে পাতলা চাদর জড়িয়ে ঘরে ফেরেন। তাঁর ঘরে লেপ-কাঁথা কম, ঠান্ডায় সারারাত তাঁর ঘুম আসে না। অন্যদিকে শহরের বাবু সাহেবের বাড়িতে শীতের রাত কাটে আরামে।
- ক)(1)
‘ঋতু বর্ণন’ কবিতায় কোন ঋতুতে তাম্বুলের কথা বলা হয়েছে?
- খ)(2)
“শীতের ত্রাসে রবি তুরিতে লুকাএ।”— কেন বলা হয়েছে?
- গ)(3)
“অতি দীর্ঘ সুখ নিশি পলকে পোহাএ।”— উদ্দীপকের আলোকে পঙক্তিটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
“উদ্দীপক ও ‘ঋতু বর্ণন’ কবিতায় শীতকে দুটি ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা হয়েছে।”— আলাওলের কাব্যরুচির আলোকে মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ‘ঋতু বর্ণন’ কবিতায় হেমন্ত ঋতুতে তাম্বুলের কথা বলা হয়েছে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর শীতকালে দিন ছোট হয় এবং সূর্য তাড়াতাড়ি অস্ত যায়। কবি এ বিষয়টিকে মানবিক রূপ দিয়ে বলেছেন, শীতের ভয়ে সূর্য যেন দ্রুত লুকিয়ে পড়ে। ‘ত্রাস’ শব্দের অর্থ ভয় এবং ‘তুরিতে’ অর্থ দ্রুত। এভাবে শীতের তীব্রতা ও দিনের সংক্ষিপ্ততাকে কবি এই পঙক্তিতে চমৎকারভাবে প্রকাশ করেছেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর কবিতায় ‘অতি দীর্ঘ সুখ নিশি পলকে পোহাএ’ বলে শীতের রাতের সুখময়তা বোঝানো হয়েছে। শীতে রাত দীর্ঘ হয়, কিন্তু সুখী মানুষের কাছে সেই দীর্ঘ রাতও যেন চোখের পলকে ভোর হয়ে যায়। উদ্দীপকে দেখা যায়, শীতে দিন ছোট ও রাত দীর্ঘ হয়। শহরের বাবু সাহেবের বাড়িতে এই দীর্ঘ রাত আরামে কাটে, ফলে তাঁদের কাছে রাতের দৈর্ঘ্য কোনো সমস্যা নয়, বরং সুখের। এ দিক থেকে উদ্দীপকের বাবু সাহেবের অভিজ্ঞতা পঙক্তির তাৎপর্যের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ। কিন্তু করিমের কাছে একই দীর্ঘ রাত কষ্টের, কারণ শীতবস্ত্রের অভাবে তাঁর ঘুম আসে না। অর্থাৎ রাতের সুখ-দুঃখ মানুষের অবস্থার ওপর নির্ভর করে। কবিতার পঙক্তিটি সুখী মানুষের অনুভূতির প্রকাশ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর মন্তব্যটি যথার্থ। আলাওল মধ্যযুগের কবি হলেও তাঁর রচনায় নাগরিক চেতনা ও দরবারি রুচির ছাপ স্পষ্ট। ‘ঋতু বর্ণন’ কবিতায় তিনি শীত ও হেমন্তকে ভোগ ও সুখের দৃষ্টিতে দেখেছেন। হেমন্তে পুষ্পতুল্য তাম্বুলে অধিক সুখ হয়। শীতে সূর্য ভয়ে তাড়াতাড়ি লুকিয়ে পড়ে এবং দীর্ঘ রাত সুখে পলকে কেটে যায়। এখানে শীত যেন বিলাস ও আনন্দের উপলক্ষ। এই দৃষ্টিভঙ্গিতে অভাব, কষ্ট বা শীতবস্ত্রহীন মানুষের কোনো স্থান নেই। উদ্দীপকে দুটি চিত্র আছে। শহরের বাবু সাহেবের আরামের রাত কবিতার সুখময় রাতের সঙ্গে মেলে। কিন্তু শ্রমিক করিমের পাতলা চাদর, লেপ-কাঁথার অভাব ও নিদ্রাহীন রাত কবিতায় অনুপস্থিত। শীত তার জন্য উপভোগ্য ঋতু নয়, বরং কষ্টের কারণ। এ থেকে বোঝা যায়, কবিতায় শীতকে আরামদায়ক ও দরবারি ভোগের দৃষ্টিতে দেখা হয়েছে, আর উদ্দীপকে সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের বাস্তব অভিজ্ঞতার দৃষ্টিতে দেখা হয়েছে। সুতরাং মন্তব্যটি সঠিক।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও