সমাজকর্ম ১ম পত্র • সামাজিক নীতি ও পরিকল্পনা এবং সমাজকর্ম
সমাজকর্ম ১ম পত্র প্রশ্ন
একটি জেলা পরিষদের এক কর্মকর্তা নিজের অনুমানের ভিত্তিতে শিশুশ্রম রোধে একটি নীতি তৈরি করেন। নীতিতে কোনো সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়নি, বিশেষজ্ঞ বা স্থানীয় জনগণের কোনো অংশগ্রহণ ছিল না এবং কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্যও যাচাই করা হয়নি। দুই বছর পর এলাকায় বড় একটি কারখানা চালু হলে শিশুশ্রমের ধরন পাল্টে যায়, কিন্তু নীতিটি অপরিবর্তনীয় হওয়ায় তাতে কোনো সংশোধন করা সম্ভব হয়নি। ফলে নীতিটি ব্যর্থ হয়।
- ক)(1)
নীতি অনুধ্যান (Policy study) কী?
- খ)(2)
সামাজিক নীতি নমনীয় ও পরিবর্তনশীল হওয়া প্রয়োজন কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকের নীতিটিতে সামাজিক নীতির কোন কোন বৈশিষ্ট্যের অভাব রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের নীতিটিকে কার্যকর করার জন্য সামাজিক নীতির বৈশিষ্ট্যের আলোকে তোমার সুপারিশ উপস্থাপন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর পরীক্ষামূলক কর্মসূচি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করে তার যথার্থতা অনুসন্ধানের মাধ্যমে নীতির ফলাফল বিশ্লেষণ করার বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়াকে নীতি অনুধ্যান বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর সমাজ ও মানুষের চাহিদা সময়ের সাথে পরিবর্তিত হয়। একটি নীতি বাস্তবায়নের ফলেও সমাজে নতুন পরিবর্তন ঘটে। তাই সামাজিক নীতি চূড়ান্ত নয়, বরং নমনীয় হওয়া দরকার, যাতে বাস্তব অবস্থার সাথে সামঞ্জস্য রেখে তা সংশোধন বা পরিবর্তন করা যায়। কঠোর নীতি পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে অকার্যকর হয়ে পড়ে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের নীতিটিতে একটি উত্তম সামাজিক নীতির বেশ কয়েকটি বৈশিষ্ট্যের অভাব রয়েছে।
১. বাস্তব তথ্যের ভিত্তি: কার্যকর নীতির মূল উপাদান সঠিক ও নির্ভরযোগ্য তথ্য। কিন্তু কর্মকর্তা অনুমানের ওপর নির্ভর করেছেন।
২. বিশেষজ্ঞ কমিটির মাধ্যমে প্রণয়ন: নীতি বিশারদদের কমিটি দ্বারা নীতি প্রণয়ন উত্তম। এখানে একজন কর্মকর্তাই এককভাবে নীতি করেছেন।
৩. জনগণের অংশগ্রহণ: নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে জনগণের অংশগ্রহণের সুযোগ থাকা প্রয়োজন, যা উদ্দীপকে ছিল না।
৪. সময়ভিত্তিক বাস্তবায়ন: উদ্দেশ্য অর্জনের নির্দিষ্ট সময় উল্লেখ থাকা উত্তম নীতির বৈশিষ্ট্য, কিন্তু নীতিতে তা নির্ধারণ করা হয়নি।
৫. নমনীয়তা: নীতিটি পরিবর্তনশীল না হওয়ায় বদলে যাওয়া পরিস্থিতিতে সংশোধন সম্ভব হয়নি। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের শিশুশ্রম রোধ নীতিটি ব্যর্থ হয়েছে কারণ এটি একটি কার্যকর সামাজিক নীতির বৈশিষ্ট্যগুলো ধারণ করেনি। নীতিটিকে কার্যকর করতে নিম্নলিখিত সুপারিশ করা যায়:
১. অনুভূত প্রয়োজনের ভিত্তি: এলাকার জনগণ ও শিশুদের পরিবার শিশুশ্রমের কুফল কতটা উপলব্ধি করে তা যাচাই করে নীতি প্রণয়ন করতে হবে।
২. বাস্তব তথ্য সংগ্রহ: জরিপের মাধ্যমে শিশুশ্রমের সংখ্যা, খাত ও কারণ সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহ করতে হবে।
৩. বিশেষজ্ঞ কমিটি ও নীতি অনুধ্যান: সমাজকর্মী, শিক্ষাবিদ ও আইনবিদদের নিয়ে কমিটি গঠন করে পরীক্ষামূলক কর্মসূচির মাধ্যমে নীতির যথার্থতা যাচাই করতে হবে।
৪. সুস্পষ্ট লক্ষ্য ও সময়সীমা: কত সময়ের মধ্যে কত শতাংশ শিশুশ্রম কমানো হবে, তা নির্দিষ্ট করতে হবে।
৫. জনগণের অংশগ্রহণ: নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে স্থানীয় নেতৃত্ব, অভিভাবক ও কারখানা মালিকদের যুক্ত করতে হবে।
৬. পর্যাপ্ত সম্পদ নিশ্চিত করা: বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় মানব ও বস্তুগত সম্পদের সংস্থান আগেই নিশ্চিত করতে হবে।
৭. নমনীয়তা: নতুন কারখানা বা পরিস্থিতির পরিবর্তনের সাথে মিল রেখে নীতি সংশোধনের সুযোগ রাখতে হবে।
এসব সুপারিশ অনুসরণ করলে নীতিটি বাস্তবসম্মত, গ্রহণযোগ্য ও টেকসই হবে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও