জীববিজ্ঞান • খাদ্য, পুষ্টি এবং পরিপাক

জীববিজ্ঞান প্রশ্ন

রিনা বেগম বাজার থেকে একটি রুই মাছ কিনলেন, যা কয়েকদিন আগে ধরা হলেও দেখতে একদম টাটকা। একই দোকান থেকে তিনি তার ছেলের জন্য রঙিন গোলা আইসক্রিম এবং কাঁচা অবস্থায় পাকানো লালচে টমেটো কিনলেন। পরে এক প্রতিবেশী তাকে জানালেন, মাছ ও আইসক্রিম দুটোতেই ক্ষতিকর রাসায়নিক থাকতে পারে।

  1. ক)

    শুঁটকিতে অননুমোদিতভাবে ব্যবহৃত কীটনাশকের নাম কী?

    (1)
  2. খ)

    ফরমালিনযুক্ত মাছ কয়েকদিন টাটকা দেখা যায় কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    রিনা বেগমের কেনা মাছটি যদি ফরমালিনযুক্ত হয়, তবে তা খেলে মানবদেহে কী ক্ষতি হতে পারে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত আইসক্রিম ও টমেটোর ক্ষেত্রে ব্যবহৃত রাসায়নিক পদার্থগুলোর ক্ষতিকর দিক ও প্রতিকার বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর শুঁটকিতে অননুমোদিতভাবে ডিডিটি (DDT) নামক কীটনাশক ব্যবহার করা হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ফরমালিন একটি রাসায়নিক পদার্থ, যা মর্গে লাশ সংরক্ষণে ব্যবহৃত হয়। ফরমালিনে ডুবানো মাছে পচন সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া জন্ম নিতে পারে না। ফলে মাছ পচে না এবং কয়েকদিন পর্যন্ত টাটকা দেখায়। কিন্তু এই ফরমালিন মাছের কোষের সাথে যৌগ তৈরি করে, যা ধুলেও যায় না এবং মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ফরমালিন মাছের কোষের সাথে একটি যৌগ তৈরি করে ফেলে। মাছ ধোয়া হলেও ঐ যৌগ মাছের দেহে থেকে যায়। রান্না করা মাছের সাথে এই বিষাক্ত যৌগ মানবদেহে প্রবেশ করে। ফলে নানা রকম জটিল রোগের উপসর্গ দেখা দিতে পারে এবং অনেক ক্ষেত্রে ক্যান্সারজাতীয় রোগও হতে পারে। তাই ফরমালিন কখনোই খাদ্য সংরক্ষণে ব্যবহার করা উচিত নয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর আইসক্রিমে ব্যবহৃত রঙ হলো বাণিজ্যিক রং, যা কাপড় বা রঙের কাজে ব্যবহৃত হয়। টমেটো পাকাতে ব্যবহৃত হয়েছে কারবাইড জাতীয় রাসায়নিক পদার্থ।

    ক্ষতিকর দিক:
    ১. বাণিজ্যিক রং আইসক্রিম, গোলা আইসক্রিম, লজেন্স, বড়া ইত্যাদিতে অননুমোদিতভাবে ব্যবহৃত হয়। এসব খাবার ধীরে ধীরে যকৃতের কার্যকারিতা নষ্ট করে এবং নানা রোগ সৃষ্টি করে।
    ২. কাঁচা ফল ও টমেটো পাকাতে মাত্রাতিরিক্ত কারবাইড বা রাসায়নিক ব্যবহার স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এই ফল খেলে বিষক্রিয়ার ঝুঁকি থাকে।
    ৩. রিনা বেগমের ছেলের মতো শিশুরা নিয়মিত এসব খাবার খেলে তাদের যকৃতের কার্যকারিতা নষ্ট হয়ে দেহের সুস্থ বৃদ্ধি ও স্বাস্থ্য ব্যাহত হতে পারে।

    প্রতিকার:
    ১. খাদ্যে শুধু অনুমোদিত খাদ্যরং ব্যবহার করতে হবে, বাণিজ্যিক রং নয়।
    ২. ফলকে প্রকৃতিগতভাবে পাকতে সময় দিতে হবে এবং কারবাইড ব্যবহারে নিরুৎসাহিত করতে হবে।
    ৩. ভোক্তাদের সচেতন হতে হবে এবং ভেজালকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।

    সুতরাং এসব রাসায়নিক জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি এবং প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও