‍ইতিহাস ২য় পত্র • স্নায়ুযুদ্ধ-পরবর্তী বিশ্ব

‍ইতিহাস ২য় পত্র প্রশ্ন

শহরতলির একটি বিশাল প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান কবির সাহেব চার দশকেরও বেশি সময় ধরে সব ক্ষমতা নিজের হাতে রেখে প্রতিষ্ঠানটি চালাচ্ছিলেন। পাশের প্রতিষ্ঠানগুলোতে বছরের পর বছর ধরে ধীরে ধীরে ক্ষমতা বদল ঘটলেও এখানে কয়েক ঘণ্টার স্বতঃস্ফূর্ত বিক্ষোভে তার কর্তৃত্বের পরিসমাপ্তি ঘটে। ঘটনাটি স্থানীয় মানুষের কাছে ‘অবিশ্বাস্য ব্যাপার’ বলে মনে হয়।

  1. ক)

    রুমানিয়ায় কমিউনিস্ট শাসনের অবসান কবে হয়?

    (1)
  2. খ)

    রুমানিয়ার গণজাগরণকে ‘ডিসেম্বরের অলৌকিক ব্যাপার’ বলা হয় কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের কবির সাহেবের সাথে রুমানিয়ার কোন শাসকের মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    ‘পূর্ব ইউরোপীয় অন্যান্য দেশের ক্ষমতা বদলের চিত্র থেকে রুমানিয়ার ক্ষমতা বদলের চিত্র ভিন্ন’— উদ্দীপক ও পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর রুমানিয়ায় কমিউনিস্ট শাসনের অবসান হয় ১৯৮৯ খ্রিষ্টাব্দের ২২শে ডিসেম্বর।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর অন্যান্য পূর্ব ইউরোপীয় দেশে আন্দোলন বছরের পর বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে চলেছিল। কিন্তু রুমানিয়ার স্বতঃস্ফূর্ত গণজাগরণের স্থায়িত্ব ছিল মাত্র কয়েক ঘণ্টা। এই স্বল্প সময়ে চার দশকেরও অধিক পুরনো চসেস্কু শাসনের আকস্মিক ও অপ্রত্যাশিত পতন ঘটে। দ্রুত ও অপ্রত্যাশিত এ পরিবর্তনকে সেখানকার জনগণ ‘ডিসেম্বরের অলৌকিক ব্যাপার’ বলে মনে করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের কবির সাহেবের সাথে রুমানিয়ার কমিউনিস্ট শাসক নিকোলাই চসেস্কুর মিল রয়েছে।

    রুমানিয়ার শাসক চসেস্কু এককভাবে নিরঙ্কুশ ক্ষমতা ভোগ করতেন। তাঁর কর্তৃত্ব স্টালিনের দলীয় পলিটব্যুরোর চরম ক্ষমতার চেয়েও নিরঙ্কুশ ছিল। তাঁর শাসন চার দশকেরও অধিক সময় চলে। উদ্দীপকে কবির সাহেবও চার দশকের বেশি সময় সব ক্ষমতা নিজের হাতে রেখেছিলেন। চসেস্কুর শাসনের অবসান হয় কয়েক ঘণ্টার স্বতঃস্ফূর্ত গণজাগরণে, যা উদ্দীপকের কয়েক ঘণ্টার বিক্ষোভে ক্ষমতাচ্যুতির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে পাশের প্রতিষ্ঠানগুলোর ধীরে ধীরে ক্ষমতা বদল এবং কবির সাহেবের কয়েক ঘণ্টায় ক্ষমতাচ্যুতির যে পার্থক্য দেখানো হয়েছে, পূর্ব ইউরোপের ক্ষেত্রেও তা সত্য। মন্তব্যটি যথার্থ।

    ১. ধারাবাহিকতা বনাম আকস্মিকতা: পোল্যান্ড, হাঙ্গেরি প্রভৃতি দেশে পরিবর্তনের সূচনা ১৯৫৬ বা ১৯৫৭ খ্রিষ্টাব্দে এবং পরিসমাপ্তি ১৯৮৯-৯১-এর মধ্যে। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একটা ধারাবাহিকতা ছিল। রুমানিয়ায় গণজাগরণের স্থায়িত্ব ছিল মাত্র কয়েক ঘণ্টা, তাই একে বৈপ্লবিক অভ্যুত্থান বলা যায়।
    ২. পদ্ধতি: পোল্যান্ডে গোলটেবিল আলোচনা ও নির্বাচনের মাধ্যমে সলিডারিটির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর হয়। হাঙ্গেরিতে সর্বদলীয় বৈঠকে ক্ষমতা হস্তান্তর ও বহুদলীয় গণতন্ত্র চালু হয়। অন্যদিকে রুমানিয়ায় বিপ্লবের চরম নিষ্ঠুর ও হিংসাত্মক রূপ দেখা যায়।
    ৩. শাসকের চরিত্র: রুমানিয়ায় শাসক চসেস্কুর ক্ষমতা ছিল নিরঙ্কুশ, ফলে ক্ষমতা বদলের পথ আলোচনার মধ্য দিয়ে সম্ভব ছিল না।
    ৪. সোভিয়েত সম্পর্ক: চসেস্কু সোভিয়েত নীতির সমালোচক হয়েও রাশিয়ার সাথে ২০ বছরের মৈত্রী চুক্তি করেন এবং হাঙ্গেরির বিপরীতে সেখানে সামরিক হস্তক্ষেপ ঘটেনি।

    সুতরাং ফলাফল একই, অর্থাৎ কমিউনিস্ট শাসনের অবসান, হলেও রুমানিয়ার ক্ষমতা পরিবর্তনের ধরন, গতি ও নিষ্ঠুরতা অন্যান্য দেশ থেকে ভিন্ন ছিল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও