জীববিজ্ঞান • জীবের বংশগতি ও জৈব অভিব্যক্তি

জীববিজ্ঞান প্রশ্ন

রহিমা পরপর দুটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেওয়ার পর তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকেই দোষারোপ করতে লাগল। তারা বলল, 'এ বংশে ছেলে না হওয়ার জন্য রহিমাই দায়ী।' রহিমার স্বামী করিম একজন স্বাভাবিক পুরুষ।

  1. ক)

    বংশগতি কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    মানুষের লিঙ্গ নির্ধারণে মায়ের কোনো ভূমিকা নেই কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে রহিমা ও করিমের দেহে সৃষ্ট গ্যামেটের ধরন উল্লেখ করে কন্যাসন্তান ও পুত্রসন্তান জন্মের প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে রহিমাকে দোষারোপ করা কতটা যুক্তিসংগত? মতামত বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর পিতামাতার বৈশিষ্ট্যগুলো বংশানুক্রমে সন্তানসন্ততির দেহে সঞ্চারিত হওয়ার প্রক্রিয়াকে বংশগতি (Heredity) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর মানুষের নারীদেহে দুটি X ক্রোমোজোম (XX) থাকে। তাই মা সব সময় কেবল X বহনকারী ডিম্বাণু তৈরি করেন। ডিম্বাণুর কোনো ভিন্নতা না থাকায় সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারণে মায়ের ভূমিকা থাকে না। লিঙ্গ নির্ভর করে পিতার X বা Y বহনকারী শুক্রাণুর মধ্যে কোনটি নিষেক ঘটায় তার ওপর।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর রহিমার ক্রোমোজোম XX, ফলে সে সব সময় কেবল X বহনকারী ডিম্বাণু তৈরি করে। করিমের ক্রোমোজোম XY, ফলে সে X বহনকারী ও Y বহনকারী—দুধরনের শুক্রাণু তৈরি করে।
    নিষেকে কেবল একটি শুক্রাণুই ডিম্বাণুর সাথে মিলিত হয়। যদি X বহনকারী শুক্রাণু X বহনকারী ডিম্বাণুকে নিষিক্ত করে, তাহলে জাইগোট হয় XX, অর্থাৎ কন্যাসন্তান জন্মায়। আর যদি Y বহনকারী শুক্রাণু ডিম্বাণুকে নিষিক্ত করে, তাহলে জাইগোট হয় XY, অর্থাৎ পুত্রসন্তান জন্মায়।
    অতএব সন্তান পুত্র হবে নাকি কন্যা হবে, তা নির্ভর করে করিমের কোন শুক্রাণুটি নিষেক ঘটাবে তার ওপর। প্রতিবার গর্ভধারণে পুত্র ও কন্যা হওয়ার সম্ভাবনা সমান (50% : 50%)।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর রহিমাকে দোষারোপ করা যুক্তিসংগত নয়। কারণ নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
    ১. রহিমা XX ক্রোমোজোমবিশিষ্ট নারী, তাই সে সব সময় X বহনকারী ডিম্বাণু তৈরি করে। তার ডিম্বাণু সবই একরকম বলে ছেলে বা মেয়ে হওয়ার ব্যাপারে তার নিয়ন্ত্রণ নেই।
    ২. করিম XY হওয়ায় সে X ও Y দুধরনের শুক্রাণু তৈরি করে। যদি X বহনকারী শুক্রাণু নিষেক ঘটায়, জাইগোট হয় XX অর্থাৎ কন্যা। যদি Y বহনকারী শুক্রাণু নিষেক ঘটায়, জাইগোট হয় XY অর্থাৎ পুত্র।
    ৩. নিষেকে কেবল একটি শুক্রাণুই অংশ নেয় এবং কোন শুক্রাণু সফল হবে তা সম্পূর্ণ সম্ভাবনার ব্যাপার। এ কারণে দুটি কন্যা জন্মানো দৈবক্রমে ঘটেছে এবং পরের সন্তান ছেলে বা মেয়ে হওয়ার সম্ভাবনা এখনও 50%।
    ৪. সুতরাং সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারণে পিতার শুক্রাণুর ভূমিকাই মুখ্য, মা দায়ী নন। তাই রহিমাকে দোষারোপ করা বৈজ্ঞানিকভাবে ভিত্তিহীন।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও