জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • মানব শারীরতত্ত্ব : বর্জ্য ও নিষ্কাশন

জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

রাকিব সাহেবের একটি নেফ্রনের গ্লোমেরুলাসের রক্তচাপ 75 mmHg, কলয়ডীয় অভিস্রবণ চাপ 30 mmHg এবং ক্যাপসুলার স্পেসে পরিশ্রুত তরলের চাপ 20 mmHg। সড়ক দুর্ঘটনায় প্রচুর রক্তক্ষরণের পর তাঁর গ্লোমেরুলাসের রক্তচাপ কমে 50 mmHg হয়ে যায়, অন্য দুটি চাপ অপরিবর্তিত থাকে। এ সময় তাঁকে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়।

  1. ক)

    কার্যকর পরিশ্রাবণ চাপ কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    ইফারেন্ট আর্টারিওলের ব্যাস অ্যাফারেন্ট আর্টারিওলের চেয়ে কম হওয়ার গুরুত্ব ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    দুর্ঘটনার আগে রাকিব সাহেবের কার্যকর পরিশ্রাবণ চাপ নির্ণয় কর। প্রতি মিনিটে 125 ml ফিল্ট্রেট উৎপন্ন হলে তাঁর দুটি বৃক্কে একদিনে মোট কত লিটার ফিল্ট্রেট উৎপন্ন হবে?

    (3)
  4. ঘ)

    রক্তক্ষরণের পর রাকিব সাহেবের বৃক্কের কার্যক্রমে কী পরিবর্তন ঘটবে? উদ্দীপকের তথ্যের আলোকে গাণিতিকভাবে বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর যে চাপের মাধ্যমে রক্তের দ্রাব্য পদার্থ গ্লোমেরুলাস থেকে পরিশ্রুত হয়ে বোম্যানস ক্যাপসুলে জমা হয়, তাকে কার্যকর পরিশ্রাবণ চাপ বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর অ্যাফারেন্ট আর্টারিওল দিয়ে রক্ত গ্লোমেরুলাসে প্রবেশ করে এবং ইফারেন্ট আর্টারিওল দিয়ে বের হয়। ইফারেন্ট আর্টারিওলের ব্যাস সংকীর্ণ হওয়ায় রক্ত সহজে বেরিয়ে যেতে পারে না। ফলে গ্লোমেরুলাসে সর্বদা উচ্চ রক্তচাপ বজায় থাকে। এই উচ্চ হাইড্রোস্ট্যাটিক চাপের কারণেই রক্তের প্রোটিন ও রক্তকণিকা ছাড়া পানি, লবণ, গ্লুকোজ, ইউরিয়া প্রভৃতি পরিশ্রুত হয়ে ক্যাপসুলার স্পেসে জমা হতে পারে। তাই মূত্র সৃষ্টির প্রথম ধাপ আল্ট্রাফিল্ট্রেশনের জন্য এটি অত্যাবশ্যক।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর কার্যকর পরিশ্রাবণ চাপ = গ্লোমেরুলাসের রক্তচাপ − (কলয়ডীয় অভিস্রবণ চাপ + ক্যাপসুলার তরলের চাপ)
    =75−(30+20)= 75 - (30 + 20)
    =75−50=25= 75 - 50 = 25 mmHg

    সুতরাং দুর্ঘটনার আগে কার্যকর পরিশ্রাবণ চাপ ছিল 25 mmHg।

    ফিল্ট্রেট উৎপাদন: প্রতি মিনিটে 125 ml
    একদিনে (24 ঘণ্টা = 1440 মিনিট) ফিল্ট্রেট =125×1440=180000= 125 \times 1440 = 180000 ml =180= 180 লিটার।

    অতএব একদিনে মোট প্রায় 180 লিটার গ্লোমেরুলার ফিল্ট্রেট উৎপন্ন হবে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর রক্তক্ষরণের পর গ্লোমেরুলাসের রক্তচাপ হয় 50 mmHg, কলয়ডীয় অভিস্রবণ চাপ 30 mmHg এবং ক্যাপসুলার তরলের চাপ 20 mmHg।

    নতুন কার্যকর পরিশ্রাবণ চাপ =50−(30+20)=50−50=0= 50 - (30 + 20) = 50 - 50 = 0 mmHg।

    বিশ্লেষণ:
    ১. স্বাভাবিক অবস্থায় এ চাপ ছিল 25 mmHg, যার প্রভাবে মিনিটে প্রায় 125 ml পরিশ্রুত তরল সৃষ্টি হতো। এখন চাপ শূন্য হওয়ায় রক্ত থেকে ক্যাপসুলার স্পেসে তরল পরিশ্রুত হওয়ার মতো কোনো চালিকা শক্তি থাকে না, অর্থাৎ আল্ট্রাফিল্ট্রেশন প্রায় বন্ধ হয়ে যায়।
    ২. পরিশ্রাবণ না ঘটলে মূত্র সৃষ্টিও বন্ধ হয়ে যায় (অ্যানুরিয়া)। রক্তক্ষরণে বৃক্কে রক্তপ্রবাহ কমে যাওয়া তাৎক্ষণিক বৃক্ক বিকলের একটি কারণ।
    ৩. ফলে ইউরিয়া, ক্রিয়েটিনিন ইত্যাদি বর্জ্য রক্তে জমতে থাকবে, পানি ও ইলেকট্রোলাইটের সাম্য নষ্ট হবে এবং পটাশিয়াম আয়ন বেড়ে গিয়ে হৃৎযন্ত্রের ক্রিয়ার ঝুঁকি তৈরি করবে।

    সিদ্ধান্ত: কার্যকর পরিশ্রাবণ চাপ 25 mmHg থেকে 0 mmHg-এ নেমে যাওয়ায় রাকিব সাহেবের বৃক্ক বিকলের ঝুঁকি আছে; তাই দ্রুত রক্ত ও তরল সরবরাহ করে গ্লোমেরুলাসের চাপ স্বাভাবিক করা এবং প্রয়োজনে ডায়ালাইসিস করা জরুরি।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও