সাহিত্য পাঠ • ফুল্লরার বারোমাস্যা

সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন

ঈদের আগের দিন আনোয়ার সাহেব তাঁর তিন সন্তানের জন্য নতুন জামা কিনে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে দেখলেন, তাঁর বাড়ির কাজের মেয়ে লতা ছেঁড়া শাড়ি পরে অন্যদের নতুন পোশাক পরার আনন্দ দূর থেকে দেখছে। সবার ঘরে সেদিন পোলাও-মাংসের গন্ধ, আর লতা সারাদিন একবেলা শুধু ভাত খেয়ে আছে। পরিবারের দুঃখের কথা সে কাউকে বলেনি।

  1. ক)

    ‘অম্বিকা পূজা’ বলতে কী বোঝায়?

    (1)
  2. খ)

    “অভাগী ফুল্লরা করে উদরের চিন্তা।”— ফুল্লরা এ কথা বলেছে কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের লতার অবস্থার সঙ্গে ‘ফুল্লরার বারোমাসী’র কোন মাসের চিত্রের মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    “উদ্দীপক ও ‘ফুল্লরার বারোমাসী’তে সমাজের অর্থনৈতিক বৈষম্যের চিত্র ফুটে উঠলেও দুঃখ প্রকাশের ধরনে পার্থক্য আছে।”— বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ‘অম্বিকা পূজা’ বলতে দুর্গাপূজাকে বোঝায়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর আশ্বিন মাসে দুর্গাপূজা উপলক্ষে সবাই ছাগল-মহিষ বলি দিয়ে আনন্দ করে এবং ভালো কাপড় পরে সাজে। কিন্তু ফুল্লরার সংসারে খাবারেরই অভাব। উৎসবের আনন্দে অংশ নেওয়ার সামর্থ্য তার নেই, বরং কীভাবে পেট ভরবে সেটিই তার প্রধান চিন্তা। তাই সে নিজেকে ‘অভাগী’ বলে আক্ষেপ করেছে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের লতার অবস্থার সঙ্গে ‘ফুল্লরার বারোমাসী’র আশ্বিন মাসের চিত্রের মিল রয়েছে। আশ্বিন মাসে অম্বিকা পূজা উপলক্ষে জনে জনে ছাগল, মহিষ, মেষ বলি দিয়ে উৎসব করে। নারীরা সুন্দর পোশাকে সাজে। কিন্তু অভাগী ফুল্লরা সেই সময়ও উদরের চিন্তায় ব্যস্ত থাকে। উদ্দীপকেও ঈদের আনন্দে সবাই নতুন পোশাকে ও ভালো খাবারে মেতে আছে, অথচ লতা ছেঁড়া শাড়ি পরে সারাদিন একবেলা ভাত খেয়ে দিন কাটাচ্ছে। দুজনেরই চারপাশে উৎসবের আয়োজন, কিন্তু নিজেরা তা থেকে বঞ্চিত। এ কারণেই মিলটি স্পষ্ট।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপক ও ‘ফুল্লরার বারোমাসী’ উভয়ক্ষেত্রেই সমাজের ধনী ও দরিদ্রের ব্যবধান স্পষ্ট। উদ্দীপকে ঈদের আনন্দে অন্যরা নতুন জামা ও পোলাও-মাংসে মেতে থাকলেও লতা ছেঁড়া শাড়িতে ও অনাহারে দিন কাটায়। ‘ফুল্লরার বারোমাসী’তে আশ্বিনে সবাই বলি দিয়ে পূজা করে ও উত্তম বসনে সাজে, কার্তিকে সবার কাপড় থাকলেও ফুল্লরা পরে হরিণের ছাল। এখানে ঋতু ও উৎসবের পাশে ফুল্লরার বঞ্চনা আরও প্রকট হয়েছে। তবে দুঃখ প্রকাশের ধরন ভিন্ন। উদ্দীপকের লতা তার দুঃখের কথা কাউকে বলে না, নীরবে সহ্য করে। অন্যদিকে ফুল্লরা নিজের দুঃখ মাসে মাসে বিস্তারিত বর্ণনা করে। সে ‘দুঃখ কর অবধান’ বলে শ্রোতাকে নিজের অভাবের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনতে বলে এবং ‘অভাগী’ বলে নিজের ভাগ্যের প্রতি আক্ষেপ করে। কবিতার ফুল্লরা তাই মুখর ও আক্ষেপপূর্ণ, আর উদ্দীপকের লতা নীরব ও আত্মসংবৃত। দুই চরিত্রের দারিদ্র্যজনিত বঞ্চনা অভিন্ন হলেও প্রকাশভঙ্গির এই পার্থক্যই তাদের আলাদা করেছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও