হিসাববিজ্ঞান ১ম পত্র • হিসাববিজ্ঞানের নীতিমালা

হিসাববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

‘সানরাইজ গ্রুপ’ বাংলাদেশের একটি রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠান, যার শাখা যুক্তরাজ্য, কানাডা ও ভারতে রয়েছে। প্রতিটি দেশের শাখা মজুদ পণ্যের মূল্যায়ন ও অবচয় নির্ণয় ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতিতে করায় শাখাগুলোর আর্থিক বিবরণীর তথ্যের মধ্যে বড় পার্থক্য দেখা যায় এবং একত্রিত আর্থিক বিবরণী তৈরি করা কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানালেন, ১৯৭৩ সালে ৯টি দেশের ১৬টি হিসাব সংস্থার সদস্য নিয়ে লন্ডনে গঠিত একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রণীত মান সব শাখায় অনুসরণ করা হবে।

  1. ক)

    FASB-এর পূর্ণরূপ কী?

    (1)
  2. খ)

    SEC হিসাববিজ্ঞান নীতিমালা প্রণয়ন করে না কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত আন্তর্জাতিক সংস্থাটির পরিচয় দাও এবং এর কার্যাবলি ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের সমস্যা সমাধানে উক্ত সংস্থার ভূমিকা মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর FASB-এর পূর্ণরূপ Financial Accounting Standard Board।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর SEC একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান, যার কাজ হিসাববিজ্ঞান নীতিমালা বাস্তবায়ন এবং পাবলিক মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের আর্থিক রিপোর্টিং সঠিকভাবে উপস্থাপিত হচ্ছে কি না তা তদারকি করা। নীতিমালা প্রণয়ন করে FASB। SEC শুধু FASB কর্তৃক প্রণীত নীতিমালা অনুসরণ করতে পাবলিক মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানকে বাধ্য করে। তাই SEC নিজে কোনো নীতিমালা প্রণয়ন করে না।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে উল্লিখিত সংস্থাটি হলো আন্তর্জাতিক হিসাবমান কমিটি (International Accounting Standard Committee-IASC)।

    পরিচয়: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ব্যবসায়-বাণিজ্য দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে পড়া ও বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান গঠিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক হিসাবমানের প্রয়োজন দেখা দেয়। এ লক্ষ্যে ১৯৭৩ সালে ৯টি দেশের ১৬টি হিসাব সংস্থার সদস্য নিয়ে IASC গঠিত হয়। এর প্রধান কার্যালয় লন্ডনে।

    কার্যাবলি:
    ১. আর্থিক বিবরণী প্রস্তুতের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে প্রামাণ্য নীতি রচনা করে বিবৃতি প্রদান করা।
    ২. সদস্য প্রতিষ্ঠানের মতামত নিয়ে নীতি অনুমোদন ও প্রকাশ করা।
    ৩. মজুদ পণ্যের মূল্যায়ন, অবচয়ের পরিমাণ নিরূপণ, মুদ্রাস্ফীতির প্রভাব দেখিয়ে হিসাবকরণ, আয়করের নীতি নির্ধারণ ও কর্মচারীদের সুযোগ-সুবিধা সংক্রান্ত নীতি নির্ধারণ করা।
    ৪. বিভিন্ন দেশ ও প্রতিষ্ঠানের আর্থিক বিবরণীর তথ্যে যাতে বেশি পার্থক্য না থাকে তা নিশ্চিত করা।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর সানরাইজ গ্রুপের সমস্যা হলো বিভিন্ন দেশের শাখায় মজুদ পণ্যের মূল্যায়ন ও অবচয় নির্ণয়ের পদ্ধতি ভিন্ন হওয়ায় আর্থিক বিবরণীর তথ্যে অসামঞ্জস্য এবং একত্রিত বিবরণী প্রস্তুতে জটিলতা। এ সমস্যা সমাধানে IASC-এর ভূমিকা নিম্নরূপ।

    ১. অভিন্ন পদ্ধতি নির্ধারণ: IASC মজুদ পণ্যের মূল্যায়ন ও অবচয় নিরূপণের আন্তর্জাতিক নীতি প্রণয়ন করেছে। সব শাখা এ মান অনুসরণ করলে তিন দেশেই একই পদ্ধতিতে মজুদ পণ্য ও অবচয় নির্ণীত হবে।
    ২. তথ্যের তুলনীয়তা: আন্তর্জাতিক মান অনুসরণে বিভিন্ন দেশের আর্থিক বিবরণীর মধ্যে পার্থক্য কমে, ফলে শাখাগুলোর ফলাফল সহজে তুলনা করা যায়।
    ৩. একত্রিত বিবরণী প্রস্তুত: অভিন্ন নীতিতে প্রস্তুত শাখা বিবরণীগুলো সহজে একত্র করে গ্রুপের একটি সমন্বিত আর্থিক বিবরণী তৈরি করা সম্ভব হয়।
    ৪. গ্রহণযোগ্যতা: আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ করলে বিনিয়োগকারী, ঋণদাতা ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে গ্রুপের আর্থিক তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়ে।

    তবে IASC-এর মান বাস্তবায়নে প্রতিটি শাখার হিসাব কর্মীদের প্রশিক্ষণ ও আভ্যন্তরীণ ব্যবস্থার পরিবর্তন প্রয়োজন। সার্বিকভাবে বলা যায়, IASC-এর মান অনুসরণই সানরাইজ গ্রুপের সমস্যা সমাধানের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও