ভূগোল ২য় পত্র • মানচিত্র অভিক্ষেপ

ভূগোল ২য় পত্র প্রশ্ন

সুমি একটি বিশ্বমানচিত্র আঁকার জন্য সরল বেলনাকার অভিক্ষেপ অঙ্কন করছে। সে প্রতিভূ অনুপাত ১ : ২৫০,০০০,০০০ এবং ৩০° ব্যবধান নিয়েছে। সে পৃথিবীর প্রকৃত গড় ব্যাসার্ধ ২৫০,০০০,০০০ ইঞ্চি এবং π=3.14\pi = 3.14 ধরেছে। অঙ্কনের পর সে দেখল ছকটি কতগুলো সমান বর্গক্ষেত্রের সমষ্টি হয়েছে, কিন্তু মানচিত্রে গ্রিনল্যান্ডকে আসল আকারের চেয়ে অনেক বড় দেখাচ্ছে।

  1. ক)

    পাঠ্যবই অনুযায়ী মানচিত্র অঙ্কনে পৃথিবীর প্রকৃত গড় ব্যাসার্ধ কত ইঞ্চি ধরা হয়?

    (1)
  2. খ)

    সরল বেলন অভিক্ষেপে ছকটি বর্গক্ষেত্রের সমষ্টি হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের তথ্য অনুযায়ী মানচিত্রে নিরক্ষরেখার দৈর্ঘ্য এবং ৩০° ব্যবধানে অক্ষরেখা ও দ্রাঘিমারেখার মধ্যবর্তী ব্যবধান নির্ণয় করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের অভিক্ষেপটি অঙ্কনের পদ্ধতি ধাপে ধাপে বর্ণনা করো এবং এতে গ্রিনল্যান্ডকে বড় দেখানোর কারণ বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর পাঠ্যবই অনুযায়ী পৃথিবীর প্রকৃত গড় ব্যাসার্ধ ২৫০,০০০,০০০ ইঞ্চি ধরা হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর সরল বেলন অভিক্ষেপে অক্ষরেখা ও দ্রাঘিমারেখার ব্যবধান সর্বত্র সমান রাখা হয়। এই রেখাগুলো সরলরেখা এবং পরস্পরকে সমকোণে ছেদ করে। সমান ব্যবধানে অঙ্কিত সমান্তরাল ও লম্ব রেখাগুলো ছেদ করে সমান বাহুবিশিষ্ট ও সমকোণী ক্ষেত্র তৈরি করে। তাই সমগ্র ছকটি কতগুলো সমান বর্গক্ষেত্রের সমষ্টি হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর মানচিত্রে পৃথিবীর ব্যাসার্ধ, r=250,000,000′′250,000,000=1′′r = \frac{250{,}000{,}000''}{250{,}000{,}000} = 1''
    নিরক্ষরেখার দৈর্ঘ্য =2πr=2×3.14×1′′=6.28′′= 2\pi r = 2 \times 3.14 \times 1'' = 6.28''
    ৩০° ব্যবধানে রেখাগুলোর মধ্যবর্তী ব্যবধান =6.28′′360∘×30∘=0.52′′= \frac{6.28''}{360^\circ} \times 30^\circ = 0.52'' (প্রায়)
    অতএব, নিরক্ষরেখার দৈর্ঘ্য 6.28′′6.28'' এবং ৩০° ব্যবধানে রেখাগুলোর মধ্যবর্তী ব্যবধান প্রায় 0.52′′0.52''।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের অভিক্ষেপটি সরল বেলনাকার অভিক্ষেপ।
    অঙ্কন পদ্ধতি:
    ধাপ ১: ৬.২৮ ইঞ্চি দৈর্ঘ্যের একটি নিরক্ষরেখা আঁকতে হবে।
    ধাপ ২: ৩০° ব্যবধান অনুযায়ী ০.৫২ ইঞ্চি মাপ নিয়ে রেখাটিকে 360∘30∘=12\frac{360^\circ}{30^\circ} = 12 টি সমান ভাগে ভাগ করতে হবে।
    ধাপ ৩: ভাগবিন্দুগুলো থেকে নিরক্ষরেখার ওপর লম্ব টেনে দ্রাঘিমারেখাগুলো আঁকতে হবে।
    ধাপ ৪: নিরক্ষরেখার উভয় দিকে লম্বের ওপর ০.৫২ ইঞ্চি করে নিয়ে উভয় দিকে 90∘30∘=3\frac{90^\circ}{30^\circ} = 3 টি করে অক্ষরেখার অবস্থান (৩০°, ৬০°, ৯০°) চিহ্নিত করতে হবে।
    ধাপ ৫: ওই বিন্দুগুলো দিয়ে নিরক্ষরেখার সমান্তরাল অক্ষরেখাগুলো আঁকতে হবে।
    ধাপ ৬: ছকের ওপরে অভিক্ষেপের নাম এবং নিচে মাঝামাঝি স্থানে প্র. অ. ১ : ২৫০,০০০,০০০ লিখতে হবে।
    গ্রিনল্যান্ড বড় দেখানোর কারণ: গ্রিনল্যান্ড উচ্চ অক্ষাংশে অবস্থিত। বাস্তবে উচ্চ অক্ষাংশে দ্রাঘিমারেখাগুলো পরস্পরের নিকটবর্তী হয়, কিন্তু এই অভিক্ষেপে দ্রাঘিমারেখাগুলো সমান্তরাল ও সমব্যবধানে আঁকা হয়। ফলে নিরক্ষরেখা থেকে দূরে অক্ষরেখার স্কেল বর্ধিত হয় এবং উচ্চ অক্ষাংশের দেশের আকৃতি ও আয়তন বিকৃত হয়ে বড় দেখায়। এ কারণে অভিক্ষেপটি সম আয়তনিকও নয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও