সাহিত্য পাঠ • নবান্ন

সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন

রহিম মিয়া এবার দেড় বিঘা জমিতে আমন ধান লাগিয়েছিলেন। ধারদেনা করে সার-বীজ কিনেছেন, বর্ষায় রাত জেগে বাঁধ পাহারা দিয়েছেন। ধান কাটার আর মাত্র সপ্তাহখানেক বাকি। এমন সময় এক রাতের ঢলে বাঁধ ভেঙে সব ধান পানির নিচে তলিয়ে যায়। সকালে ডুবে যাওয়া মাঠের পাড়ে দাঁড়িয়ে তিনি শুধু বলেন, “এত কষ্টের ফসল, সব শেষ।”

  1. ক)

    ‘নবান্ন’ কবিতাটি যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত?

    (1)
  2. খ)

    “দুর্যোগে সবে বালির বাঁধনে বাঁধিনু বন্যাধারা”— বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের রহিম মিয়ার সংগ্রামের সঙ্গে ‘নবান্ন’ কবিতার কৃষকের সংগ্রামের মিল ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    “উদ্দীপকে ‘নবান্ন’ কবিতার সামগ্রিক ভাব প্রকাশ পায়নি।”— মন্তব্যটির যথার্থতা নিরূপণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ‘নবান্ন’ কবিতাটি যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের ‘মরুমায়া’ কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ‘বালির বাঁধ’ একটি প্রবাদ, যার অর্থ ক্ষণভঙ্গুর বা অস্থায়ী কিছু। কবিতায় কৃষক ফসল বাঁচাতে দুর্যোগের মুখে যথাসাধ্য চেষ্টা করেছেন, বন্যার স্রোত ঠেকাতে বাঁধ দিয়েছেন। কিন্তু বালির বাঁধ যেমন সহজেই ভেঙে যায়, তেমনি তাঁর সব চেষ্টা শেষ পর্যন্ত নিষ্ফল হয়েছে। চরণটিতে কৃষকের প্রাণান্ত প্রয়াস এবং তার ব্যর্থতার বেদনা একসঙ্গে প্রকাশ পেয়েছে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের রহিম মিয়ার সংগ্রামের সঙ্গে ‘নবান্ন’ কবিতার কৃষকের সংগ্রামের মিল রয়েছে ফসল রক্ষার জন্য প্রাণপণ শ্রম ও শেষ মুহূর্তে সর্বনাশের দিক থেকে। ‘নবান্ন’ কবিতার কৃষক বৈশাখ থেকে আশ্বিন পর্যন্ত আশা-আতঙ্কে দিন কাটিয়েছেন। দুর্যোগে বন্যার স্রোত ঠেকাতে বাঁধ দিয়েছেন এবং বুকের রক্ত জল করে মলিন চারাগুলোকে সেচ দিয়ে বাঁচিয়েছেন। উদ্দীপকের রহিম মিয়াও ধারদেনা করে ফসল ফলিয়েছেন এবং বর্ষায় রাত জেগে বাঁধ পাহারা দিয়েছেন। কবিতার কৃষকের ক্ষেতভরা পাকা ধানে এক রাতেই মই পড়ে যায়; উদ্দীপকে ধান কাটার এক সপ্তাহ আগে এক রাতের ঢলে সব ফসল তলিয়ে যায়। উভয়ের কঠোর শ্রমের ফসল ঘরে তোলার ঠিক আগ মুহূর্তে বিনষ্ট হয়েছে। এ কারণে উদ্দীপকের রহিম মিয়ার সংগ্রাম ও বেদনা ‘নবান্ন’ কবিতার কৃষকের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর “উদ্দীপকে ‘নবান্ন’ কবিতার সামগ্রিক ভাব প্রকাশ পায়নি”— মন্তব্যটি যথার্থ। উদ্দীপকে রহিম মিয়ার ফসল হারানোর বেদনা এবং প্রাণান্ত শ্রমের ব্যর্থতার দিকটি ফুটে উঠেছে। কবিতার মূল ভাবের এই অংশটুকু উদ্দীপকে বিদ্যমান। কিন্তু ‘নবান্ন’ কবিতার পরিধি আরও বিস্তৃত। কবিতায় অগ্রহায়ণে নবান্ন উৎসবের আনন্দময় পরিবেশ আছে: পাড়ায় পাড়ায় উৎসব, আঙিনায় আলপনা, মরাইয়ের সারাই এবং লক্ষ্মীর কৃষির দিকে ফিরে আসার স্বপ্ন। উদ্দীপকে এই উৎসবের প্রস্তুতি ও আনন্দের বর্ণনা নেই। আবার কবিতায় ধ্বংসের কারণ প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়; ‘পাকা ধানে মই’ মানুষের হাতে ঘটা ক্ষতিকে ইঙ্গিত করে এবং কারণ অনুসন্ধানও কবি করেননি, অথচ উদ্দীপকে কারণ স্পষ্ট: বন্যা। তা ছাড়া কবিতায় বন্ধুকে দুঃখের কথা শোনানো এবং বন্ধুর অসহিষ্ণুতায় গল্প থেমে যাওয়ার নাটকীয় ভঙ্গি আছে, উদ্দীপকে তা নেই। সর্বোপরি কবিতায় ‘পাকা ধান’ ও কৃষকের প্রতীকে কবির নিজের সৃষ্টি নষ্ট হওয়ার বেদনার যে গভীর প্রতীকী তাৎপর্য রয়েছে, উদ্দীপকে তা অনুপস্থিত। তাই উদ্দীপকে কবিতার আংশিক ভাব প্রকাশ পেয়েছে, সামগ্রিক ভাব নয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও