হিসাববিজ্ঞান • হিসাববিজ্ঞান পরিচিতি

হিসাববিজ্ঞান প্রশ্ন

দাদু বলেন, তাঁর ছোটবেলায় গ্রামের কৃষকেরা ধান ও পাটের মজুদের হিসাব রশিতে গিঁট দিয়ে রাখতেন। সেই গ্রামেরই নাতি রিয়াদ এখন শহরে 'রিয়াদ জেনারেল স্টোর' চালায়। সে ক্রয়-বিক্রয়, জমা-খরচ ও দেনা-পাওনার লেনদেন কম্পিউটারে হিসাব সফটওয়্যারে লিখে রাখে। ফলে মাস শেষে অল্প সময়েই সে আর্থিক বিবরণী পেয়ে যায় এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

  1. ক)

    দুতরফা দাখিলা পদ্ধতি কে ব্যাখ্যা করেন?

    (1)
  2. খ)

    হিসাববিজ্ঞানের পরিধি বৃদ্ধি পেয়েছে কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে দাদুর ছোটবেলার হিসাবরক্ষণ পদ্ধতিটি হিসাববিজ্ঞানের ক্রমবিকাশের কোন পর্যায়কে নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    রিয়াদের হিসাব সংরক্ষণ পদ্ধতিতে দাদুর সময়ের পদ্ধতির তুলনায় কী কী সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে? বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উন্নতির আলোকে বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ১৪৯৪ খ্রিস্টাব্দে ইতালীয় গণিতবিদ লুকা প্যাসিওলি তাঁর 'সুম্মা ডি এরিথমেটিকা' গ্রন্থে দুতরফা দাখিলা পদ্ধতি ব্যাখ্যা করেন।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর সময়ের সাথে সাথে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও ব্যবসায়-বাণিজ্যের অগ্রগতি হয়েছে। ব্যবসায় যেমন ছোট থেকে বড় হয়েছে, তেমনি হিসাববিজ্ঞানের পরিধিও বেড়েছে। ফলে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনের পাশাপাশি ব্যবসায়িক, অব্যবসায়িক, সরকারি, বেসরকারি, মুনাফাভোগী ও অমুনাফাভোগী সকল প্রতিষ্ঠানেই এখন হিসাববিজ্ঞানের ব্যবহার দেখা যায়। এভাবেই এর পরিধি বৃদ্ধি পেয়েছে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে দাদুর ছোটবেলায় কৃষকেরা রশিতে গিঁট দিয়ে ফসল ও মজুদের হিসাব রাখতেন। এটি হিসাববিজ্ঞানের একেবারে প্রাথমিক পর্যায়কে নির্দেশ করে।

    সভ্যতার শুরুতে মানুষ গাছের গায়ে, গুহায় বা পাথরে চিহ্ন দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার হিসাব রাখত। পরে মানুষ সমাজবদ্ধ হয়ে কৃষিকাজ শুরু করলে ঘরে দাগ কেটে এবং রশিতে গিঁট দিয়ে ফসল ও মজুদের হিসাব রাখা শেখে। উদ্দীপকের গিঁট দিয়ে ধান ও পাটের মজুদ রাখার পদ্ধতি এই পর্যায়ের সাথে মিলে যায়। তখনো মুদ্রার প্রচলন, ব্যবসায়-বাণিজ্য বা অঙ্কের মাধ্যমে হিসাবের বইতে লেখার রীতি পুরোপুরি গড়ে ওঠেনি। তাই এটি হিসাববিজ্ঞানের আদিম বা সূচনা পর্যায়কে নির্দেশ করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের রিয়াদ কম্পিউটারে হিসাব রাখে, যা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উন্নতির ফল। দাদুর সময়ের গিঁট দেওয়া পদ্ধতির তুলনায় এতে একাধিক সুবিধা পাওয়া যায়।

    ১. সময় ও শ্রম লাঘব : হাতে লেখা বইয়ের পরিবর্তে কম্পিউটারে লিখলে লেনদেন লিপিবদ্ধ করতে ও হিসাব মেলাতে কম সময় ও শ্রম লাগে।
    ২. দ্রুত আর্থিক বিবরণী প্রস্তুত : রিয়াদ মাস শেষে অল্প সময়ে আর্থিক বিবরণী পেয়ে যায়। গিঁট দেওয়া পদ্ধতিতে এমন বিবরণী পাওয়া সম্ভব ছিল না।
    ৩. দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ : তথ্য দ্রুত পাওয়া যায় বলে ক্রয়, বিক্রয়, বাকি আদায় ইত্যাদি বিষয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত তাড়াতাড়ি নেওয়া যায়।
    ৪. বহু ধরনের লেনদেন লিপিবদ্ধ করা : গিঁট দিয়ে কেবল ফসল ও মজুদের হিসাব রাখা যেত। কিন্তু কম্পিউটারে ক্রয়-বিক্রয়, জমা-খরচ ও দেনা-পাওনাসহ সব ধরনের লেনদেন অঙ্কের মাধ্যমে লেখা যায়।

    উপসংহার : বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রগতির সাথে হিসাববিজ্ঞানের উন্নতি সম্পর্কিত। রিয়াদের কম্পিউটারভিত্তিক পদ্ধতি দাদুর সময়ের পদ্ধতির চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর ও আধুনিক।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও