জীববিজ্ঞান • জীবের পরিবেশ

জীববিজ্ঞান প্রশ্ন

বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার একটি গ্রামে ক্রমাগত বনাঞ্চল কাটার ফলে বৃষ্টিপাত কমে গেছে এবং চাষাবাদের ক্ষতি হচ্ছে। একই সাথে নতুন নতুন কলকারখানা থেকে প্রচুর কার্বন ডাই-অক্সাইড ও মিথেন গ্যাস নির্গত হচ্ছে। এ অবস্থায় ওই এলাকার স্থানীয় সরকার জনসাধারণকে সাথে নিয়ে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় একটি কর্মপরিকল্পনা তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কৃষকেরা এখনো অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার করছেন।

  1. ক)

    বাংলাদেশ জীববৈচিত্র্য আইন কত সালে প্রণীত হয়?

    (1)
  2. খ)

    মাত্রাতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত গ্যাসগুলোর বৃদ্ধি ওই উপকূলীয় এলাকার জন্য কী ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের স্থানীয় সরকারের কর্মপরিকল্পনায় পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় তুমি কী কী পদক্ষেপ অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ দেবে? যুক্তিসহ বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর বাংলাদেশ জীববৈচিত্র্য আইন ২০১৭ সালে প্রণীত হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর মাত্রাতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহারের ফলে মাটির গুণাগুণ নষ্ট হয়। এগুলো মাটির উপকারী জীবাণু ও স্থলজ পোকামাকড় ধ্বংস করে। এছাড়া এসব রাসায়নিক পানিতে মিশে জলজ বাস্তুতন্ত্রকেও নষ্ট করে। ফলে জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হয় ও বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য বিনষ্ট হয়। তাই এগুলোর পরিবর্তে জৈবসার ব্যবহার করা উচিত।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে উল্লিখিত কার্বন ডাই-অক্সাইড ও মিথেন গ্রিনহাউস গ্যাসের অন্তর্ভুক্ত। এ ধরনের গ্যাস বৃদ্ধি পেলে বায়ুর তাপমাত্রা বেড়ে যায়, যাকে গ্রিনহাউস ইফেক্ট বলে। এর ফলে উপকূলীয় এলাকায় নিম্নোক্ত বিপর্যয় দেখা দিতে পারে:
    ১. সমুদ্রের পানির উচ্চতা বেড়ে উপকূল অঞ্চল তলিয়ে যাবে।
    ২. আবহাওয়ার পরিবর্তন হবে এবং ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের তীব্রতা বেড়ে যাবে।
    ৩. বনাঞ্চল ধ্বংস হবে এবং বিভিন্ন রোগবালাইয়ের প্রভাবে ফসলের ক্ষতি হবে।
    ৪. মানুষের মধ্যে নতুন নতুন রোগের প্রকোপ দেখা দেবে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের এলাকাটিতে বনাঞ্চল ধ্বংস, গ্রিনহাউস গ্যাস বৃদ্ধি এবং অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহারের সমস্যা রয়েছে। এ সমস্যা মোকাবিলায় নিচের পদক্ষেপগুলো কর্মপরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ দেব:
    ১. বৃক্ষরোপণ: প্রতিদিন যত গাছ কাটা হবে তার দ্বিগুণ গাছ লাগাতে হবে এবং স্থানোপযোগী গাছ লাগাতে হবে, যা বাস্তুতন্ত্র রক্ষায় সহায়ক। এতে বৃষ্টিপাত ও চাষাবাদ স্বাভাবিক থাকবে এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড কমবে।
    ২. গ্রিনহাউস গ্যাস হ্রাস: কলকারখানা স্থাপনের আগে পরিবেশের ওপর প্রভাব বিবেচনা করতে হবে এবং বর্জ্যের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা করতে হবে। জ্বালানি হিসেবে কাঠের পরিবর্তে সৌরশক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। এতে কার্বন ডাই-অক্সাইড ও মিথেন উৎপাদন কমবে।
    ৩. জৈবসারের ব্যবহার: রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার কমিয়ে জৈবসার ব্যবহার বাড়াতে হবে। এতে মাটির উপকারী জীবাণু ও জলজ বাস্তুতন্ত্র রক্ষা পাবে।
    ৪. গণসচেতনতা ও আইন: প্রচারমাধ্যমের সাহায্যে জনসচেতনতা বাড়াতে হবে এবং বাংলাদেশ জীববৈচিত্র্য আইন ২০১৭ ও পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে।
    এ পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়িত হলে পরিবেশ সুরক্ষিত থাকবে, গ্রিনহাউস ইফেক্টের ঝুঁকি কমবে এবং জীববৈচিত্র্য টিকে থাকবে। কারণ জীববৈচিত্র্য টিকে না থাকলে মানুষের অস্তিত্বও টিকে থাকতে পারে না।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও