জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • মানবদেহের প্রতিরক্ষা (ইমিউনিটি)
জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
ল্যাবে দুটি ফ্যাগোসাইটিক কোষ X ও Y পর্যবেক্ষণ করে নিচের তথ্যগুলো সংগ্রহ করা হলো:
| বৈশিষ্ট্য | কোষ X | কোষ Y |
|---|---|---|
| উৎপত্তি | রক্তের মনোসাইট থেকে টিস্যুতে রূপান্তরিত | অস্থিমজ্জার স্টেমকোষ থেকে সরাসরি |
| ভক্ষণ ক্ষমতা | প্রায় ১০০টি ব্যাকটেরিয়া | ৩–২০টি ব্যাকটেরিয়া |
| জীবনকাল | বেশ কয়েক মাস | রক্তে ১২ ঘণ্টা থেকে ৩ দিন |
| মোট শ্বেতকণিকায় অংশ | কম | ৬০–৭০% |
জীবাণু ভক্ষণের পর দেখা গেল, কোষ Y-এর ভিতরে লাইসোজোমের রাসায়নিক পদার্থ সাইটোপ্লাজমে মুক্ত হয়ে কোষটি মারা গেছে।
- ক)(1)
ফ্যাগোসোম কী?
- খ)(2)
ফ্যাগোসাইটোসিসের সময় ক্ষতস্থানে ম্যাক্রোফেজ জড়ো হওয়াকে কেমোট্যাক্সিস বলা হয় কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকের কোষ X দ্বারা একটি ব্যাকটেরিয়াম গ্রাসের পর ফ্যাগোলাইসোজোম সৃষ্টি ও ব্যাকটেরিয়া ধ্বংসের ধাপগুলো ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
কোষ Y মারা গেলেও দেহের প্রতিরক্ষায় X ও Y উভয়েরই প্রয়োজন আছে—উদ্দীপকের তথ্যের আলোকে এর যথার্থতা মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ফ্যাগোসাইট ক্ষণপদ দিয়ে ব্যাকটেরিয়াকে ঘিরে ধরার পর ক্ষণপদের অগ্রভাগ একীভূত হয়ে যে ঝিল্লিবেষ্টিত থলিকা তৈরি হয়, তাকে ফ্যাগোসোম বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ক্ষতস্থানে জীবাণুর সংক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত টিস্যু থেকে কাইনিন, হিস্টামিন, প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন এবং ব্যাকটেরিয়ার ক্ষরিত বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ তৈরি হয়। এসব রাসায়নিক পদার্থ দ্বারা উদ্দীপ্ত হয়ে ম্যাক্রোফেজ কৈশিকনালির প্রাচীর ভেদ করে ক্ষতস্থানের দিকে অগ্রসর হয়। রাসায়নিক উদ্দীপকের প্রভাবে কোষের এই চলনকে কেমোট্যাক্সিস বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর কোষ X হলো ম্যাক্রোফেজ। ব্যাকটেরিয়া গ্রাসের পর ধাপগুলো নিম্নরূপ: ১. ম্যাক্রোফেজ ক্ষণপদ বের করে ব্যাকটেরিয়াকে চারদিক থেকে ঘিরে ধরে। ক্ষণপদের অগ্রভাগ পরস্পর মিলে গেলে ঝিল্লিবেষ্টিত ফ্যাগোসোম তৈরি হয়, যা সংকোচনশীল তন্তুর সাহায্যে ঝিল্লি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে সাইটোপ্লাজমে চলে যায়। ২. সাইটোপ্লাজমের হাইড্রোলাইটিক এনজাইমপূর্ণ এক বা দুটি লাইসোজোম ফ্যাগোসোমের ঝিল্লির সঙ্গে একীভূত হয়। এতে ফ্যাগোসোম পরিপাক থলিকা বা ফ্যাগোলাইসোজোমে পরিণত হয়। ৩. লাইসোজোম থেকে ব্যাকটেরিয়ানাশক পদার্থ ও প্রোটিওলাইটিক এনজাইম ফ্যাগোলাইসোজোমে ক্ষরিত হয়। ফলে কয়েক মিনিটের মধ্যে ব্যাকটেরিয়ার সব কার্যকলাপ বন্ধ হয়ে যায় এবং সেটি পরিপাক হয়। ৪. অপাচ্য অংশ অবশেষ বস্তুরূপে থেকে যায় এবং পরে বহিষ্কৃত হয়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের কোষ X ম্যাক্রোফেজ এবং কোষ Y নিউট্রোফিল। তথ্যের আলোকে উভয়ের প্রয়োজনীয়তা নিচে মূল্যায়ন করা হলো। ১. ভক্ষণ ক্ষমতা ও স্থায়িত্ব: X প্রায় ১০০টি ব্যাকটেরিয়া এমনকি লোহিত কণিকা, ছত্রাক বা ম্যালেরিয়ার জীবাণুর মতো বড় বস্তুও গ্রাস করতে পারে এবং অপাচ্য ও বিষাক্ত অংশ বর্জন করে বেঁচে থেকে কয়েক মাস কাজ করে। তাই X দীর্ঘস্থায়ী ও বেশি শক্তিশালী ফ্যাগোসাইট। ২. Y-এর মৃত্যুর কারণ: Y মাত্র ৩–২০টি ব্যাকটেরিয়া গ্রাস করতে পারে এবং ব্যাকটেরিয়ার চেয়ে বড় বস্তু গ্রাস করতে পারে না। অধিক ব্যাকটেরিয়া গ্রাসের ফলে সঞ্চিত বিষাক্ত পদার্থ বা লাইসোজোমের ধ্বংসাত্মক রাসায়নিক সাইটোপ্লাজমে মুক্ত হয়ে Y মারা যায়। ৩. Y-এর প্রয়োজনীয়তা: Y মোট শ্বেতকণিকার ৬০–৭০% এবং দৈনিক প্রায় ১০০ বিলিয়ন তৈরি হয়। বিপুল সংখ্যক Y অস্থিমজ্জায় মজুদ থাকে এবং সংক্রমণ হলে ক্ষণপদীয় চলনে সবার আগে মিনিটের মধ্যে ক্ষতস্থানে পৌঁছে জীবাণুর প্রাথমিক আক্রমণ ঠেকায়। ৪. X-এর প্রয়োজনীয়তা: Y-এর পর X এসে দীর্ঘস্থায়ী আক্রমণ চালায়, মৃতকোষ ও জমে থাকা বর্জ্য পরিষ্কার করে এবং সাইটোকাইন ক্ষরণ করে অনাক্রম্য সাড়া ও ক্ষত নিরাময়ে ভূমিকা রাখে। এছাড়া X B ও T-লিম্ফোসাইটকে উদ্দীপ্ত করে, যা Y পারে না। সিদ্ধান্ত: Y দ্রুত, সংখ্যাবহুল ও ক্ষণস্থায়ী প্রথম সারির সৈনিক, আর X দীর্ঘস্থায়ী, শক্তিশালী ও অনাক্রম্যতার সমন্বয়কারী। দুটির ভূমিকা পরিপূরক, তাই বক্তব্যটি যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও