ভূগোল ১ম পত্র • জলবায়ু অঞ্চল ও জলবায়ু পরিবর্তন
ভূগোল ১ম পত্র প্রশ্ন
আয়েশা একটি ক্রান্তীয় অঞ্চলের আবহাওয়া কেন্দ্রের ছয় মাসের উপাত্ত সংগ্রহ করেছে।
| মাস | তাপমাত্রা (°সে.) | বৃষ্টিপাত (সে.মি.) |
|---|---|---|
| জানুয়ারি | ১৮ | ২ |
| এপ্রিল | ৩১ | ৪ |
| জুন | ৩০ | ২৬ |
| জুলাই | ২৯ | ৩৪ |
| আগস্ট | ৩১ | ৩২ |
| ডিসেম্বর | ২০ | ০.৫ |
সে লক্ষ করল জুন থেকে আগস্ট মাসে বৃষ্টিপাত অনেক বেশি, কিন্তু জানুয়ারি ও ডিসেম্বরে প্রায় নেই বললেই চলে।
- ক)(1)
কে সর্বপ্রথম 'মৌসুমী' শব্দটি ব্যবহার করেন?
- খ)(2)
মৌসুমী জলবায়ু অঞ্চলে বৃষ্টিবহুল স্থানে তাপমাত্রা অধিক বৃদ্ধি পায় না কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের উপাত্ত অনুযায়ী ছয় মাসের গড় তাপমাত্রা এবং জুন থেকে আগস্ট মাসের বৃষ্টিপাত ছয় মাসের মোট বৃষ্টিপাতের শতকরা কত অংশ তা নির্ণয় করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের উপাত্তে জানুয়ারিতে বৃষ্টিপাত কম এবং জুলাইতে বেশি হওয়ার কারণ বায়ুচাপ ও বায়ুপ্রবাহের পরিবর্তনের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ইংল্যান্ডের বিখ্যাত ভূগোলবিদ এডমন্ড হ্যালি ১৬৮০ খ্রিষ্টাব্দে সর্বপ্রথম 'মৌসুমী' (monsoon) শব্দটি ব্যবহার করেন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর মৌসুমী জলবায়ু অঞ্চলে গ্রীষ্মকালে সূর্য প্রায় লম্বভাবে কিরণ দেয়, ফলে তাপমাত্রা বেশি হওয়ার কথা। কিন্তু যেসব স্থানে এ সময় প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়, সেখানে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকে এবং সূর্যের তাপ সরাসরি ভূপৃষ্ঠে পৌঁছাতে পারে না। বৃষ্টির পানির কারণে ভূপৃষ্ঠ ও বায়ুও শীতল হয়ে যায়। তাই বৃষ্টিবহুল স্থানে তাপমাত্রা অধিক বৃদ্ধি পায় না, অপেক্ষাকৃত কম বৃষ্টির স্থানে তাপমাত্রা বেশি থাকে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ছয় মাসের গড় তাপমাত্রা নির্ণয়:
মোট তাপমাত্রা = ১৮ + ৩১ + ৩০ + ২৯ + ৩১ + ২০ = ১৫৯° সে.
গড় তাপমাত্রা = ১৫৯ ÷ ৬ = ২৬.৫° সে.মোট বৃষ্টিপাত নির্ণয়:
ছয় মাসের মোট বৃষ্টিপাত = ২ + ৪ + ২৬ + ৩৪ + ৩২ + ০.৫ = ৯৮.৫ সে.মি.
জুন থেকে আগস্টের বৃষ্টিপাত = ২৬ + ৩৪ + ৩২ = ৯২ সে.মি.শতকরা হার = (৯২ ÷ ৯৮.৫) × ১০০ = ৯৩.৪% (প্রায়)
সুতরাং ছয় মাসের গড় তাপমাত্রা ২৬.৫° সে. এবং জুন থেকে আগস্ট মাসের বৃষ্টিপাত মোট বৃষ্টিপাতের প্রায় ৯৩.৪%।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের উপাত্ত মৌসুমী জলবায়ু অঞ্চলের বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে, যেখানে ঋতুভেদে বায়ুচাপ ও বায়ুপ্রবাহের দিক পরিবর্তিত হয়। এর ফলে বৃষ্টিপাতের এ তারতম্য ঘটে। বিশ্লেষণ নিচে দেওয়া হলো:
১. জুলাই মাসে (গ্রীষ্ম/বর্ষা): উত্তর গোলার্ধে সূর্য কর্কটক্রান্তির ওপর লম্বভাবে কিরণ দেয়। এতে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও উত্তর-পশ্চিম ভারতসহ বিস্তীর্ণ স্থলভাগ অত্যন্ত উত্তপ্ত হয়ে সেখানে বৃহৎ নিম্নচাপ কেন্দ্রের সৃষ্টি হয়। তখন দক্ষিণ গোলার্ধের উচ্চচাপ বলয় থেকে দক্ষিণ-পূর্ব অয়ন বায়ু নিরক্ষরেখা অতিক্রম করে ফেরেলের সূত্র অনুযায়ী বেঁকে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ুরূপে স্থলভাগের দিকে প্রবাহিত হয়। এ বায়ু ভারত মহাসাগরের ওপর দিয়ে দীর্ঘ পথ আসে বলে প্রচুর জলীয় বাষ্প বহন করে এবং পর্বতে বাধা পেয়ে ব্যাপক বৃষ্টিপাত ঘটায়। তাই জুলাইতে বৃষ্টিপাত বেশি (৩৪ সে.মি.)।
২. জানুয়ারি মাসে (শীতকাল): সূর্য মকরক্রান্তির কাছে অবস্থান করায় উত্তর গোলার্ধের স্থলভাগ অত্যন্ত শীতল হয়ে সেখানে উচ্চচাপ সৃষ্টি হয়। ফলে স্থলভাগের উচ্চচাপ থেকে বায়ু দক্ষিণের সমুদ্রের নিম্নচাপের দিকে উত্তর-পূর্ব মৌসুমী বায়ুরূপে প্রবাহিত হয়। এ বায়ু স্থলভাগের ওপর দিয়ে আসে বলে শুষ্ক থাকে এবং বৃষ্টিপাত ঘটাতে পারে না। তাই জানুয়ারিতে বৃষ্টিপাত কম (২ সে.মি.)।
সুতরাং ঋতুভেদে বায়ুচাপ ও বায়ুর দিক পরিবর্তনের কারণেই উদ্দীপকের উপাত্তে বৃষ্টিপাতের এ বিশাল পার্থক্য দেখা যায়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও