সমাজকর্ম ১ম পত্র • সামাজিক নীতি ও পরিকল্পনা এবং সমাজকর্ম

সমাজকর্ম ১ম পত্র প্রশ্ন

শ্যামনগর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার কল্যাণ সহকারী গর্ভবতী মায়েদের নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবার পরিকল্পনা সম্পর্কে পরামর্শ দেন। স্থানীয় একটি বেসরকারি সংস্থা উঠান বৈঠকের মাধ্যমে সচেতনতা বাড়ায়, আর স্কুলের শিক্ষকরা কিশোরীদের বাল্যবিবাহের কুফল সম্পর্কে বোঝান। কিন্তু ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনে করেন, জনসংখ্যা সমস্যা সমাধান কেবল স্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্ব।

  1. ক)

    সরকার কত সালে জনসংখ্যা নীতির রূপরেখা প্রণয়ন করে?

    (1)
  2. খ)

    জনসংখ্যা নীতি সফল করতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সমন্বয় প্রয়োজন কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের কার্যক্রমে জাতীয় জনসংখ্যা নীতি ২০০৪-এর কোন কোন উদ্দেশ্যের প্রতিফলন ঘটেছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    জনসংখ্যা সমস্যা কেবল স্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্ব- উদ্দীপকে চেয়ারম্যানের এ মন্তব্যের যথার্থতা বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর সরকার ১৯৭৬ সালে জনসংখ্যা নীতির রূপরেখা প্রণয়ন করে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর স্থিতিশীল জনসংখ্যা অর্জনে প্রভাব সৃষ্টিকারী উপাদানগুলো স্বাস্থ্য, শিক্ষা, শ্রম ও কর্মসংস্থান, সমাজকল্যাণ, মহিলা ও শিশু বিষয়ক, যুব ও ক্রীড়া, স্থানীয় সরকার ইত্যাদি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমের সাথে সম্পর্কিত। সুসমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া জনসংখ্যা সমস্যার মাত্রা ও ভয়াবহতা মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। তাই মন্ত্রণালয়গুলোর সমন্বয় প্রয়োজন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর জাতীয় জনসংখ্যা নীতি ২০০৪-এর উদ্দেশ্য হলো পরিবার পরিকল্পনা, মা ও শিশু স্বাস্থ্য পরিচর্যাসহ প্রজনন স্বাস্থ্যের উন্নয়ন এবং সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্য (MDGs) ও দারিদ্র বিমোচন কৌশলপত্রের আলোকে জনসংখ্যা সমস্যার সমাধান করা। উদ্দীপকে পরিবার কল্যাণ সহকারী গর্ভবতী মায়েদের স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছেন, যা মা ও শিশু স্বাস্থ্য পরিচর্যা ও প্রজনন স্বাস্থ্যের উন্নয়নের প্রতিফলন। তিনি পরিবার পরিকল্পনা সম্পর্কেও পরামর্শ দিচ্ছেন, যা নীতির পরিবার পরিকল্পনা-সংক্রান্ত উদ্দেশ্যের সাথে মিলে যায়। এছাড়া বেসরকারি সংস্থা ও শিক্ষকদের সচেতনতামূলক কার্যক্রম নীতির লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর চেয়ারম্যানের মন্তব্যটি যথার্থ নয়। জনসংখ্যা একটি জটিল জাতীয় সমস্যা, যা কোনো একক বিভাগের পক্ষে সমাধান করা সম্ভব নয়। জাতীয় জনসংখ্যা নীতি ২০০৪-এর প্রস্তাবনা অনুযায়ী, ব্যাপকভিত্তিক নীতিমালার মাধ্যমে এ সমস্যা মোকাবিলা করতে হবে এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, নাগরিক সমাজ ও বেসরকারি সংস্থার মধ্যে সমন্বয় ও সহযোগিতার ভিত্তি গড়ে তুলতে হবে। এ বক্তব্যের অযৌক্তিকতা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
    ১. বহুমুখী উপাদান: জনসংখ্যা প্রভাবিতকারী উপাদান যেমন শিক্ষা, কর্মসংস্থান, নারীর অবস্থা, বাল্যবিবাহ ইত্যাদি স্বাস্থ্য বিভাগের বাইরে। উদ্দীপকে শিক্ষকরা বাল্যবিবাহের কুফল সম্পর্কে সচেতন করে এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখছেন।
    ২. বেসরকারি অংশগ্রহণ: বেসরকারি সংস্থা উঠান বৈঠকের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে সচেতনতা বাড়িয়ে নীতির সফলতায় অবদান রাখছে।
    ৩. মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়: সমাজকল্যাণ, মহিলা ও শিশু বিষয়ক, স্থানীয় সরকার, শিক্ষা প্রভৃতি মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম স্থিতিশীল জনসংখ্যা অর্জনে প্রভাব ফেলে।
    ৪. স্থানীয় সরকারের ভূমিকা: ইউনিয়ন পরিষদও জনসচেতনতা ও সমন্বয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
    অতএব, স্বাস্থ্য বিভাগের পাশাপাশি সরকারি, বেসরকারি ও স্থানীয় সবার সমন্বিত প্রচেষ্টা ছাড়া জনসংখ্যা নীতি সফল হবে না। চেয়ারম্যানের মনোভাব সমন্বিত নীতির পরিপন্থী।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও