সহপাঠ • ১৯৭১

সহপাঠ প্রশ্ন

ঔপন্যাসিক রিয়াদ হাসান তাঁর নতুন লেখার প্রথম অধ্যায়েই নায়ক সুমনের মৃত্যুর দৃশ্য বর্ণনা করেছেন। পরের অধ্যায়গুলোতে তিনি ফিরে গেছেন সুমনের শৈশবে এবং দেখিয়েছেন কীভাবে একের পর এক ঘটনায় সে মৃত্যুর দিকে এগিয়েছে। পাঠক শুরুতেই মৃত্যুর কথা জেনে যায় বলে প্রতিটি ঘটনাকে ভিন্ন দৃষ্টিতে দেখে। এর সঙ্গে গ্রামের এক বৃদ্ধের জীবনের একটি সমান্তরাল কাহিনিও যুক্ত হয়েছে। সুমনের সংগ্রাম, পরিবার ও সমাজের সঙ্গে তার সম্পর্ক এবং লেখকের মানবতাবাদী দৃষ্টিভঙ্গি লেখাটিতে ফুটে উঠেছে।

  1. ক)

    প্লট কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    'কাহিনিমাত্রই উপন্যাস নয়'- ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে ঔপন্যাসিক কাহিনিবিন্যাসের কোন কৌশল ব্যবহার করেছেন? এর ফলে পাঠকের উপলব্ধিতে কী পরিবর্তন ঘটে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উপন্যাসের সংজ্ঞার্থ অনুযায়ী উদ্দীপকের রচনাটি কতটা উপন্যাসের বৈশিষ্ট্য ধারণ করে? বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উপন্যাসে কাহিনির যে বিন্যাস বা সজ্জা করা হয়, অর্থাৎ ঘটনাগুলোকে যেভাবে সাজানো হয়, তাকে প্লট বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর কাহিনি হলো ঘটনার সমষ্টি। কিন্তু উপন্যাসে ঘটনাগুলোকে লেখক বিশেষভাবে সাজান; পরের ঘটনা আগে আসে, আগেরটি পরে, আবার উপকাহিনি বা সমান্তরাল কাহিনিও যুক্ত হয়। এ সাজানোর ফলে ঘটনাগুলোর কার্যকারণ সম্পর্ক ও পাঠকের উপলব্ধি বদলে যায়। শুধু ঘটনা পরপর বলে গেলে তা উপন্যাস হয় না। এজন্য উপন্যাসে কাহিনির চেয়ে প্লটের গুরুত্ব বেশি। তাই কাহিনিমাত্রই উপন্যাস নয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে ঔপন্যাসিক পরে ঘটা ঘটনা (নায়কের মৃত্যু) আগে বর্ণনা করে তারপর অতীতের ঘটনায় ফিরে গেছেন এবং সঙ্গে একটি সমান্তরাল কাহিনি যুক্ত করেছেন। উপন্যাসের কাহিনিবিন্যাসের এ কৌশলকেই প্লট সাজানো বলা হয়।

    প্লটে একটি ঘটনা আরেকটি ঘটনার সঙ্গে কার্যকারণসূত্রে যুক্ত থাকে। লেখক যদি পরের ঘটনা আগে বলেন, তবে ঘটনাগুলোর পারস্পরিক সম্পর্ক বদলে যায় এবং পাঠকের মনে ভিন্ন উপলব্ধি তৈরি হয়। উদ্দীপকে পাঠক শুরুতেই সুমনের মৃত্যুর কথা জানে বলে তার শৈশব ও পরবর্তী প্রতিটি ঘটনাকে মৃত্যুর পথের ধাপ হিসেবে দেখে। এতে মৃত্যুর মুহূর্তটি বিশেষ গুরুত্ব পায় এবং পাঠকের প্রতিক্রিয়া লেখকের ইচ্ছামতো পরিচালিত হয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর পাঠ্যাংশ অনুযায়ী উপন্যাস হলো প্রধানত গদ্যে লেখা বর্ণনামূলক সাহিত্যরূপ, যেখানে ঘটনা ও কাহিনির বিশেষ বিন্যাসের মধ্যে ব্যক্তি-চরিত্র অবলম্বনে জীবনের সামগ্রিকতা প্রকাশ পায় এবং লেখকের বিশিষ্ট জীবনদৃষ্টির প্রকাশ ঘটে।

    উদ্দীপকের রচনাটি গদ্যে লেখা ও বর্ণনামূলক। এতে মৃত্যুর দৃশ্য আগে এনে শৈশবে ফেরার মাধ্যমে কাহিনির বিশেষ বিন্যাস বা প্লট তৈরি হয়েছে এবং একটি সমান্তরাল কাহিনিও আছে। সুমন চরিত্রটি ঘটনার অবলম্বন, যার সংগ্রাম ও পরিবার-সমাজের সঙ্গে সম্পর্কের মধ্য দিয়ে জীবনের একাধিক দিক ফুটেছে, যা জীবনের সামগ্রিকতা প্রকাশের ইঙ্গিত দেয়। এছাড়া লেখকের মানবতাবাদী দৃষ্টিভঙ্গির উল্লেখ থেকে বোঝা যায়, রচনাটিতে জীবনদৃষ্টিও প্রকাশ পেয়েছে।

    সুতরাং উপন্যাসের সংজ্ঞার্থের প্রায় সব উপাদান, অর্থাৎ গদ্য, প্লট, চরিত্র, জীবনের সামগ্রিকতা ও জীবনদৃষ্টি, উদ্দীপকের রচনায় বিদ্যমান। অতএব রচনাটি উপন্যাসের বৈশিষ্ট্য যথার্থভাবেই ধারণ করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও