বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় • বাংলাদেশের ভূপ্রকৃতি ও জলবায়ু
বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় প্রশ্ন
নবম শ্রেণির ছাত্র সাব্বির পত্রিকায় পড়ল, সিলেট অঞ্চলে মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছে। তার শিক্ষক বললেন, সিলেট জেলা আসামের ডাউকি চ্যুতির সাথে সংযুক্ত একটি ফল্ট লাইনে অবস্থিত। তিনি আরও বললেন, ঢাকা, টাঙ্গাইল ও কুমিল্লা মাঝারি ঝুঁকির এলাকা, আর বান্দরবান ও চট্টগ্রামে পাহাড় কাটার কারণে ঝুঁকি বাড়ছে। সাব্বির জানতে পারল, দেশের কিছু অংশ দেবে যাচ্ছে আবার কিছু অংশ ফুলে উঠছে।
- ক)(1)
‘সিসমিক রিস্ক জোন’ কী?
- খ)(2)
বাংলাদেশ ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের সিলেট, ঢাকা ও চট্টগ্রাম কোন কোন ভূমিকম্প বলয়ে অবস্থিত তা উল্লেখপূর্বক বলয়গুলোর বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
‘বাংলাদেশে মানুষের কর্মকাণ্ড ও প্রাকৃতিক পরিবর্তন মিলে ভূমিকম্পের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে’— উদ্দীপক ও পাঠ্যবইয়ের আলোকে উক্তিটির যথার্থতা বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ১৯৮৯ সালে ফরাসি ইঞ্জিনিয়ারিং কনসোর্টিয়াম বাংলাদেশের ভূমিকম্প বলয় সংবলিত মানচিত্রে যে তিনটি বলয় দেখিয়েছে, সেগুলোকে ‘সিসমিক রিস্ক জোন’ বলা হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর বাংলাদেশ ইন্ডিয়ান ও ইউরেশিয়ান প্লেটের সীমানার কাছে অবস্থিত। দেশটি ইন্ডিয়ান প্লেট ও মিয়ানমার সাব-প্লেটের মাঝখানে অবস্থিত, যেখানে টেকটনিক প্লেটের সংঘর্ষ ঘটে। এ ছাড়া বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ও পার্শ্ববর্তী উত্তর-পূর্ব অঞ্চলে ভূমিকম্প হওয়ার মতো যথেষ্ট ফল্ট বা চ্যুতি রয়েছে। এসব কারণে বাংলাদেশ ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর বাংলাদেশকে ভূমিকম্পের ঝুঁকি অনুযায়ী তিনটি বলয়ে ভাগ করা হয়েছে। উদ্দীপকের সিলেট ও চট্টগ্রাম প্রথম বলয়ে এবং ঢাকা দ্বিতীয় বলয়ে অবস্থিত।
১. প্রথম বলয় (প্রলয়ঙ্করী): এটি সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ। এই বলয়ে বান্দরবান, চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর অবস্থিত। সিলেট ডাউকি চ্যুতির ফল্ট লাইনে থাকায় এখানে ঝুঁকি বেশি।
২. দ্বিতীয় বলয় (বিপজ্জনক): এতে ঢাকা, টাঙ্গাইল, বগুড়া, দিনাজপুর, কুমিল্লা ও রাঙামাটি অবস্থিত।
৩. তৃতীয় বলয় (লঘু): দেশের বাকি অঞ্চল এই বলয়ে পড়ে এবং এখানে ঝুঁকি সবচেয়ে কম।
এভাবে অবস্থানভেদে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভূমিকম্পের ঝুঁকির মাত্রা ভিন্ন। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উক্তিটি যথার্থ। বাংলাদেশে ভূমিকম্পের ঝুঁকি বাড়ার পেছনে প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট উভয় কারণই দায়ী।
প্রাকৃতিক কারণ:
১. ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে বাংলাদেশ ইন্ডিয়ান ও ইউরেশিয়ান প্লেটের সীমানার কাছে এবং ইন্ডিয়ান প্লেট ও মিয়ানমার সাব-প্লেটের মাঝে অবস্থিত। প্লেটের সংঘর্ষে এখানে ভূআলোড়নজনিত শক্তি কার্যকর থাকে।
২. উদ্দীপকে সাব্বির জেনেছে, দেশের কিছু অংশ দেবে যাচ্ছে আবার কিছু অংশ ফেঁপে উঠছে। এই ভূচ্যুতির ফলে ভূমিকম্পের সম্ভাবনা বাড়ছে।
৩. সিলেট ডাউকি চ্যুতির ফল্ট লাইনে থাকায় সেখানে ঝুঁকি বেশি।
মানবসৃষ্ট কারণ:
১. উদ্দীপকে বান্দরবান ও চট্টগ্রামে পাহাড় কাটার কথা বলা হয়েছে। পাহাড়কাটাসহ মানবসৃষ্ট কারণে বাংলাদেশে ভূমিকম্পের সম্ভাবনা বাড়ছে।
২. পাহাড়ি অঞ্চলে ভূমিকম্পের ফলে ফাটলের সৃষ্টি হয়, যা ঝুঁকি আরও বাড়ায়।
অতএব, প্রাকৃতিক কারণের সাথে মানুষের অপরিকল্পিত কর্মকাণ্ড যুক্ত হয়ে বাংলাদেশে ভূমিকম্পের ঝুঁকি বৃদ্ধি করছে। তাই উক্তিটি যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও