বাংলা ১ম পত্র • ছায়াবাজি

বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন

দাদি রহিমা বেগম ঠান্ডা-কাশি হলে নিমপাতা সেদ্ধ করে ভাপ নিতে বলেন। জ্বর হলে তুলসীপাতার রস খাওয়ান। তিনি বলেন, “গাছগাছালিই আমাদের আসল ডাক্তার।” নাতি রাফি বিজ্ঞান ক্লাসে জেনেছে যে এসব গাছে এমন উপাদান আছে যা রোগ সারাতে সাহায্য করে, তবে গুরুতর অসুখে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

  1. ক)

    মৌয়া গাছের মিষ্টি ছায়া কিসের সাহায্যে শুষে রাখা হয়?

    (1)
  2. খ)

    “বাপরে বলে পালায় ব্যামো ছায়ার ওষুধ খেলে”—কথাটি বুঝিয়ে লেখো।

    (2)
  3. গ)

    দাদির চিকিৎসা-ভাবনা ‘ছায়াবাজি’ কবিতার কোন চরণগুলোর সঙ্গে সম্পর্কিত? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    “দাদির কথা বাস্তবভিত্তিক, কিন্তু কবির কথা বাস্তবতা-বর্জিত; তবুও উভয়ের মধ্যে ভাবের সংযোগ আছে”—বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর মৌয়া গাছের মিষ্টি ছায়া ‘ব্লটিং’ বা চোষ কাগজ দিয়ে শুষে রাখা হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর কবি দাবি করেছেন যে তাঁর ছায়ার ওষুধ অত্যন্ত শক্তিশালী। এ ওষুধ খেলে রোগব্যাধি ভয় পেয়ে ‘বাপরে’ বলে পালিয়ে যায়। অর্থাৎ ওষুধটির এমন কার্যকারিতা আছে যে রোগ আর টিকতে পারে না। রোগকে জীবন্ত প্রাণীর মতো ভয় পেতে দেখিয়ে কবি এখানে কৌতুক সৃষ্টি করেছেন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর দাদির চিকিৎসা-ভাবনা ‘ছায়াবাজি’ কবিতার “নিমের ছায়া ঝিঙের ছায়া তিক্ত ছায়ার পাক / যেই খাবে ভাই অঘোর ঘুমে ডাকবে তাহার নাক” এবং “গাছগাছালি শেকড় বাকল সুদ্ধ সবাই গেলে, / বাপরে বলে পালায় ব্যামো ছায়ার ওষুধ খেলে” চরণগুলোর সঙ্গে সম্পর্কিত। কবিতায় কবি নিম, ঝিঙে, পেঁপে ইত্যাদি গাছের ছায়াকে ওষুধ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। উদ্দীপকে দাদিও নিমপাতা ও তুলসীপাতাকে রোগ সারানোর উপায় মনে করেন। দুই ক্ষেত্রেই গাছগাছালিকে রোগমুক্তির উপায় হিসেবে দেখা হয়েছে। এ কারণে দাদির ভাবনার সঙ্গে চরণগুলোর যোগ আছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উক্তিটি যথার্থ। ১. দাদির কথার বাস্তবতা: উদ্দীপকে দাদি নিমপাতার ভাপ ও তুলসীপাতার রস ব্যবহার করেন। বিজ্ঞানও স্বীকার করে যে এসব গাছে রোগ সারানোর উপাদান আছে। তাই তাঁর কথা বাস্তবসম্মত। ২. কবির কথার অবাস্তবতা: ‘ছায়াবাজি’ কবিতায় গাছ নয়, গাছের ছায়াকে ওষুধ বলা হয়েছে। ছায়া খেয়ে নাক ডাকা, পেঁপের ছায়া শুঁকে সর্দিকাশি সারা কিংবা আমড়া গাছের ছায়া খেয়ে খোঁড়ার পা গজানো—এসব সম্পূর্ণ অবাস্তব ও আজগুবি। ৩. ভাবের সংযোগ: দুজনের কথার মূলে আছে প্রকৃতির গাছগাছালির প্রতি আস্থা। কবির আজগুবি বর্ণনাও নিম, ঝিঙে, পেঁপে, তেঁতুল ও মহুয়ার মতো পরিচিত গাছকে ঘিরেই। ৪. উদ্দেশ্যগত পার্থক্য: দাদির উদ্দেশ্য সুস্থতা, কবির উদ্দেশ্য কৌতুক ও কল্পনার আনন্দ। সুতরাং বাস্তব ও কল্পনার পার্থক্য সত্ত্বেও গাছের উপকারিতার ভাবে দুজনের মধ্যে সংযোগ রয়েছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও