সহপাঠ • ১৯৭১
সহপাঠ প্রশ্ন
নদীপাড়ের মাছ ধরা পাড়ার বৃদ্ধা শরিফা বেওয়ার ছেলে গত বছর খুন হয়। বিচার চাইতে গেলে মেম্বার সাহেব বললেন, 'তোমাদের ঝামেলা তোমরাই মেটাও। এদের ঘাঁটানো ঠিক না।' থানায় গেলে ক্ষতি হবে ভেবে শরিফা আর কোথাও যায়নি। দিন যেতে যেতে সে সবার বাড়ি বাড়ি ভিক্ষা করে বেড়ায়। গ্রামের মাতব্বররা এ নিয়ে একটি কথাও বলে না।
- ক)(1)
চিত্রা বুড়ি বিচারের জন্য কার কাছে ছোটাছুটি করেছিল?
- খ)(2)
'হতদরিদ্র নীলগঞ্জের প্রথম ভিক্ষুক'- কথাটি বুঝিয়ে লেখো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের মেম্বার সাহেবের আচরণে '১৯৭১' উপন্যাসের কোন চরিত্রের কোন দিকটি প্রকাশ পেয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
'উদ্দীপকের শরিফা বেওয়া ও '১৯৭১' উপন্যাসের চিত্রা বুড়ির দুর্দশার জন্য ব্যক্তি নয়, সমাজের অবহেলাই মূলত দায়ী।'- মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর চিত্রা বুড়ি বিচারের জন্য নীলু সেনের কাছে ছোটাছুটি করেছিল।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর চিত্রা বুড়ির ছেলে খুন হলে সে বিচার পায়নি। কৈবর্তরা তিন মাস পর মাছ মারা থেকে ফিরে এলেও তাকে আর নিজেদের মধ্যে জায়গা দেয়নি। ফলে বুড়ি এ-বাড়ি ও-বাড়ি ভিক্ষা করে খেতে লাগল। নীলগঞ্জ গরিব গ্রাম হলেও এর আগে কেউ ভিক্ষা করত না। তাই চিত্রা বুড়িকে গ্রামের প্রথম ভিক্ষুক বলা হয়েছে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের মেম্বার সাহেবের আচরণে '১৯৭১' উপন্যাসের নীলু সেনের বিচারে অনীহা ও দায় এড়ানোর দিকটি প্রকাশ পেয়েছে।
নীলগঞ্জে নীলু সেন সালিশির সব কাজে থাকেন এবং গ্রামে তাঁকে খাতির করা হয়। অথচ চিত্রা বুড়ি ছেলের খুনের বিচার চাইলে তিনি শুকনো গলায় বলেন, 'তোদের ঝামেলা তোরা মিটা'। তিনি কৈবর্তদের 'রক্তরম জাত' বলে তাদের ঘাঁটাতে চান না এবং বিচারের প্রশ্নে জবাব দিতে পারেন না। উদ্দীপকের মেম্বারও শরিফাকে একই ভঙ্গিতে নিজেদের ঝামেলা নিজেদের মেটাতে বলেন এবং 'ঘাঁটানো ঠিক না' বলে বিচারের দায়িত্ব এড়িয়ে যান। দুজনের আচরণই ক্ষমতাবান ব্যক্তির নিষ্ক্রিয়তা ও অসহায়ের প্রতি উপেক্ষা প্রকাশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর মন্তব্যটি যথার্থ। নিজের ছেলের মৃত্যুই দুজনের প্রধান আঘাত, কিন্তু তাদের ভিক্ষুকের জীবনে ঠেলে দিয়েছে সমাজের নিস্পৃহতা।
'১৯৭১' উপন্যাসে কৈবর্তপাড়ায় খুন হলে নীলগঞ্জের মাতব্বররা এমন ভাব করেন যেন তাঁরা কিছুই জানেন না। থানা-পুলিশ কিছু হয়নি। চিত্রা বুড়ি নীলু সেনের কাছে গেলে তিনি দায় এড়িয়ে বলেন, 'থানাওয়ালার কাছে যা', অথচ থানায় গেলে বুড়ির প্রাণের হুমকি ছিল। শেষে কৈবর্তরাও তাকে ফেলে মাছ মারতে চলে যায়। ফলে সে সেনবাড়ির কালিমন্দিরের চাতালে আশ্রয় নেয় এবং ভিক্ষা করে খায়। উদ্দীপকেও মেম্বার সাহেব বিচার না করে বিষয়টি এড়িয়ে যান, থানায় যাওয়ার ভরসাও শরিফার নেই, আর মাতব্বররা কোনো কথা বলে না। ফলে সেও ভিক্ষুকে পরিণত হয়।
দুই ক্ষেত্রেই নিজের কোনো ভুল নয়, বরং বিচার না পাওয়া, ক্ষমতাবানদের নীরবতা ও আশ্রয়হীনতাই তাদের দুর্দশার কারণ। সুতরাং মন্তব্যটি যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও