ভূগোল ১ম পত্র • প্রাকৃতিক ভূগোল
ভূগোল ১ম পত্র প্রশ্ন
রাকিব ভূগোল ক্লাসে শুনল, জলবায়ু, উদ্ভিদ, প্রাণী, মাটি ও পানির বিন্যাস এবং সময়ের সাথে তাদের পরিবর্তন বিশ্লেষণ করা ভূগোলের একটি প্রধান শাখার কাজ। পরে সে লক্ষ করল, সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকায় মানুষ বন কেটে চিংড়ি ঘের তৈরি করায় সেখানকার মাটি, পানি ও গাছপালায় পরিবর্তন এসেছে। শিক্ষক বললেন, বর্তমানে এই শাখা কেবল প্রকৃতির বর্ণনায় সীমাবদ্ধ নেই।
- ক)(1)
সর্বপ্রথম কে 'Geography' শব্দটি ব্যবহার করেন?
- খ)(2)
'Geography' শব্দের শব্দগত অর্থ ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত ভূগোলের শাখাটির সংজ্ঞা ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
'বর্তমানে এই শাখা কেবল প্রকৃতির বর্ণনায় সীমাবদ্ধ নেই'— শিক্ষকের এ উক্তিটি উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর গ্রিক ভূগোলবিদ এরাটসথেনেস (Eratosthenes) সর্বপ্রথম 'Geography' শব্দটি ব্যবহার করেন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর 'Geography' শব্দটি দুটি শব্দের সমন্বয়ে গঠিত। এর 'Geo' অর্থ পৃথিবী এবং 'Graphy' অর্থ বর্ণনা। সুতরাং শব্দগত অর্থে 'Geography' বলতে 'পৃথিবীর বর্ণনা' বা 'Description of the Earth' কে বোঝায়। এই ইংরেজি শব্দ থেকেই বাংলা 'ভূগোল' শব্দটি এসেছে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত শাখাটি হলো প্রাকৃতিক ভূগোল (Physical Geography)। এর সংজ্ঞা নিচে ব্যাখ্যা করা হলো।
প্রাকৃতিক ভূগোল হলো জলবায়ু, উদ্ভিদ, প্রাণী, মাটি ও পানির মতো প্রাকৃতিক প্রপঞ্চসমূহের স্থানিক ও কালিক বিশ্লেষণ। আরও ব্যাপক অর্থে, স্বল্প, মধ্যম বা দীর্ঘ সময়ের প্রেক্ষিতে প্রাকৃতিক প্রপঞ্চসমূহের বৈশ্বিক, আঞ্চলিক ও স্থানিক বিশ্লেষণই প্রাকৃতিক ভূগোল।
American Heritage Science Dictionary (২০০৫) অনুযায়ী, পৃথিবীপৃষ্ঠের প্রাকৃতিক চিত্রাবলির বিশেষত চলতি বিষয়াবলির বিজ্ঞানসম্মত পাঠই প্রাকৃতিক ভূগোল। রিচার্ড হার্টশর্নের মতে, ভূপৃষ্ঠের পরিবর্তনশীল বৈশিষ্ট্যের সঠিক, সুবিন্যস্ত ও যুক্তিসঙ্গত বর্ণনা ও ব্যাখ্যা দেওয়াই এর কাজ।
উদ্দীপকে জলবায়ু, উদ্ভিদ, মাটি, পানি ও তাদের পরিবর্তনের বিশ্লেষণের কথা বলা হয়েছে, যা এই সংজ্ঞার সাথে সংগতিপূর্ণ। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর শিক্ষকের উক্তিটি যথার্থ। প্রাকৃতিক ভূগোল আগে প্রধানত ভূপৃষ্ঠের প্রাকৃতিক অবয়বের বর্ণনা দিত। কিন্তু বর্তমানে এর পরিধি প্রকৃতির স্থানিক বিশ্লেষণের চেয়ে অনেক বৃহত্তর হয়েছে। বিশ্লেষণ নিচে দেওয়া হলো।
১. মানুষ ও প্রকৃতির মিথস্ক্রিয়া: এই শাখা এখন মানুষ ও প্রকৃতির মিথস্ক্রিয়াকে আলোচনার আওতায় এনেছে। উদ্দীপকে বন কেটে চিংড়ি ঘের তৈরির ফলে মাটি, পানি ও গাছপালার পরিবর্তন মূলত এই মিথস্ক্রিয়ারই ফল।
২. মানুষের হস্তক্ষেপের প্রভাব অনুসন্ধান: বিগত কয়েক দশকে মানুষের হস্তক্ষেপে পরিবেশের অবক্ষয় বেড়েছে। তাই প্রকৃতির ওপর মানুষ কীভাবে প্রভাব ফেলছে, তার অনুসন্ধান ও বিশ্লেষণ এখন এই শাখার কাজ। ফ্রেডরিখ র্যাটজেল ও এলেন চার্চিল সেম্পল এই 'মানবভূমি ধারা'র (Human-Land Tradition) প্রচলন ঘটান।
৩. বর্ণনার সাথে ব্যাখ্যা: এই শাখা বনভূমির বিতরণ বর্ণনার পাশাপাশি সেই বিতরণের কারণ এবং মানবীয় কার্যাবলির ওপর তার প্রভাবও ব্যাখ্যা করে।
৪. গতিশীলতা: সজীব ও অজীব উপাদানগুলো স্থান ও কালের প্রেক্ষিতে সর্বদা পরিবর্তিত হয় বলে নতুন তত্ত্ব ও প্রক্রিয়া এর সাথে যুক্ত হচ্ছে।
উদ্দীপকের সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকার ঘটনা এসব বৈশিষ্ট্যই প্রতিফলিত করে। অতএব প্রাকৃতিক ভূগোল এখন কেবল বর্ণনামূলক নয়, বরং ব্যাখ্যা ও মানুষ-প্রকৃতির সম্পর্ক বিশ্লেষণমূলক একটি গতিশীল বিজ্ঞান।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও