জীববিজ্ঞান • জীবের বংশগতি ও জৈব অভিব্যক্তি

জীববিজ্ঞান প্রশ্ন

রিয়াজ কয়েক বছর প্রবাসে ছিল। সেখানে সে একাধিকবার অন্যের ব্যবহৃত সিরিঞ্জ দিয়ে ইনজেকশন নিয়েছিল। দেশে ফেরার কিছুদিন পর তার ঘনঘন জ্বর, ডায়রিয়া ও ওজন কমে যেতে থাকে। রক্ত পরীক্ষায় তার দেহে HIV শনাক্ত হয়। রিয়াজের স্ত্রী এখন গর্ভবতী। ডাক্তার বললেন, এ রোগের কোনো নিরাময় এখনও আবিষ্কৃত হয়নি।

  1. ক)

    HIV-এর পূর্ণরূপ কী?

    (1)
  2. খ)

    এইডস রোগীর মৃত্যু অনিবার্য হয়ে পড়ে কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে রিয়াজের স্ত্রী ও তার গর্ভের সন্তান কীভাবে এই রোগে আক্রান্ত হতে পারে? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের রিয়াজের দেহে HIV ভাইরাসের প্রভাব ও পরিণতি বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর HIV-এর পূর্ণরূপ Human Immune Deficiency Virus (হিউম্যান ইমিউন ডেফিসিয়েন্সি ভাইরাস)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর HIV ভাইরাস শ্বেত রক্তকণিকা, বিশেষ করে CD4 জাতীয় কোষ ধ্বংস করে এবং অ্যান্টিবডি তৈরিতে বাধা দেয়। ফলে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ক্রমে বিনষ্ট হয়ে যায়। রোগীর দেহে সামান্য জীবাণুও মারাত্মক রোগ সৃষ্টি করে। এ রোগে হারানো রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ফিরিয়ে আনার মতো কোনো ঔষধ এখনও আবিষ্কৃত হয়নি। তাই রোগীর মৃত্যু অনিবার্য হয়ে পড়ে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর রিয়াজ HIV আক্রান্ত। রিয়াজ থেকে তার স্ত্রী ও সন্তানের আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাব্য উপায়গুলো হলো:
    ১. স্ত্রী: আক্রান্ত রিয়াজের সাথে অনিরাপদ যৌনমিলনের মাধ্যমে স্ত্রী আক্রান্ত হতে পারে। এছাড়া প্রসব বা অন্য কারণে রক্ত লাগলে আক্রান্ত রক্ত বা অপরিশোধিত যন্ত্রপাতির মাধ্যমেও সংক্রমণ ঘটতে পারে।
    ২. গর্ভের সন্তান: এইডসে আক্রান্ত বাবা থেকে সরাসরি সন্তানে রোগটি ছড়ায় না। তবে বাবার কাছ থেকে মা আক্রান্ত হলে আক্রান্ত মায়ের গর্ভের সন্তান আক্রান্ত হতে পারে। জন্মের পর আক্রান্ত মায়ের দুধ পান করলেও শিশু আক্রান্ত হতে পারে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর রিয়াজ দূষিত সিরিঞ্জের মাধ্যমে HIV দ্বারা আক্রান্ত হয়েছে। তার দেহে এ ভাইরাসের প্রভাব ও পরিণতি নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
    ১. সুপ্ত অবস্থা: HIV মানবদেহে অনেক দিন সুপ্ত অবস্থায় থাকতে পারে। তাই রিয়াজ প্রবাসে থাকাকালে রোগ বুঝতে পারেনি।
    ২. প্রতিরক্ষা কোষ ধ্বংস: ভাইরাসটি শ্বেত রক্তকণিকা, বিশেষ করে CD4 কোষ আক্রমণ করে ক্ষতিসাধন করে। এসব কোষের সংখ্যা ক্রমশ কমতে থাকে।
    ৩. অ্যান্টিবডি হ্রাস: শ্বেত রক্তকণিকার ক্ষতির কারণে অ্যান্টিবডির উৎপাদন কমে যায় এবং রোগ প্রতিরোধ-সংক্রান্ত কাজে বিঘ্ন ঘটে।
    ৪. সুযোগসন্ধানী রোগ: প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ায় ঘনঘন জ্বর, ডায়রিয়া ও ওজন হ্রাসের মতো লক্ষণ দেখা দিচ্ছে, যা রিয়াজের ক্ষেত্রে বাস্তবে ঘটেছে।
    ৫. পরিণতি: রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পূর্ণ বিনষ্ট হলে সাধারণ সংক্রমণও প্রাণঘাতী হয়। যেহেতু এই ক্ষমতা পুনরুদ্ধারের কোনো ঔষধ আজও নেই, তাই রিয়াজের পরিণতি মৃত্যু হতে পারে। এজন্য প্রতিরোধই এইডস মোকাবিলার প্রধান উপায়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও