ইতিহাস ২য় পত্র • বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলন
ইতিহাস ২য় পত্র প্রশ্ন
ঊনবিংশ শতাব্দীতে একটি দেশে প্রচুর খনিজ সম্পদ আবিষ্কৃত হয়। বিদেশি শ্বেতাঙ্গ গোষ্ঠী খনিগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিতে স্থানীয় কালো অধিবাসীদের জমি ও সম্পদ থেকে বঞ্চিত করার জন্য একের পর এক আইন প্রণয়ন করে। খনিতে কালো শ্রমিকদের শুধু কায়িক শ্রমের কাজ দেওয়া হয়, আর ভালো পদগুলো শ্বেতাঙ্গদের জন্য সংরক্ষিত থাকে। এতে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে দূরত্ব ক্রমেই বাড়তে থাকে।
- ক)(1)
দক্ষিণ আফ্রিকা ইউনিয়ন কত খ্রিস্টাব্দে গঠিত হয়?
- খ)(2)
বর্ণবাদের ধর্মীয় কারণ ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণবাদের কোন কারণটির প্রতিফলন ঘটেছে? পাঠ্যবইয়ের আলোকে ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
‘অর্থনৈতিক স্বার্থই বর্ণবাদ সৃষ্টির একমাত্র কারণ ছিল না’—পাঠ্যবইয়ের আলোকে উক্তিটি বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর দক্ষিণ আফ্রিকা ইউনিয়ন ১৯১০ খ্রিস্টাব্দের ৩১ মে গঠিত হয়। কেপ কলোনি, নাটাল, ট্রান্সভাল ও অরেঞ্জ ফ্রি স্টেট—এই চারটি ব্রিটিশ উপনিবেশ মিলে এটি গঠিত হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ইউরোপীয় শ্বেতাঙ্গরা, বিশেষ করে ক্যালভিনিস্ট খ্রিস্টানরা মনে করত, সকল অখ্রিস্টান মানুষই অসভ্য ও নীচ জাতির সন্তান। তাদের ধারণা ছিল, এরা স্বর্গীয় অনুগ্রহ লাভ থেকে বঞ্চিত। এভাবে ক্যালভিনের মতবাদ সাদা ও কালোর মধ্যে একটি বৈষম্যমূলক রেখা টানতে সাহায্য করে। ধর্মের নামে সৃষ্ট এই শ্রেষ্ঠত্ববোধ থেকেই বর্ণবাদের জন্ম হয়। তাই ধর্মীয় ক্ষেত্রে সৃষ্ট বৈষম্যকে বর্ণবাদের একটি কারণ বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে বর্ণবাদের অর্থনৈতিক কারণটির প্রতিফলন ঘটেছে।
পাঠ্যবইয়ের মতে আফ্রিকা খনিজ সম্পদে ভরপুর। ঊনবিংশ শতাব্দীতে খনিজ সম্পদ আবিষ্কৃত হতে থাকলে ইউরোপীয় শ্বেতাঙ্গরা এই সম্পদের নিয়ন্ত্রণ নিতে কৃষ্ণাঙ্গদের প্রতি আরও বেশি বৈষম্যমূলক আচরণ শুরু করে। নিজেদের অর্থনৈতিক স্বার্থে তারা কালোদের সম্পদ থেকে বঞ্চিত করার নীতি নেয় এবং এ লক্ষ্যে আইনও প্রণয়ন করে। যেমন, ১৯১৩ খ্রিস্টাব্দের ভূমি আইনে কৃষ্ণাঙ্গদের সংরক্ষিত এলাকার বাইরে জমির মালিক হওয়া নিষিদ্ধ করা হয়। ১৯২৬ খ্রিস্টাব্দের কালার বার অ্যাক্টে খনি ও শিল্পে অশ্বেতকায়দের কিছু পদে চাকরি নিষিদ্ধ হয়।
উদ্দীপকেও খনিজ সম্পদ আবিষ্কারের পর শ্বেতাঙ্গরা খনির নিয়ন্ত্রণ নেয়, কালোদের জমি ও সম্পদ থেকে বঞ্চিত করার আইন করে এবং ভালো পদ নিজেদের জন্য সংরক্ষণ করে। তাই উদ্দীপকে বর্ণবাদের অর্থনৈতিক কারণটিই ফুটে উঠেছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উক্তিটি যথার্থ। উদ্দীপকে বর্ণবাদের অর্থনৈতিক কারণ দেখানো হলেও পাঠ্যবইয়ে বর্ণবাদ সৃষ্টির কারণকে রাজনৈতিক, ধর্মীয়, জাতিগত, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক—এই পাঁচ ভাগে ভাগ করা হয়েছে, যেগুলো পরস্পর সম্পর্কিত। অর্থনৈতিক কারণের পাশাপাশি অন্য কারণগুলো নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. রাজনৈতিক কারণ: শ্বেতাঙ্গরা কালোদের রাজনৈতিক সচেতনতাকে ভয়ের চোখে দেখত। তাদের ধারণা ছিল কৃষ্ণাঙ্গরা নেতৃত্ব দানে অযোগ্য এবং তারা সচেতন হলে শ্বেতাঙ্গদের কর্তৃত্ব হুমকির মুখে পড়বে। তাই বৈষম্যমূলক নীতি নিয়ে তাদের অধিকারবঞ্চিত করা হয়।
২. ধর্মীয় কারণ: ক্যালভিনিস্ট খ্রিস্টানরা অখ্রিস্টানদের নীচ ও স্বর্গীয় অনুগ্রহ থেকে বঞ্চিত মনে করত, যা সাদা-কালোর বিভেদ বাড়ায়।
৩. জাতিগত কারণ: অশ্বেতাঙ্গরা জাতি হিসেবে শ্রেষ্ঠ নয়—এই মিথকে কাজে লাগিয়ে শ্বেতাঙ্গরা নিজেদের জন্য বিশেষ সুযোগ-সুবিধা সংরক্ষণ করে এবং নিগ্রো ও ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের শোষণ করে।
৪. সাংস্কৃতিক কারণ: রেনেসাঁ-পরবর্তী সময়ে ইউরোপীয়রা বিশ্বজুড়ে শ্রেষ্ঠত্ব দাবি করে। কৃষ্ণাঙ্গদের জ্ঞান-বিজ্ঞানে পিছিয়ে থাকা দেখে তারা নিজেদের সাংস্কৃতিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠায় বর্ণবাদনীতি গ্রহণ করে।উপসংহারে বলা যায়, অর্থনৈতিক স্বার্থ বর্ণবাদের একটি শক্তিশালী কারণ হলেও রাজনৈতিক, ধর্মীয়, জাতিগত ও সাংস্কৃতিক কারণ একসাথে কাজ করেই বর্ণবাদকে একটি সুসংগঠিত ব্যবস্থায় পরিণত করেছিল। তাই এটিকে একমাত্র কারণ বলা যায় না।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও