সাহিত্য পাঠ • নবান্ন
সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন
জমির উদ্দিন প্রতি বছর বৈশাখে বীজতলা তৈরি করেন, আষাঢ়ে চারা রোপণ করেন। শ্রাবণ-ভাদ্রের বন্যা ও পোকার আক্রমণে রাত জেগে মাঠ পাহারা দেন, সেচ দেন। কার্তিকে সবুজ মাঠ দেখে তাঁর মন ভরে যায়। এবার অগ্রহায়ণে নির্বিঘ্নে সব ধান কেটে গোলায় তুলেছেন। উঠানে নতুন চালের পায়েস রান্না হচ্ছে, প্রতিবেশীরাও এসেছে নবান্নের নিমন্ত্রণে।
- ক)(1)
‘নবান্ন’ কবিতায় কোন মাসে নবান্ন উৎসব পালিত হচ্ছে?
- খ)(2)
“পাঁচরা ধানে ছক-কাটা মাঠ জুড়ায় চাষার আঁখি”— এখানে কী বোঝানো হয়েছে?
- গ)(3)
উদ্দীপকের জমির উদ্দিনের কার্তিক-অগ্রহায়ণের অনুভূতি ‘নবান্ন’ কবিতার কৃষকের মানসিক অবস্থার সঙ্গে কীভাবে সংগতিপূর্ণ, কবিতা অনুসারে বর্ণনা করো।
- ঘ)(4)
“পরিণতিতে ভিন্ন হলেও উদ্দীপকের জমির উদ্দিন ও ‘নবান্ন’ কবিতার কৃষক একই জীবনসংগ্রামের অংশীদার।”— বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ‘নবান্ন’ কবিতায় অগ্রহায়ণ মাসে নবান্ন উৎসব পালিত হচ্ছে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর কার্তিক মাসে কৃষক মাঠে কাঁচা-পাকা ধানের গাছে ভরা সীমানা-ঘেরা ছক-কাটা জমি দেখেন। এটি দেখতে অপূর্ব সুন্দর। দীর্ঘদিনের পরিশ্রমের ফসল চোখের সামনে বড় হয়ে উঠতে দেখে কৃষকের মন প্রশান্তিতে ভরে যায়। চরণটিতে বাংলার ধানের মাঠের সৌন্দর্য এবং ফসলের প্রতি কৃষকের আনন্দ ও তৃপ্তি প্রকাশ পেয়েছে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ‘নবান্ন’ কবিতার কৃষক বৈশাখ থেকে আশ্বিন পর্যন্ত আশা ও আতঙ্কের দোলাচলে ছিলেন, এত ব্যস্ত ছিলেন যে কীভাবে দিন কেটে গেছে খেয়ালই ছিল না। এ সময় তিনি বন্যার স্রোত ঠেকাতে বাঁধ দিয়েছেন এবং রক্ত জল করে মলিন চারা সেচে বাঁচিয়েছেন। কার্তিকে মাঠভরা ফসল দেখে তাঁর আশঙ্কা কেটে যায়, মনে হয় এবার ফসল ফাঁকি দেবে না; ছক-কাটা মাঠ তাঁর চোখ জুড়ায়। অগ্রহায়ণে ধান পাকলে তিনি নিশ্চিন্ত হয়ে আরও কয়েকদিন অপেক্ষা করতে চান, কারণ এ মাসে দুর্যোগের ভয় নেই; তখন আনন্দ ও সুখ-স্বপ্নে তিনি বিভোর। উদ্দীপকের জমির উদ্দিনও বর্ষায় বন্যা ও পোকার আক্রমণের মধ্যে রাত জেগে মাঠ পাহারা দিয়েছেন ও সেচ দিয়েছেন, যা কবিতার কৃষকের আশা-আতঙ্কে কাটানো দিনগুলোর সঙ্গে মেলে। কার্তিকে সবুজ মাঠ দেখে তাঁর মন ভরে ওঠা কবিতার কৃষকের চোখ জুড়ানোর অনুরূপ। অগ্রহায়ণে ধান তুলে নবান্ন পালনের আনন্দ কবিতার কৃষকের সুখ-স্বপ্নে বিভোর মানসিকতার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ। এভাবে আশা-আতঙ্ক থেকে নিশ্চিন্ত আনন্দ পর্যন্ত কৃষকের মানসিক অবস্থার পরিবর্তন উদ্দীপকে প্রতিফলিত হয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর “পরিণতিতে ভিন্ন হলেও উদ্দীপকের জমির উদ্দিন ও ‘নবান্ন’ কবিতার কৃষক একই জীবনসংগ্রামের অংশীদার”— মন্তব্যটি যথার্থ। ‘নবান্ন’ কবিতার কৃষক বৈশাখ থেকে আশ্বিন পর্যন্ত আশা-আতঙ্কে ফসল রক্ষা করেছেন। তিনি বন্যাধারা ঠেকিয়েছেন, মলিন চারাকে রক্ত জল করে সেচ দিয়েছেন, কার্তিকে মাঠভরা ফসল দেখে তৃপ্ত হয়েছেন। অগ্রহায়ণে ফসল তোলার সব আয়োজন করেও এক রাতে সর্বস্ব হারিয়েছেন। উদ্দীপকের জমির উদ্দিনও বৈশাখে বীজতলা, আষাঢ়ে রোপণ, বর্ষায় বন্যা ও পোকার বিরুদ্ধে সংগ্রাম, সেচ দেওয়া, রাত জেগে মাঠ পাহারা— সবকিছুই একইভাবে করেছেন। কার্তিকে সবুজ মাঠ দেখে তাঁর মন ভরে ওঠে, যা কবিতার কৃষকের চোখ জুড়ানোর সঙ্গে মেলে। কিন্তু পার্থক্য হলো পরিণতিতে। কবিতার কৃষক পাকা ধান হারিয়ে নিঃস্ব হন, তাঁর নবান্ন-উৎসব অর্থহীন হয়ে যায় এবং বেদনায় গল্প অসমাপ্ত থাকে। আর জমির উদ্দিন নির্বিঘ্নে ধান ঘরে তোলেন এবং আনন্দের সঙ্গে নবান্ন পালন করেন। তবু উভয়ের শ্রম, ধৈর্য, ঝুঁকি ও আশার স্বরূপ একই। ফল ভিন্ন হলেও বাংলার কৃষকের এই একই সংগ্রামী জীবনের চিত্র কবিতা ও উদ্দীপকে ফুটে উঠেছে। অতএব মন্তব্যটি সঠিক।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও