বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় • অর্থনৈতিক নির্দেশকসমূহ ও বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রকৃতি
বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় প্রশ্ন
'সোনাপুর' দেশটি কয়েক দশক আগে অনুন্নত ছিল। এখন দেশটি পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার মাধ্যমে উন্নয়ন কর্মসূচি পরিচালনা করছে। কৃষিতে উন্নত বীজ, সার ও সেচ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। নতুন নতুন কলকারখানা গড়ে ওঠায় মানুষ গ্রাম ছেড়ে শহরে যাচ্ছে। জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে জাতীয় কর্মসূচির ফলে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমছে। বিদেশি সাহায্যের ওপর নির্ভরতাও ধীরে ধীরে কমে আসছে। তবে ধনী ও গরিবের আয়ের ব্যবধান এখনো অনেক বেশি।
- ক)(1)
নগরায়ণ বলতে কী বোঝায়?
- খ)(2)
উন্নয়নশীল দেশে বৈদেশিক সাহায্যের ওপর নির্ভরতা দীর্ঘদিন চলতে থাকে কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
সোনাপুর দেশটি অনুন্নত না উন্নয়নশীল? উদ্দীপকের তথ্যের ভিত্তিতে যুক্তি দাও।
- ঘ)(4)
'সোনাপুরে উন্নয়ন সূচিত হলেও জনগণের সর্বাধিক কল্যাণ এখনো নিশ্চিত হয়নি'— উদ্দীপক ও পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর শিল্পায়ন ও অবকাঠামো উন্নয়নের ফলে কাজের সন্ধানে গ্রামের মানুষ শহরমুখী হওয়া এবং গ্রামীণ অর্থনীতি ও সমাজব্যবস্থা শহরভিত্তিক রূপ লাভ করাকে নগরায়ণ বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উন্নয়নশীল দেশে উন্নয়ন পরিকল্পনা ও কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য প্রচুর অর্থ ও মূলধনের প্রয়োজন হয়। কিন্তু অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে এই বিপুল তহবিল সংগ্রহ করা সম্ভব হয় না, কারণ জনগণের আয় ও সঞ্চয় কম। ফলে এসব দেশ বিদেশি ঋণ, সাহায্য ও অনুদানের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। উন্নয়ন অর্জনের একটি পর্যায়ে না পৌঁছানো পর্যন্ত এই নির্ভরতা বজায় থাকে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের তথ্য বিশ্লেষণে সোনাপুরকে একটি উন্নয়নশীল দেশ বলা যায়।
যুক্তি:
১. পরিকল্পিত উন্নয়ন উদ্যোগ: সোনাপুর পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার মাধ্যমে উন্নয়ন কর্মসূচি পরিচালনা করছে। নিজেদের অর্থনৈতিক অবস্থা সম্পর্কে সচেতন হয়ে পরিকল্পিত উদ্যোগ নেওয়া উন্নয়নশীল দেশের প্রধান বৈশিষ্ট্য, যা অনুন্নত দেশের সাথে এর মূল পার্থক্য।
২. কৃষির আধুনিকায়ন: উন্নত বীজ, সার ও সেচ সুবিধা সরবরাহ করা হচ্ছে, যা কৃষির ক্রমোন্নতির লক্ষণ।
৩. শিল্পায়ন ও নগরায়ণ: নতুন কলকারখানা স্থাপন ও মানুষের শহরমুখী হওয়া দ্রুত শিল্পায়ন ও নগরায়ণ হার বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়।
৪. জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার হ্রাস ও বিদেশি নির্ভরতা কমা: জাতীয় কর্মসূচিতে জনসংখ্যা বৃদ্ধি কমছে এবং বৈদেশিক সাহায্যের ওপর নির্ভরতা কমে আসছে।
অনুন্নত দেশে এসব উদ্যোগ ও ইতিবাচক প্রবণতা থাকে না। অতএব, সোনাপুর উন্নয়নশীল দেশ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর অর্থনৈতিক উন্নয়নের মূল লক্ষ্য সকল জনগণের সর্বাধিক আর্থিক ও সামাজিক কল্যাণ নিশ্চিত করা। পাঠ্যবই অনুযায়ী মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি ও আয়ের সুষম বণ্টন এই কল্যাণ নিশ্চিত করে।
উদ্দীপকে সোনাপুরে কৃষি আধুনিকায়ন, শিল্পায়ন, নগরায়ণ ও জনসংখ্যা হ্রাস ঘটলেও ধনী-গরিবের আয়ের ব্যবধান এখনো অনেক বেশি। এর অর্থ আয়ের সুষম বণ্টন নিশ্চিত হয়নি।
উন্নয়নশীল দেশে আর্থসামাজিক উন্নয়ন সূচিত হলেও বণ্টনব্যবস্থার ত্রুটি দীর্ঘসময় থেকে যায়, ফলে আয় বণ্টনে বৈষম্য প্রলম্বিত হয়। বৈষম্য থাকলে উৎপাদনের উপাদানগুলো, বিশেষত শ্রমিকেরা, ন্যায্য মজুরি পায় না। তাই উৎপাদন ও জাতীয় আয় বাড়লেও এর সুফল সব জনগণের কাছে পৌঁছায় না এবং সার্বিক কল্যাণ কমে যায়।
অন্যদিকে, কাঠামোগত পরিবর্তনের মাধ্যমে বণ্টনের বৈষম্য ক্রমশ হ্রাস পেলে এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও সুশাসনের সুবিধা সকলের কাছে পৌঁছালে তবেই প্রকৃত অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটে।
অতএব, বণ্টনে বৈষম্য থাকায় সোনাপুরে উন্নয়ন সূচিত হলেও জনগণের সর্বাধিক কল্যাণ এখনো নিশ্চিত হয়নি— উক্তিটি যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও