বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় • জাতীয় সম্পদ ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা

বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় প্রশ্ন

'মেঘনা' দেশের রেলপথ, সরকারি হাসপাতাল ও বড় ব্যাংকগুলো সরকারি নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হয়। অন্যদিকে সেখানকার তৈরি পোশাক কারখানা, হোটেল-রেস্তোরাঁ ও কৃষিপণ্যের ব্যবসা ব্যক্তিগত উদ্যোগে চলে। বেসরকারি পোশাক কারখানার মালিক মুনাফা বাড়াতে শ্রমিকদের প্রাপ্য মজুরির চেয়ে কম মজুরি দেন। অপরদিকে সরকারি পাটকলের শ্রমিকরা ন্যায্য মজুরি পান।

  1. ক)

    মিশ্র অর্থনীতি কী?

    (1)
  2. খ)

    মিশ্র অর্থনীতিতে অত্যাবশ্যকীয় দ্রব্যের ক্ষেত্রে একচেটিয়া ব্যবসার ওপর বিধিনিষেধ থাকে কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের খাতগুলোকে সরকারি ও বেসরকারি খাতে ভাগ করো এবং মিশ্র অর্থনীতির আলোকে এ বিভাজনের কারণ ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের সরকারি ও বেসরকারি খাতে আয় বণ্টনের পার্থক্য তুলনা করে 'মেঘনা' দেশের সম্পদের বণ্টন সম্পর্কে মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর যে অর্থব্যবস্থায় ধনতান্ত্রিক ও সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতির কিছু কিছু বৈশিষ্ট্য একসঙ্গে বিদ্যমান থাকে এবং ব্যক্তিগত ও সরকারি উভয় খাত পাশাপাশি থাকে, তাকে মিশ্র অর্থনীতি বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর মিশ্র অর্থনীতিতে জনসাধারণের ব্যবহার্য অতি প্রয়োজনীয় দ্রব্যের ক্ষেত্রে একচেটিয়া ব্যবসার ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। কারণ একচেটিয়া ব্যবসায় একজন উৎপাদক ইচ্ছামতো দাম নির্ধারণ করতে পারে, যা জনগণের জন্য ক্ষতিকর। বিধিনিষেধ থাকলে একাধিক উৎপাদনকারী প্রতিযোগিতামূলক দামে দ্রব্য বাজারে ছাড়তে বাধ্য হন। এতে জনসাধারণ ন্যায্য দামে দ্রব্য পায় এবং উপকৃত হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের খাতগুলোর বিভাজন নিচে দেওয়া হলো।
    সরকারি খাত: রেলপথ, সরকারি হাসপাতাল, বড় ব্যাংক ও সরকারি পাটকল।
    বেসরকারি খাত: তৈরি পোশাক কারখানা, হোটেল-রেস্তোরাঁ ও কৃষিপণ্যের ব্যবসা।
    বিভাজনের কারণ: মিশ্র অর্থনীতিতে যোগাযোগ, চিকিৎসা, শিক্ষা, বড় ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, মৌলিক ও বৃহদায়তন শিল্পের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ খাত প্রধানত সরকারি নিয়ন্ত্রণে থাকে। এসব খাতে মুনাফার চেয়ে জনকল্যাণই মূল লক্ষ্য। অন্যদিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্য, যেমন কৃষিপণ্য, তৈরি পোশাক, হোটেল-রেস্তোরাঁ প্রধানত ব্যক্তিগত উদ্যোগে উৎপাদিত ও সরবরাহ করা হয়। এভাবে সরকারি ও বেসরকারি খাতের সহাবস্থানই মিশ্র অর্থনীতির মূল বৈশিষ্ট্য, যা উদ্দীপকে প্রতিফলিত হয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে 'মেঘনা' দেশে মিশ্র অর্থব্যবস্থা বিদ্যমান। এখানে দুই খাতে আয় বণ্টনের চিত্র ভিন্ন।
    বেসরকারি খাত: পোশাক কারখানার মালিক মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে শ্রমিকদের প্রাপ্য মজুরির চেয়ে কম মজুরি দেন। উদ্বৃত্ত মজুরি মালিকের মুনাফার অন্তর্ভুক্ত হয়। ধনতান্ত্রিক ব্যবস্থার মতো এখানে শ্রমিক বঞ্চিত ও শোষিত হয়। ফলে উৎপাদনের উপাদানগুলোর আয়ে বৈষম্য দেখা দেয়।
    সরকারি খাত: সরকারি পাটকলে মুনাফা নয়, বরং সর্বাধিক সামাজিক কল্যাণ অর্জনই উদ্দেশ্য। তাই সেখানে শ্রমিকরা ন্যায্য মজুরি পান এবং সম্পদের সুষম বণ্টন সম্ভব হয়।
    মূল্যায়ন: দেশের অর্থনীতিতে একদিকে ন্যায্য বণ্টন হচ্ছে, অন্যদিকে শ্রমিক শোষণও চলছে। ফলে সম্পদ বা আয়ের আংশিক সুষ্ঠু বণ্টন ঘটছে, সম্পূর্ণ নয়। বেসরকারি খাতে আয় বৈষম্য থেকে যায় বলে সকল জনগণের সর্বাধিক কল্যাণ নিশ্চিত হয় না। এ বৈষম্য কমাতে বেসরকারি খাতেও ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও