সাহিত্য পাঠ • শিক্ষাচিন্তা
সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন
শহরের নামকরা একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুল থেকে বদলি হয়ে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী তামান্না গ্রামের একটি কলেজে ভর্তি হয়। আগের স্কুলে ইংরেজিতে পড়ানো বিষয়গুলো সে মুখস্থ করত, কিন্তু অনেক কিছুই বুঝত না। নতুন কলেজে শিক্ষকেরা বাংলায় ব্যাখ্যা করেন, ফলে সে সহজেই বিষয় বুঝতে পারে। তবে কলেজের শিক্ষকেরা প্রায়ই বলেন, মাধ্যম বাংলা হলেও যদি শিক্ষকদের নিজেদের চিন্তাই এলোমেলো থাকে, তবে ভালো ফল আশা করা যায় না।
- ক)(1)
কাজী আবদুল ওদুদ কোন আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব ছিলেন?
- খ)(2)
“যে ভাষা আমাদের মাতৃভাষা নয় তার সাহায্যে শিক্ষালাভ করলে তাতে অনেক ত্রুটি যে অনিবার্য হয়ে পড়ে।”—কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকের তামান্নার অভিজ্ঞতা ‘শিক্ষাচিন্তা’ প্রবন্ধের কোন বক্তব্যকে সমর্থন করে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
“শিক্ষার বাহনের সুমীমাংসা হলেই শিক্ষার অবস্থা আশানুরূপ সুন্দর হয়ে ওঠে না।”—উদ্দীপক ও ‘শিক্ষাচিন্তা’ প্রবন্ধের আলোকে উক্তিটি বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর কাজী আবদুল ওদুদ ‘বুদ্ধির মুক্তি’ আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব ছিলেন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর মাতৃভাষা মানুষের চিন্তা ও অনুভূতির স্বাভাবিক বাহন। অন্য ভাষায় শিক্ষা নিতে গেলে শিক্ষার্থীকে প্রথমে ভাষা আয়ত্ত করতে হয়, ফলে বিষয়বস্তু গভীরভাবে বোঝার সুযোগ কমে যায়। এতে শিক্ষা অনেক সময় মুখস্থনির্ভর ও অগভীর হয়ে পড়ে। লেখকের মতে এ বিষয়ে আমাদের দেশের চিন্তাশীলেরা প্রায় একমত। তাই মাতৃভাষা ছাড়া অন্য ভাষায় শিক্ষালাভে ত্রুটি অনিবার্য।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর তামান্নার অভিজ্ঞতা ‘শিক্ষাচিন্তা’ প্রবন্ধের মাতৃভাষার বাইরের ভাষায় শিক্ষালাভে ত্রুটি অনিবার্য—এই বক্তব্যকে সমর্থন করে।
প্রবন্ধে লেখক বলেছেন, যে ভাষা মাতৃভাষা নয় তার সাহায্যে শিক্ষালাভ করলে অনেক ত্রুটি অনিবার্য হয়ে পড়ে এবং এ বিষয়ে চিন্তাশীলেরা একমত। উদ্দীপকে তামান্না ইংরেজি মাধ্যমে পড়ার সময় বিষয়গুলো মুখস্থ করত, কিন্তু বুঝত না। এতে প্রমাণ হয় যে বিদেশি ভাষায় শিক্ষা তার জ্ঞানার্জনে ত্রুটি তৈরি করেছিল। পরে বাংলায় ব্যাখ্যা শুনে সে সহজেই বিষয় বুঝতে পারছে। অর্থাৎ মাতৃভাষায় শিক্ষা শিক্ষার্থীর বোধ ও জ্ঞানের বিকাশে সহায়ক—প্রবন্ধের এ বক্তব্যই তামান্নার অভিজ্ঞতায় প্রমাণিত হয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উক্তিটি যথার্থ। ‘শিক্ষাচিন্তা’ প্রবন্ধে লেখক স্বীকার করেছেন, মাতৃভাষা ছাড়া অন্য ভাষায় শিক্ষা ত্রুটিপূর্ণ। কিন্তু তিনি স্পষ্ট করেছেন যে শিক্ষার বাহনের সুমীমাংসা হলেও শিক্ষার অবস্থা আশানুরূপ সুন্দর হবে—এমন আশা করা কঠিন। কারণ শিক্ষা যে মন গ্রহণ করবে, তার অবস্থা স্বাভাবিক থাকা চাই। লেখকের মতে, এই মনের গণ্ডগোল শিক্ষার্থীদের চেয়েও বেশি জটিল আকারে ভোগাচ্ছে তাঁদের গুরুস্থানীয়দের, অর্থাৎ শিক্ষকদের। প্রাচ্য-পাশ্চাত্য জীবনের সংঘর্ষ, বৃহত্তর জীবনের সঙ্গে নতুন চিন্তাধারার যোগ অনুধাবনে অনিচ্ছা এবং দারিদ্র্য—এসবই তাঁদের বিভ্রান্ত করে।
উদ্দীপকে বাংলা মাধ্যমে তামান্নার বোঝার সুবিধা হয়েছে, যা ভাষার সমস্যার সমাধান নির্দেশ করে। তবু কলেজের শিক্ষকেরা বলছেন, শিক্ষকদের নিজেদের চিন্তা এলোমেলো থাকলে ভালো ফল হবে না। এটি প্রবন্ধের সেই বক্তব্যেরই প্রতিধ্বনি, যেখানে শিক্ষকদের মানসিক বিশৃঙ্খলাকে শিক্ষার বড় সংকট হিসেবে দেখানো হয়েছে। সুতরাং শুধু বাহন বদলালেই চলবে না, শিক্ষকের মনের শৃঙ্খলাও জরুরি—উক্তিটি এ কারণে যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও