জীববিজ্ঞান • জীবের বংশগতি ও জৈব অভিব্যক্তি
জীববিজ্ঞান প্রশ্ন
জীববিজ্ঞান ক্লাসে শিক্ষক বাদুড়ের ডানা, তিমির ফ্লিপার, ঘোড়ার অগ্রপদ ও মানুষের হাতের হাড়ের ছবি দেখালেন। ছবিতে আকৃতির পার্থক্য থাকলেও অস্থিবিন্যাসের মিল ছিল। এরপর তিনি পতঙ্গের ডানার ছবি দেখিয়ে বললেন, বাদুড় ও পতঙ্গ দুটিই উড়তে পারে, তবু তাদের ডানার গঠন ভিন্ন।
- ক)(1)
জীবন্ত জীবাশ্ম কী?
- খ)(2)
মিসিং লিঙ্ক বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত অঙ্গগুলোর মধ্যে কোনগুলো সমসংস্থ এবং কোনগুলো সমবৃত্তি অঙ্গ? কারণসহ ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের অঙ্গগুলো জৈব অভিব্যক্তির প্রমাণ হিসেবে কতটা গুরুত্বপূর্ণ? জীবদেহের অন্যান্য প্রমাণসহ মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর যেসব জীব সুদূর অতীতে উদ্ভূত হয়ে খুব বেশি পরিবর্তিত না হয়েও এখনো টিকে আছে, তাদের জীবন্ত জীবাশ্ম বলে। যেমন: লিমুলাস, গিঙ্কো বাইলোবা।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর জীবজগতে এমন কিছু জীব আছে যারা একাধিক জীবগোষ্ঠীর মধ্যবর্তী বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন, যেমন প্লাটিপাস, মাডস্কিপার। খুঁজে পাওয়ার আগে এদের মিসিং লিঙ্ক বলা হতো, কারণ জীবগোষ্ঠীগুলোর মধ্যে সংযোগকারী জীবের অভাব ছিল। বহু মিসিং লিঙ্ক এখন আবিষ্কৃত হয়েছে। সেগুলোকে এখন কানেক্টিং লিঙ্ক বলা হয় এবং এরা জৈব অভিব্যক্তির সংযোগকারী জীব।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর সমসংস্থ অঙ্গ: বাদুড়ের ডানা, তিমির ফ্লিপার, ঘোড়ার অগ্রপদ ও মানুষের হাত সমসংস্থ অঙ্গ। কারণ আপাতদৃষ্টিতে এদের আকৃতি ও কাজ ভিন্ন হলেও এদের অস্থিবিন্যাসের মৌলিক প্রকৃতি একই ধরনের।
সমবৃত্তি অঙ্গ: বাদুড়ের ডানা ও পতঙ্গের ডানা সমবৃত্তি অঙ্গ। একই পরিবেশে টিকে থাকার তাগিদে উড়তে সহায়ক অঙ্গের উদ্ভব হয়েছে, কিন্তু এদের উৎপত্তি ও গঠন ভিন্ন। অর্থাৎ কাজ একই হলেও গঠনগত মিল নেই।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের সমসংস্থ অঙ্গ প্রমাণ করে, বাদুড়, তিমি, ঘোড়া ও মানুষ একই পূর্বসূরী থেকে বিবর্তিত হয়েছে। বিভিন্ন পরিবেশে ভিন্ন কাজের জন্য অঙ্গগুলো ভিন্ন আকৃতি পেলেও মৌলিক অস্থিবিন্যাস একই থেকে গেছে। অন্যদিকে সমবৃত্তি অঙ্গ (বাদুড় ও পতঙ্গের ডানা) দেখায় যে একই পরিবেশের প্রভাবে ভিন্ন উৎসের জীবে একই কাজের জন্য অঙ্গ গড়ে উঠেছে, যা প্রাকৃতিক নির্বাচনের ফল। সুতরাং উভয় ধরনের অঙ্গই জৈব অভিব্যক্তির পক্ষে জোরালো প্রমাণ।
তবে শুধু এগুলোই একমাত্র প্রমাণ নয়। আরও প্রমাণ হলো:
১. লুপ্তপ্রায় অঙ্গ: তৃতীয় অক্ষিপত্র, লেজের অস্থি, যা আদি পূর্বসূরীতে কাজ করত কিন্তু পরে কাজ হারিয়েছে।
২. কানেক্টিং লিঙ্ক: প্লাটিপাস, মাডস্কিপার প্রভৃতি মধ্যবর্তী বৈশিষ্ট্যের জীব।
৩. ভ্রূণতাত্ত্বিক প্রমাণ: মাছ, উভচর, সরীসৃপ, পাখি ও স্তন্যপায়ীর ভ্রূণে ফুলকা ও লেজ থাকে এবং তারা দেখতে একইরকম।
৪. ফসিল ও জীবন্ত জীবাশ্ম: অতীতের জীবের সঙ্গে বর্তমান জীবের পার্থক্য ও সম্পর্ক দেখায়।
৫. আণবিক প্রমাণ: ডিএনএ, আরএনএ বা প্রোটিনের ক্রমের মিল।
এসব প্রমাণ একত্রে বিবেচনা করলে দেখা যায়, জীবজগৎ পরিবর্তনশীল এবং জীবেরা পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই উদ্দীপকের অঙ্গগুলো গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হলেও অন্যান্য প্রমাণ মিলিয়েই অভিব্যক্তির সম্পূর্ণ চিত্র পাওয়া যায়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও