সাহিত্য পাঠ • নূরলদীনের কথা মনে পড়ে যায়
সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন
পূর্ণিমা রাতে ছাদে বসে কলেজছাত্রী নাজিয়া খাতায় লেখে, “চারদিকে নিস্তব্ধ জ্যোৎস্না, দূরে নদীর জল রুপোলি। এমন সুন্দর রাতেও আজ মনটা ভারী। দেশজুড়ে মানুষের ওপর যে অন্যায় চলছে, তার কথা ভাবতে ভাবতে ইতিহাসের সেই সাহসী মানুষগুলোর মুখ ভেসে ওঠে। তাঁরা ডাক দিলে হয়তো আবার সবাই জেগে উঠত।” খাতা বন্ধ করে সে নিচে নেমে আসে।
- ক)(1)
কবিতায় কবি কত সালের কথা বলে নুরলদীনের ডাকের উল্লেখ করেছেন?
- খ)(2)
“তখন কে থাকে ঘুমে? কে থাকে ভেতরে?”—কবি এ প্রশ্ন করেছেন কেন?
- গ)(3)
‘নুরলদীনের কথা মনে পড়ে যায়’ কবিতায় প্রকৃতির বর্ণনা কীভাবে নুরলদীনের স্মরণের পটভূমি তৈরি করেছে? উদ্দীপকের নাজিয়ার ভাবনার সঙ্গে মিলিয়ে ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
“নুরলদীন কবিতায় চিরায়ত প্রতিবাদের প্রতীক হয়ে উঠেছেন।”—নাজিয়ার ভাবনার আলোকে উক্তিটি বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর কবিতায় কবি ১১৮৯ সনের কথা বলে নুরলদীনের ডাকের উল্লেখ করেছেন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর কবি এ প্রশ্নের মাধ্যমে বোঝাতে চেয়েছেন যে, স্মৃতির জ্যোৎস্না যখন ছড়িয়ে পড়ে তখন কেউ আর নিষ্ক্রিয় বা নিশ্চুপ থাকতে পারে না। নুরলদীনের স্মৃতি মানুষের মনে এমন তীব্র আলোড়ন তোলে যে ঘুমন্ত মানুষও জেগে ওঠে। প্রশ্নটি আসলে একটি আহ্বান, যার মাধ্যমে কবি সবাইকে প্রশস্ত প্রান্তরে এসে একত্র হতে বলেছেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ‘নুরলদীনের কথা মনে পড়ে যায়’ কবিতায় প্রকৃতির বর্ণনা নুরলদীনের স্মরণের এক গভীর ও আবেগময় পটভূমি তৈরি করেছে।
কবিতার শুরুতেই নীল আকাশ, হাজার তারা এবং ধবল দুধের মতো পূর্ণিমার জ্যোৎস্নার চিত্র আছে। এই সুন্দর, স্তব্ধ পরিবেশে হঠাৎ ‘তীব্র স্বচ্ছ পূর্ণিমায়’ কবির মনে নুরলদীনের কথা জেগে ওঠে। অর্থাৎ প্রকৃতির নিস্তব্ধ সৌন্দর্যের বিপরীতে নষ্ট ক্ষেত, নষ্ট মাঠ ও সংহারের বাস্তবতা কবিকে অতীতের প্রতিবাদী নায়কের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।
উদ্দীপকে নাজিয়াও নিস্তব্ধ জ্যোৎস্নারাতে বসে দেশের অন্যায়ের কথা ভাবতে গিয়ে ইতিহাসের সাহসী মানুষদের কথা স্মরণ করেছে। কবিতার মতোই এখানে পূর্ণিমার নীরব প্রকৃতি অতীত স্মরণের পটভূমি তৈরি করেছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উক্তিটি যথার্থ। কবিতায় নুরলদীন কেবল একজন ঐতিহাসিক ব্যক্তি নন, কালে কালে প্রতিবাদের প্রতীক।
নুরলদীন রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলে সামন্তবাদ ও সাম্রাজ্যবাদবিরোধী সাহসী কৃষক নেতা, ১১৮৯ সনে যাঁর ডাকে মানুষ জেগে উঠেছিল। কিন্তু কবি তাঁকে ইতিহাসের পাতায় আটকে রাখেননি। ১৯৭১-এর দুঃসময়ে, যখন শকুন নেমে আসে, দালালদের আলখাল্লায় দেশ ছেয়ে যায়, স্বপ্ন লুট হয় ও কণ্ঠ বাজেয়াপ্ত হয়, তখনই কবির মনে নুরলদীনের কথা জেগে ওঠে। ইতিহাসের পাতা থেকে বেরিয়ে এসে তিনি মিশে যান শ্রমজীবী সাধারণ মানুষের ভিড়ে এবং সমকালের সব আন্দোলনে অংশ নেন। কবির বিশ্বাস, আবার তিনি ডাক দেবেন—“জাগো, বাহে, কোনঠে সবায়?”
উদ্দীপকে নাজিয়া দেশজুড়ে অন্যায়ের সময় ইতিহাসের কোনো নির্দিষ্ট একজনের নাম না করে ‘সাহসী মানুষগুলো’র কথা ভেবেছে এবং আশা করেছে তাঁরা ডাক দিলে সবাই জেগে উঠত। এতে বোঝা যায়, বর্তমানের সংকটে অতীতের প্রতিবাদী চরিত্রের কাছে ফিরে যাওয়ার প্রবণতা চিরন্তন। তবে নাজিয়ার ভাবনা নিষ্ক্রিয় আকাঙ্ক্ষায় সীমিত, আর কবিতায় নুরলদীনের স্মৃতি মানুষকে একত্র হয়ে জেগে ওঠার সক্রিয় প্রেরণা দেয়।
অতএব নাজিয়ার ভাবনার আলোকেও প্রমাণিত হয়, নুরলদীন কবিতায় যুগে যুগে প্রতিবাদের চিরায়ত প্রতীক।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও