জীববিজ্ঞান • সমন্বয় (co-ordination)

জীববিজ্ঞান প্রশ্ন

রান্না করার সময় তুলি অসাবধানে গরম কড়াইয়ে হাত ছুঁয়ে ফেলল এবং সঙ্গে সঙ্গে হাতটি সরিয়ে নিল। এর কিছুক্ষণ পর সে ব্যথা অনুভব করে চিৎকার করে উঠল এবং কলের কাছে দৌড়ে গিয়ে ঠান্ডা পানি ঢেলে হাত ধুয়ে নিল।

  1. ক)

    প্রতিবর্তী ক্রিয়া কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    আমরা চাইলেও প্রতিবর্তী ক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে তুলির হাত সঙ্গে সঙ্গে সরে যাওয়ার প্রক্রিয়াটি ধাপে ধাপে ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে তুলির দুটি ভিন্ন সাড়ার নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ও নিয়ন্ত্রণকারী অংশের মধ্যে পার্থক্য বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর যেসব উদ্দীপনার প্রতিক্রিয়া মস্তিষ্ক দিয়ে না হয়ে সুষুম্নাকাণ্ড দিয়ে নিয়ন্ত্রিত হয় এবং উদ্দীপনার আকস্মিকতায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঘটে, তাকে প্রতিবর্তী ক্রিয়া বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর প্রতিবর্তী ক্রিয়া মূলত সুষুম্নাকাণ্ড দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়, মস্তিষ্ক দ্বারা নয়। উদ্দীপনা ত্বকের সংবেদী নিউরন থেকে সুষুম্নাকাণ্ডের ধূসর অংশে পৌঁছালে সেখান থেকেই সংযোগকারী ও আজ্ঞাবাহী নিউরনের মাধ্যমে পেশিতে নির্দেশ চলে যায়। এখানে চিন্তা বা ইচ্ছার কেন্দ্র সেরিব্রামের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা করা হয় না। তাই এই ক্রিয়া আমাদের ইচ্ছার অধীন নয় এবং চাইলেও নিয়ন্ত্রণ করা যায় না।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর তুলির হাত সরে যাওয়া একটি প্রতিবর্তী ক্রিয়া। প্রক্রিয়াটি নিম্নরূপ:
    ১. গরম কড়াইয়ে হাত লাগলে হাতের ত্বক গ্রাহক অঙ্গ হিসেবে কাজ করে এবং সেখানকার সংবেদী নিউরন উত্তাপের উদ্দীপনা গ্রহণ করে।
    ২. সংবেদী নিউরনের অ্যাক্সনের মাধ্যমে উদ্দীপনা সুষুম্নাকাণ্ডের ধূসর অংশে পৌঁছায়।
    ৩. সেখানে সংযোগকারী বা রিলে নিউরনের মাধ্যমে তড়িৎ রাসায়নিক পদ্ধতিতে উদ্দীপনা আজ্ঞাবাহী বা মোটর নিউরনের ডেনড্রাইটে প্রবেশ করে।
    ৪. আজ্ঞাবাহী নিউরনের অ্যাক্সনের মাধ্যমে উদ্দীপনা হাতের পেশিতে পৌঁছায়।
    ৫. উদ্দীপনা পেশিতে পৌঁছালে পেশি সংকুচিত হয় এবং হাত দ্রুত উদ্দীপনাস্থল থেকে সরে যায়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে তুলির প্রথম সাড়া হলো হাত সঙ্গে সঙ্গে সরিয়ে নেওয়া, যা প্রতিবর্তী ক্রিয়া। দ্বিতীয় সাড়া হলো ব্যথা অনুভব করে চিৎকার করা এবং কলের কাছে গিয়ে পানি ঢালা, যা মস্তিষ্ক-নিয়ন্ত্রিত ঐচ্ছিক ক্রিয়া। এ দুটির পার্থক্য নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
    ১. নিয়ন্ত্রণকারী অংশ: প্রতিবর্তী ক্রিয়া সুষুম্নাকাণ্ড দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। ঐচ্ছিক ক্রিয়া মস্তিষ্কের সেরিব্রাম দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়, কারণ সেরিব্রাম চিন্তা, ইচ্ছা, স্মৃতি ও ঐচ্ছিক পেশির কার্যকলাপের কেন্দ্র।
    ২. সময়: প্রতিবর্তী ক্রিয়ায় উদ্দীপনা সুষুম্নাকাণ্ড থেকেই সরাসরি পেশিতে যায় বলে সাড়া তাৎক্ষণিক হয়। ঐচ্ছিক ক্রিয়ায় তাড়না মস্তিষ্কে পৌঁছে, সেখানে সিদ্ধান্ত নিয়ে আজ্ঞাবাহী স্নায়ুর মাধ্যমে পেশিতে যায়, তাই কিছুটা সময় লাগে। এজন্য তুলি হাত সরানোর পরে ব্যথা অনুভব করেছে।
    ৩. ইচ্ছার ভূমিকা: প্রতিবর্তী ক্রিয়া ইচ্ছার অধীন নয়, চাইলেও নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। ঐচ্ছিক ক্রিয়ায় তুলি সিদ্ধান্ত নিয়ে পানি ঢেলেছে, অর্থাৎ ইচ্ছার ভূমিকা আছে।
    ৪. পথ: প্রতিবর্তী ক্রিয়ায় সংবেদী নিউরন, সংযোগকারী নিউরন ও আজ্ঞাবাহী নিউরন নিয়ে সরল পথ গঠিত হয়। ঐচ্ছিক ক্রিয়ায় উদ্দীপনা মস্তিষ্কের বিভিন্ন কেন্দ্র হয়ে পেশিতে পৌঁছায়।
    অতএব, দুটি সাড়ার নিয়ন্ত্রণকারী অংশ, গতি ও ইচ্ছার ভূমিকায় তাৎপর্যপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও