সাহিত্য পাঠ • জুলাই অভ্যুত্থানের গ্রাফিতিতে সাহিত্য, গান ও স্লোগান
সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন
‘নীলাকাশ’ ব্যান্ডের একটি পুরোনো গানে ছিল—‘সব প্রশ্নের জবাব দিতে হয় আমায়, তোমার জবাব নেবে কে?’। গানটি লেখা হয়েছিল ব্যক্তিগত অভিমান থেকে, তাই তখন তেমন আলোড়ন তোলেনি। সম্প্রতি এক ছাত্র আন্দোলনে মিছিলে মিছিলে লাইনটি উচ্চারিত হয় এবং শহরের দেয়ালেও লেখা হয়। ওই আন্দোলনের সময় এক র্যাপশিল্পীকে গ্রেপ্তার করা হলে তাঁর মুক্তির দাবিতে দেয়ালে ‘ফ্রি শিল্পী’ লেখা দেখা যায়। তাঁর গানের লাইনও আন্দোলনকারীদের মুখে মুখে ফিরতে থাকে।
- ক)(1)
‘রক্ত গরম মাথা ঠাণ্ডা’ চরণটি কোন ব্যান্ডের?
- খ)(2)
“গানটি শুরুতে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে লেখা না হলেও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় এটি নতুন অর্থ এবং তাৎপর্য নিয়ে হাজির হয়”—ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের গানটির তাৎপর্য-পরিবর্তনের সঙ্গে পাঠ্যরচনার কোন গানের সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে বর্ণিত গান ও র্যাপের ভূমিকা পাঠ্যরচনার আলোকে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ‘রক্ত গরম মাথা ঠাণ্ডা’ চরণটি ‘কাকতাল’ ব্যান্ডের।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্ধৃত কথাটি ‘শূন্য’ ব্যান্ডের ‘শোনো মহাজন’ গান সম্পর্কে বলা হয়েছে। গানটির ‘আমার বিচার তুমি করো, তোমার বিচার করবে কে?’ লাইনটি লেখার সময় রাজনৈতিক কোনো উদ্দেশ্য ছিল না। কিন্তু চব্বিশের আন্দোলনের সময় নিপীড়নমূলক ও দুর্নীতিগ্রস্ত রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রেক্ষাপটে লাইনটি শাসকের জবাবদিহির দাবির প্রতীক হয়ে ওঠে। তাই গানটি আন্দোলনকারীদের কাছে প্রতিবাদের শক্তিশালী আওয়াজ হিসেবে নতুন তাৎপর্য পায়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের ‘নীলাকাশ’ ব্যান্ডের গানটির তাৎপর্য-পরিবর্তনের সঙ্গে রচনায় উল্লিখিত ‘শূন্য’ ব্যান্ডের ‘শোনো মহাজন’ গানের সাদৃশ্য রয়েছে। ‘শোনো মহাজন’ গানটি শুরুতে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে লেখা হয়নি। কিন্তু বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় ‘আমার বিচার তুমি করো, তোমার বিচার করবে কে?’ লাইনটি দুর্নীতিগ্রস্ত শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী দলিল হয়ে ওঠে এবং গ্রাফিতিতে স্থান পায়। উদ্দীপকের গানটিও ব্যক্তিগত অভিমান থেকে লেখা হয়েছিল এবং তখন আলোড়ন তোলেনি। পরে ছাত্র আন্দোলনে এর লাইন মিছিলে উচ্চারিত হয় ও দেয়ালে লেখা হয়। অর্থাৎ দুই ক্ষেত্রেই গান মূল প্রেক্ষাপট ছাড়িয়ে সময়ের প্রয়োজনে নতুন অর্থ লাভ করেছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর রচনা অনুযায়ী গানের কথা ব্যবহারের ফলে গ্রাফিতি মনকে এক সুরে বাঁধার অভিনব মাধ্যম হয়ে ওঠে। জাগরণমূলক গান প্রতিবাদ, ঐক্য ও সংহতির বার্তা জোরালোভাবে প্রকাশ করে।
উদ্দীপকে একটি পুরোনো ব্যান্ডের গানের লাইন আন্দোলনের মিছিলে ও দেয়ালে উচ্চারিত হয়েছে। এর ফলে গানটি অসংখ্য মানুষের ক্ষোভ ও দাবিকে একই সুরে বেঁধেছে। রচনায় ‘শোনো মহাজন’-এর লাইন প্রতিবাদী দলিল হিসেবে এবং কাকতাল ব্যান্ডের ‘রক্ত গরম মাথা ঠাণ্ডা’ চরণ বিপ্লবী বার্তা হিসেবে একইভাবে দেয়ালে স্থান পেয়েছিল।
উদ্দীপকের র্যাপশিল্পীর গ্রেপ্তার ও ‘ফ্রি শিল্পী’ লেখার ঘটনা রচনার হান্নানের প্রসঙ্গের মতো। বাংলাদেশে র্যাপ তুলনামূলকভাবে নতুন হলেও আন্দোলনে এর প্রভাব ও গ্রহণযোগ্যতা ছিল অবিশ্বাস্য। হান্নানের গানের কথাগুলো গ্রাফিতির অনুষঙ্গ হয়েছিল এবং ‘ফ্রি হান্নান’ লেখাটি আন্দোলনের মাঝে আরেকটি আন্দোলনের স্মারক হয়ে আছে।
সুতরাং গান ও র্যাপ উভয়ই আন্দোলনকারীদের সাহস জুগিয়েছে, সংহতি গড়ে তুলেছে এবং গ্রাফিতির মাধ্যমে বার্তাকে সর্বসাধারণের কাছে পৌঁছে দিয়েছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও