পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • জনমত ও রাজনৈতিক সংস্কৃতি
পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন
নবীন রাষ্ট্র 'ক'-তে সংসদ, নির্বাচন ও স্থানীয় সরকারের মতো অংশগ্রহণমূলক কাঠামো আছে। কিন্তু দেশটির অধিকাংশ নাগরিক জানে না সরকারের কাছে তাদের কী দাবি করার আছে বা সরকারি সিদ্ধান্তের ফল তাদের জীবনে কী পড়ে। অন্যদিকে 'খ' রাষ্ট্রের একদল নাগরিক নিজেদের অধিকার ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন এবং সরকারের কাছে সক্রিয়ভাবে দাবি তোলে, আবার একটি বড় অংশ কর্তৃত্ববাদী শাসনকাঠামোর প্রতি নিষ্ক্রিয় ও অধিকার-কর্তব্য সম্পর্কে উদাসীন।
- ক)(1)
'The Man on Horseback' গ্রন্থটি কার রচনা?
- খ)(2)
সংকীর্ণ রাজনৈতিক সংস্কৃতি বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকের 'ক' রাষ্ট্রে কোন ধরনের রাজনৈতিক সংস্কৃতি বিদ্যমান? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের 'ক' ও 'খ' রাষ্ট্রের রাজনৈতিক সংস্কৃতির পার্থক্য বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর 'The Man on Horseback' গ্রন্থটির রচয়িতা রাষ্ট্রবিজ্ঞানী এস. ই. ফাইনার (S. E. Finer)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর যে রাজনৈতিক ব্যবস্থায় রাজনৈতিক বিষয়াদি সম্পর্কে ব্যক্তিবর্গের চেতনা ও আগ্রহ কম থাকে, তাকে সংকীর্ণ রাজনৈতিক সংস্কৃতি বলে। এ ধরনের সংস্কৃতিতে মানুষ রাজনৈতিক ব্যবস্থার কাছে কিছু দাবি করে না বা প্রত্যাশাও রাখে না। সাধারণত সদ্য স্বাধীনতাপ্রাপ্ত বা অনুন্নত দেশে এবং সনাতন সমাজব্যবস্থায় এর অস্তিত্ব দেখা যায়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের 'ক' রাষ্ট্রে সংকীর্ণ অংশগ্রহণমূলক রাজনৈতিক সংস্কৃতি (Parochial-participatory political culture) বিদ্যমান। এ ধরনের সংস্কৃতি অধিকাংশ নবীন রাষ্ট্রে দেখা যায়, যেখানে সংকীর্ণ প্রকৃতির সংস্কৃতি শক্তিশালী থাকলেও কাঠামোর বিন্যাস থাকে অংশগ্রহণমূলক। এখানে জনগণ রাজনৈতিক ব্যবস্থার Input ও Output সম্পর্কে সচেতন থাকে না। উদ্দীপকে দেখা যায়, 'ক' রাষ্ট্রে সংসদ, নির্বাচন ও স্থানীয় সরকারের মতো অংশগ্রহণমূলক কাঠামো রয়েছে, কিন্তু নাগরিকরা সরকারের কাছে কী দাবি করতে পারে (Input) এবং সরকারি সিদ্ধান্তের ফল তাদের জীবনে কী প্রভাব ফেলে (Output) তা তারা জানে না। সুতরাং 'ক' রাষ্ট্রে সংকীর্ণ অংশগ্রহণমূলক রাজনৈতিক সংস্কৃতিই বিদ্যমান।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের 'ক' রাষ্ট্রে সংকীর্ণ অংশগ্রহণমূলক এবং 'খ' রাষ্ট্রে নিষ্ক্রিয়-অংশগ্রহণমূলক রাজনৈতিক সংস্কৃতি বিদ্যমান। দুটির মধ্যে প্রধান পার্থক্যগুলো নিচে বিশ্লেষণ করা হলো: ১. রাজনৈতিক সচেতনতা: 'ক' রাষ্ট্রে জনগণ Input ও Output কোনোটি সম্পর্কেই সচেতন নয়, ফলে তাদের সচেতন করা বড় সমস্যা। কিন্তু 'খ' রাষ্ট্রের জনগোষ্ঠীর একটি বৃহৎ অংশ সরকারের কাছে দাবিনামা উত্থাপন (Input) এবং নিজেদের অধিকার ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন। ২. জনগণের মনোভাব: 'ক' রাষ্ট্রের মানুষের মধ্যে রাজনীতি নিয়ে আগ্রহ ও চেতনার সামগ্রিক ঘাটতি আছে। 'খ' রাষ্ট্রে সচেতন অংশের পাশাপাশি আরেকটি অংশ কর্তৃত্ববাদী সরকারকাঠামোর প্রতি নিষ্ক্রিয় প্রবণতা দেখায়। ৩. মিশ্রণের প্রকৃতি: 'ক' রাষ্ট্রে সংকীর্ণ সংস্কৃতি প্রবল হলেও কাঠামো অংশগ্রহণমূলক; আর 'খ' রাষ্ট্রে নিষ্ক্রিয়তা ও অংশগ্রহণ উভয়ের সংমিশ্রণ রয়েছে। ৪. অবস্থান: 'ক'-এর মতো সংস্কৃতি অধিকাংশ নবীন রাষ্ট্রে দেখা যায়, আর 'খ'-এর সংস্কৃতিতে জনগণের একটি বড় অংশ সক্রিয় হওয়ায় তা তুলনামূলক বিকশিত। সুতরাং বলা যায়, 'খ' রাষ্ট্রের জনগণের রাজনৈতিক সচেতনতার মাত্রা তুলনামূলক বেশি হলেও দুই রাষ্ট্রেই পূর্ণাঙ্গ উন্নত রাজনৈতিক সংস্কৃতি এখনও গড়ে ওঠেনি।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও