জীববিজ্ঞান • জীবের প্রজনন (Reproduction)
জীববিজ্ঞান প্রশ্ন
নবম শ্রেণির ছাত্রী নাফিসা স্কুলের বাগানে দুটি গাছের ফুল পর্যবেক্ষণ করল। জবা ফুলে সে বৃত্তি, দলমণ্ডল, পুংস্তবক ও স্ত্রীস্তবক সবগুলোই দেখতে পেল এবং লক্ষ করল এর পুংকেশরের দণ্ডগুলো একত্রে একটি গুচ্ছ তৈরি করেছে। অন্যদিকে পাশের লাউ গাছে সে দেখল কিছু ফুলে শুধু পুংকেশর আছে, আবার কিছু ফুলে শুধু গর্ভাশয় আছে।
- ক)(1)
সম্পূর্ণ ফুল কাকে বলে?
- খ)(2)
লাউ ফুলকে অসম্পূর্ণ ফুল বলা হয় কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত জবা ফুলের পুংস্তবকের গঠন ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
পরাগায়নের ক্ষেত্রে লাউ ফুল জবা ফুলের চেয়ে বেশি বাহকনির্ভর — বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর যে ফুলে বৃত্তি, দলমণ্ডল, পুংস্তবক, স্ত্রীস্তবক ও পুষ্পাক্ষ — এই পাঁচটি স্তবকই উপস্থিত থাকে, তাকে সম্পূর্ণ ফুল বলে। যেমন: জবা, ধুতুরা।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর একটি আদর্শ ফুলে পাঁচটি স্তবক থাকে। এর যেকোনো একটি স্তবক অনুপস্থিত থাকলে সেই ফুলকে অসম্পূর্ণ ফুল বলে। লাউ গাছের কোনো ফুলে শুধু পুংস্তবক থাকে, স্ত্রীস্তবক থাকে না, আবার কোনো ফুলে শুধু স্ত্রীস্তবক থাকে, পুংস্তবক থাকে না। অর্থাৎ একটি স্তবক অনুপস্থিত থাকায় লাউ ফুল অসম্পূর্ণ ফুল।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর পুংস্তবক ফুলের তৃতীয় স্তবক ও একটি অত্যাবশ্যকীয় অংশ। এর প্রতিটি অংশকে পুংকেশর বলে। জবা ফুলের পুংস্তবকে একাধিক পুংকেশর থাকে। প্রতিটি পুংকেশরের দুটি অংশ: ১. পুংদণ্ড বা পরাগদণ্ড: পুংকেশরের দণ্ডের মতো অংশ। ২. পরাগধানী বা পরাগথলি: দণ্ডের শীর্ষে অবস্থিত থলির মতো অংশ, যার মধ্যে পরাগরেণু উৎপন্ন হয়। পরাগধানী ও পুংদণ্ডের সংযোগস্থলকে যোজনী বলে। উদ্দীপকে বলা হয়েছে জবার পুংদণ্ডগুলো একত্রে একটি গুচ্ছ গঠন করেছে। পুংদণ্ড এক গুচ্ছে থাকলে তাকে একগুচ্ছ (Monadelphous) পুংস্তবক বলে। সুতরাং জবা ফুলের পুংস্তবক একগুচ্ছ প্রকৃতির।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের জবা ফুল উভলিঙ্গ, কারণ এতে পুংস্তবক ও স্ত্রীস্তবক দুটিই একই ফুলে আছে। অন্যদিকে লাউ ফুল একলিঙ্গ, কারণ এক ফুলে শুধু পুংস্তবক এবং অন্য ফুলে শুধু স্ত্রীস্তবক থাকে। বিশ্লেষণ: ১. জবা ফুলে পরাগধানী ও গর্ভমুণ্ড একই ফুলে থাকায় পরাগরেণু একই ফুলের গর্ভমুণ্ডে পড়তে পারে। অর্থাৎ স্ব-পরাগায়নের সুযোগ থাকে, যেখানে বাহকের উপর নির্ভর করতে হয় না। ২. লাউ ফুলে পুংফুল ও স্ত্রীফুল আলাদা। তাই পুংফুলের পরাগরেণুকে অবশ্যই কোনো মাধ্যম (পতঙ্গ, বায়ু ইত্যাদি) দ্বারা স্ত্রীফুলের গর্ভমুণ্ডে পৌঁছাতে হয়। মাধ্যম ছাড়া পরাগায়ন সম্ভব নয়। ৩. বাহকনির্ভর বলে লাউ ফুলে পরাগায়নের নিশ্চয়তা কম এবং পরাগরেণুর অপচয় বেশি হয়। এ কারণে লাউ ফুল সাধারণত বড়, রঙিন ও পতঙ্গ-আকর্ষণকারী হয়। অতএব, বিশ্লেষণ থেকে বলা যায়, পরাগায়নের জন্য লাউ ফুল জবা ফুলের চেয়ে অধিক বাহকনির্ভর।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও